ভেজা মাটিতেও ধানচারা নেতিয়ে পড়ল কেন?
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাসে সাতক্ষীরার একটি ধানখেতে সাগরের লোনা পানি ঢুকে পড়ল। মাটি ভেজা, তবু দুদিন পরে চারাগুলো নেতিয়ে পড়েছে, যেন পানি পাচ্ছে না। মাটিতে এত পানি থাকতে গাছ পানি পাবে না কেন?
মাটির পানি মূলরোমের কোষরসের চেয়ে বেশি লোনা হলে পানির কী হবে?
- অভিস্রবণে পানি মূল থেকে বেরিয়ে লোনা মাটিতে চলে যায়, কোষ চুপসে যায়
- লবণ পুষ্টি, তাই পানি আরও দ্রুত ঢোকে
- মাটিতে পানি থাকলেই মূল পানি টেনে নেয়, লবণে কিছু যায় আসে না
- লবণ মূলে ঢুকে গাছের পানি বাড়ায়
যা বদলাতে পারবে
- মাটির পানিতে লবণ: ০ থেকে ৩৫ g/L
- মাটিতে বাতাস: ঝুরঝুরে, বাতাস আছে, জলাবদ্ধ, বাতাস নেই
যা মেপে দেখাবে
- মূলে পানি ঢোকে (mL/h)
- পানির দিক
- মূলরোম কোষ
- পাতা
- খনিজ শোষণ (%)
চালানোর সময় খেয়াল করো
- লবণ ধাপে ধাপে বাড়াও। কোন মানে পানির দিক উল্টে যায়?
- জলাবদ্ধ মাটি বেছে খনিজ শোষণ দেখো।
নিজে করে দেখো
- সবচেয়ে বেশি লোনা যে পানিতেও পানি মূলে ঢোকে, সেটি খুঁজে বের করো।
ইঙ্গিত
কোষরসে লবণের সমান মাত্রা ৮ g/L।
- দেখাও যে পানি ঢুকলেও খনিজ শোষণ এক-পঞ্চমাংশে নামতে পারে।
ইঙ্গিত
সক্রিয় শোষণে শ্বসনের শক্তি লাগে।
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
পানি ও খনিজ লবণের শোষণ: অভিস্রবণ ও সক্রিয় শোষণ
মূলরোম মাটির কণার ফাঁকের পানির সংস্পর্শে থাকে। মূলরোম কোষের রসে নানা দ্রব থাকে, তাই সাধারণ মাটির পানির চেয়ে তা ঘন। অর্ধভেদ্য পর্দা পেরিয়ে পানি কম ঘন দ্রবণ থেকে বেশি ঘন দ্রবণের দিকে যায়; একে অভিস্রবণ বলে। তাই সাধারণ মাটিতে পানি মূলে ঢোকে, কোষ রসস্ফীত থাকে। মাটির পানি কোষরসের চেয়ে বেশি লোনা হলে উল্টো ঘটে: পানি কোষ থেকে বেরিয়ে যায়, প্রোটোপ্লাজম কোষপ্রাচীর থেকে সরে আসে (প্লাজমোলাইসিস) আর গাছ নেতিয়ে পড়ে। খনিজ লবণের আয়ন অনেক সময় মাটির চেয়ে মূলে বেশি থাকে, তবু মূল শক্তি খরচ করে তা টেনে নেয় (সক্রিয় শোষণ); এই শক্তি আসে শ্বসন থেকে, যার জন্য মাটিতে অক্সিজেন লাগে। জলাবদ্ধ মাটিতে বাতাস থাকে না, তাই খনিজ শোষণ কমে যায়।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
মাটিতে পানি থাকলেই হবে না, পানি কোন দিকে যাবে তা ঠিক করে দুই পাশের দ্রবণের ঘনত্ব। লোনা পানি কোষরসের চেয়ে ঘন হলে পানি উল্টো দিকে, মূল থেকে বাইরে যায়।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- লবণ গাছের খাবার, বেশি দিলে ভালো
- মাটি ভেজা থাকলে গাছ সবসময় পানি পায়
- লবণ মূলে পানি টেনে আনে
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- উপকূলের লবণাক্ত জমির জন্য ব্রি ধান ৬৭-এর মতো লবণসহিষ্ণু জাত তৈরি করা হয়েছে।