পড়ার নোট
প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গ দিয়ে পানি বাষ্পাকারে বাইরে বের হওয়ার শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। উদ্ভিদ মূল দিয়ে যে পানি গ্রহণ করে, তার অল্প অংশ বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে। অবশিষ্ট পানির অনেকটাই প্রস্বেদনে বের হয়। এখানে পানি তরল ফোঁটা হিসেবে নয়, প্রথমে বাষ্প হিসেবে উদ্ভিদ ছাড়ে।
পানি বের হওয়ার পথ অনুসারে প্রস্বেদন তিন ধরনের। পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন পত্ররন্ধ্র দিয়ে ঘটে এবং মোট প্রস্বেদনের প্রায় ৯০–৯৫ শতাংশ এর মাধ্যমে হয়। পত্ররন্ধ্র হলো দুটি রক্ষীকোষবেষ্টিত ক্ষুদ্র ছিদ্র। পাতার পাশাপাশি কচি কাণ্ড, ফুলের বৃতি ও পাপড়িতেও পত্ররন্ধ্র থাকতে পারে। তাই প্রস্বেদনকে শুধু পাতার নিচের পৃষ্ঠের ঘটনা ভাবা ঠিক নয়।
কিউটিকুলার প্রস্বেদন কিউটিকল দিয়ে ঘটে। কিউটিকল হলো উদ্ভিদের বহিঃত্বকের ওপর, বিশেষত পাতার পৃষ্ঠে থাকা কিউটিনের স্তর। এই স্তর দিয়েও কিছু পানি বাষ্প হয়ে বাইরে যায়, যদিও পত্ররন্ধ্রই প্রধান পথ।
লেন্টিকুলার প্রস্বেদন লেন্টিসেল দিয়ে ঘটে। গৌণ বৃদ্ধির ফলে কিছু উদ্ভিদের বাকল ফেটে যে শিথিলভাবে সাজানো কোষযুক্ত ছিদ্র তৈরি হয়, তাকে লেন্টিসেল বলে। কোষগুলোর ফাঁক দিয়ে ভেতরের জলীয়বাষ্প বাইরে বের হতে পারে।
পত্ররন্ধ্রের রক্ষীকোষ ছিদ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। আলোতে সাধারণত পত্ররন্ধ্র খোলে, ফলে পানি বের হওয়ার সুযোগ বাড়ে। অন্ধকারে বা পানির ঘাটতিতে রন্ধ্র বন্ধ হলে এই পথে পানির ক্ষয় কমে। তবে পত্ররন্ধ্র বন্ধ মানেই অন্য সব পথেও প্রস্বেদন সম্পূর্ণ বন্ধ—এমন নয়।
প্রস্বেদনের ফলে জাইলেমে পানি ওঠার টান সৃষ্টি হয় এবং বাষ্পীভবনে পাতা ঠান্ডা থাকে। এই টান পানি সরবরাহে সাহায্য করলেও অতিরিক্ত পানি হারালে কোষের স্ফীতি কমে গাছ নেতিয়ে পড়ে। তাই পানি হারানো এবং মূল দিয়ে তা পূরণ হওয়ার সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।
বাড়ির টবের সতেজ গাছের কিছু পাতাসহ একটি শাখা স্বচ্ছ সেলোফেন ব্যাগে ঢেকে মুখ বেঁধে রাখো। ব্যাগের মধ্যে মাটি বা বাইরের পানি যেন না ঢোকে। প্রায় এক ঘণ্টা পরে ভেতরে পানির ফোঁটা দেখা যেতে পারে। পাতার ছাড়া বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এই ফোঁটা তৈরি করে।
সাধারণ ভুল হলো ব্যাগের ফোঁটা দেখে বলা, পাতাই সরাসরি তরল পানি ছেড়েছে। এখানে প্রস্বেদনে বের হয় বাষ্প; ফোঁটা তৈরি হয় পরে।
মনে রাখো: প্রস্বেদনে বায়বীয় অঙ্গ থেকে পানি বাষ্প হয়ে বের হয়, প্রধানত পত্ররন্ধ্র দিয়ে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।