offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৬ · টপিক ১১

প্রস্বেদন

পড়ার নোট

প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গ দিয়ে পানি বাষ্পাকারে বাইরে বের হওয়ার শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। উদ্ভিদ মূল দিয়ে যে পানি গ্রহণ করে, তার অল্প অংশ বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে। অবশিষ্ট পানির অনেকটাই প্রস্বেদনে বের হয়। এখানে পানি তরল ফোঁটা হিসেবে নয়, প্রথমে বাষ্প হিসেবে উদ্ভিদ ছাড়ে।

পানি বের হওয়ার পথ অনুসারে প্রস্বেদন তিন ধরনের। পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন পত্ররন্ধ্র দিয়ে ঘটে এবং মোট প্রস্বেদনের প্রায় ৯০–৯৫ শতাংশ এর মাধ্যমে হয়। পত্ররন্ধ্র হলো দুটি রক্ষীকোষবেষ্টিত ক্ষুদ্র ছিদ্র। পাতার পাশাপাশি কচি কাণ্ড, ফুলের বৃতি ও পাপড়িতেও পত্ররন্ধ্র থাকতে পারে। তাই প্রস্বেদনকে শুধু পাতার নিচের পৃষ্ঠের ঘটনা ভাবা ঠিক নয়।

কিউটিকুলার প্রস্বেদন কিউটিকল দিয়ে ঘটে। কিউটিকল হলো উদ্ভিদের বহিঃত্বকের ওপর, বিশেষত পাতার পৃষ্ঠে থাকা কিউটিনের স্তর। এই স্তর দিয়েও কিছু পানি বাষ্প হয়ে বাইরে যায়, যদিও পত্ররন্ধ্রই প্রধান পথ।

লেন্টিকুলার প্রস্বেদন লেন্টিসেল দিয়ে ঘটে। গৌণ বৃদ্ধির ফলে কিছু উদ্ভিদের বাকল ফেটে যে শিথিলভাবে সাজানো কোষযুক্ত ছিদ্র তৈরি হয়, তাকে লেন্টিসেল বলে। কোষগুলোর ফাঁক দিয়ে ভেতরের জলীয়বাষ্প বাইরে বের হতে পারে।

পত্ররন্ধ্রের রক্ষীকোষ ছিদ্র খোলা ও বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। আলোতে সাধারণত পত্ররন্ধ্র খোলে, ফলে পানি বের হওয়ার সুযোগ বাড়ে। অন্ধকারে বা পানির ঘাটতিতে রন্ধ্র বন্ধ হলে এই পথে পানির ক্ষয় কমে। তবে পত্ররন্ধ্র বন্ধ মানেই অন্য সব পথেও প্রস্বেদন সম্পূর্ণ বন্ধ—এমন নয়।

প্রস্বেদনের ফলে জাইলেমে পানি ওঠার টান সৃষ্টি হয় এবং বাষ্পীভবনে পাতা ঠান্ডা থাকে। এই টান পানি সরবরাহে সাহায্য করলেও অতিরিক্ত পানি হারালে কোষের স্ফীতি কমে গাছ নেতিয়ে পড়ে। তাই পানি হারানো এবং মূল দিয়ে তা পূরণ হওয়ার সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।

বাড়ির টবের সতেজ গাছের কিছু পাতাসহ একটি শাখা স্বচ্ছ সেলোফেন ব্যাগে ঢেকে মুখ বেঁধে রাখো। ব্যাগের মধ্যে মাটি বা বাইরের পানি যেন না ঢোকে। প্রায় এক ঘণ্টা পরে ভেতরে পানির ফোঁটা দেখা যেতে পারে। পাতার ছাড়া বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এই ফোঁটা তৈরি করে।

সাধারণ ভুল হলো ব্যাগের ফোঁটা দেখে বলা, পাতাই সরাসরি তরল পানি ছেড়েছে। এখানে প্রস্বেদনে বের হয় বাষ্প; ফোঁটা তৈরি হয় পরে।

মনে রাখো: প্রস্বেদনে বায়বীয় অঙ্গ থেকে পানি বাষ্প হয়ে বের হয়, প্রধানত পত্ররন্ধ্র দিয়ে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • দুপুরে লাউয়ের পাতা নেতিয়ে পড়ে কেন?চালিয়ে দেখো

    বৈশাখের গরম, বাতাসভরা দুপুরে মাচার লাউগাছের পাতাগুলো নেতিয়ে পড়ে, অথচ সন্ধ্যায় আবার সতেজ হয়ে ওঠে। রাজু ভাবল, গাছ শুধু মূল দিয়ে পানি নেয়, পাতা দিয়ে তো পানি হারায় না। পাতা থেকে কি পানি বেরিয়ে যায়, আর কোন অবস্থায় সবচেয়ে বেশি?

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. দিনাজপুরের একটি কৃষি গবেষণা খামারে গ্রীষ্মের প্রখর রোদে একটি প্রাপ্তবয়স্ক ভুট্টা গাছ (Zea mays) মাটি থেকে মূলরোমের সাহায্যে দিনে মোট ৫০০ mL পানি শোষণ করে। পাঠ্যপুস্তক অনুসারে উদ্ভিদ শোষিত পানির শতকরা প্রায় ৯৯ ভাগই প্রস্বেদনের (transpiration) মাধ্যমে বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে নির্গত করে এবং মাত্র ১ ভাগ পানি জৈবিক ও বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে। ওই ভুট্টা গাছটি একদিনে প্রস্বেদনের মাধ্যমে কত মিলিলিটার (mL) পানি বাতাসে বের করে দেবে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৪৯৫ mL

    1. গাছটির মোট শোষিত পানির পরিমাণ V = ৫০০ mL এবং প্রস্বেদনে নির্গত পানির শতকরা হার = ৯৯%।
    Vtotal=500 mL,Rate=99%V_{\text{total}} = 500\text{ mL},\quad \text{Rate} = 99\%
    1. প্রস্বেদনের মাধ্যমে নির্গত পানির আয়তন = শোষিত পানির আয়তন × ৯৯% = ৫০০ mL × (৯৯ ÷ ১০০) = ৪৯৫ mL।
    Vtranspired=500 mL×0.99=495 mLV_{\text{transpired}} = 500\text{ mL} \times 0.99 = 495\text{ mL}
  2. বিজ্ঞানী কার্টিস উদ্ভিদের প্রস্বেদনকে 'অতিপ্রয়োজনীয় অমঙ্গল' (A necessary evil) হিসেবে অভিহিত করেছেন কেন? সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    প্রস্বেদনের ফলে সৃষ্ট টান উদ্ভিদের মূলরোম থেকে পাতায় পানি ও খনিজ লবণ পরিবহণ নিশ্চিত করে, কোষের রসস্ফীতি বজায় রাখে এবং পাতাকে শীতল রাখে বলে এটি উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য বা অতিপ্রয়োজনীয়। তবে মাটি থেকে পানি শোষণের চেয়ে প্রস্বেদনে পানি হারানোর হার বেশি হলে কোষগুলো রসস্ফীতি হারিয়ে গাছ ঢলে পড়ে এবং তীব্র পানিশূন্যতায় উদ্ভিদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ যা উদ্ভিদের জীবনের জন্য অপরিহার্য, তার অতিরিক্ত মাত্রাই আবার ধ্বংস ডেকে আনে বলেই বিজ্ঞানী কার্টিস প্রস্বেদনকে 'অতিপ্রয়োজনীয় অমঙ্গল' বলেছেন।

    1. প্রস্বেদনের প্রয়োজনীয় দিক: প্রস্বেদন টান (transpiration pull) পানি ও খনিজ লবণ শোষণ ও পরিবহণ অব্যাহত রাখে, সালোকসংশ্লেষণে পানির জোগান দেয় এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পাতার তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখে।
    2. প্রস্বেদনের ক্ষতিকর দিক: খরার সময় বা মাটিতে পানির অভাব হলে অতিরিক্ত প্রস্বেদনের কারণে উদ্ভিদে মারাত্মক পানিশূন্যতা ঘটে, যার ফলে গাছ নুয়ে পড়ে (wilting) এবং অবশেষ মৃত্যু হতে পারে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো