পড়ার নোট
মূলের শোষিত পানি ও খনিজ লবণ কাণ্ড, শাখা এবং পাতায় পৌঁছানোর প্রধান পথ হলো জাইলেম। এর ভেসেলগুলো দীর্ঘ নালির মতো পথ তৈরি করে। পরিণত ভেসেলের পরিবাহী কোষ মৃত ও ফাঁপা হওয়ায় ভেতর দিয়ে পানি চলতে পারে। জাইলেমকে শুধু কাঠের তৈরি একটি নল ভাবলে এর টিস্যুগত গঠন বোঝা যায় না।
মূল থেকে পানি ও দ্রবীভূত খনিজের ওপরের দিকে ওঠাকে রসের ঊর্ধ্বগমন বলে। প্রধান প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী হলেও পাশের টিস্যুতে পানির চলাচলও ঘটে। বিষয়টি দুটি ধাপে বোঝা যায়: প্রথমে মাটি থেকে মূলের পরিবহণ টিস্যুতে পৌঁছানো, তারপর সেই টিস্যু থেকে কাণ্ড হয়ে পাতায় যাওয়া।
প্রথম ধাপে পানি মূলরোমে প্রবেশ করে। এরপর কর্টেক্সের কোষগুলো অতিক্রম করে অন্তঃত্বক ও পরিচক্র হয়ে জাইলেমে পৌঁছায়। এই পথে কোষ থেকে কোষে অভিস্রবণের ভূমিকা থাকে। খনিজ লবণ আয়ন হিসেবে শোষিত হয়; পানি ও খনিজের শোষণকে সম্পূর্ণ একই প্রক্রিয়া বলা ঠিক নয়।
দ্বিতীয় ধাপে জাইলেম ভেসেল দিয়ে পানি কাণ্ড ও শাখা অতিক্রম করে পাতার মেসোফিল টিস্যুতে পৌঁছায়। পাতায় পানি হারালে পাশের কোষ থেকে পানি আসে। এভাবে নিচের দিক থেকে পানি সরবরাহের একটি ধারাবাহিকতা তৈরি হয়।
পানি ওঠাতে কয়েকটি বিষয় সহায়তা করে। প্রস্বেদনের টান হলো পাতায় পানি বাষ্প হয়ে বের হওয়ার ফলে সৃষ্ট পানি টানার প্রভাব। মূলজ চাপ মূল থেকে পানি ওপরের দিকে ঠেলে দিতে সাহায্য করে। কৈশিক ক্রিয়া সরু নালিতে পানি ওঠার সঙ্গে সম্পর্কিত। পানির অণুগুলোর পারস্পরিক আকর্ষণ ধারাবাহিক পানিস্তম্ভ বজায় রাখতে সহায়ক।
বাংলাদেশের একটি উঁচু নারকেলগাছ ভাবো। মূলের নেওয়া পানি প্রথমে মূলের জাইলেমে আসে, তারপর কাণ্ড দিয়ে উঠে পাতায় পৌঁছায়। পাতার প্রস্বেদন এই প্রবাহে টান দেয়। শুধু গাছ উঁচু বলেই পানি ওঠা বন্ধ হয় না।
রঙিন পানি দিয়ে এই পথ দেখা যায়। পেপেরোমিয়া উদ্ভিদের মূল লাল কালি মেশানো পানিতে ডুবিয়ে কয়েক ঘণ্টা রাখলে কাণ্ডের পরিবাহী পথে রঙের ওঠা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
সাধারণ ভুল হলো জাইলেমে পানি ওঠার জন্য সরাসরি বিপাকীয় শক্তি না লাগায় খনিজ শোষণেও কখনো শক্তি লাগে না বলা। সক্রিয় খনিজ শোষণে বিপাকীয় শক্তি লাগে; শোষণ ও ঊর্ধ্বপরিবহণ আলাদা ঘটনা।
মনে রাখো: পানি মূলের ভেতর দিয়ে জাইলেমে পৌঁছে, তারপর প্রধানত প্রস্বেদনের টানের সহায়তায় পাতায় ওঠে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।