offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৬ · টপিক ১২

প্রস্বেদনের ধারণা ও তাৎপর্য

পড়ার নোট

প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া। মূল দিয়ে শোষিত পানির একটি অংশ উদ্ভিদের কাজে লাগে, আর একটি অংশ এভাবে পরিবেশে ফিরে যায়। এটি প্রধানত পাতার মাধ্যমে ঘটে, তবে কাণ্ডের মাধ্যমেও পানি বের হতে পারে।

পানি বের হওয়ার পথ অনুসারে প্রস্বেদন তিন ধরনের। পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন পাতার পত্ররন্ধ্র দিয়ে ঘটে এবং এটিই প্রধান পথ। কিউটিকুলার প্রস্বেদন পাতার বহিঃত্বকের উপর থাকা কিউটিনের আবরণ বা কিউটিকল দিয়ে ঘটে। লেন্টিকুলার প্রস্বেদন কাষ্ঠল কাণ্ডের বাকলে থাকা ছোট ছিদ্র বা লেন্টিসেল দিয়ে ঘটে।

পাতার মেসোফিল কোষ থেকে পানি হারালে সেখানে ব্যাপন চাপ ঘাটতি সৃষ্টি হয়। ফলে পাশের কোষ থেকে পানি আসে। এভাবে পানির চাহিদা জাইলেম পর্যন্ত পৌঁছে একটি টান সৃষ্টি করে। এই প্রস্বেদন টান মূলের শোষিত পানি ও দ্রবীভূত খনিজ লবণকে কাণ্ড বেয়ে পাতায় উঠতে সাহায্য করে। তাই প্রস্বেদন কমে গেলে পানি শোষণ ও পরিবহণও কমতে পারে; এতে খাদ্য তৈরি এবং অন্যান্য বিপাকীয় কাজ ধীর হয়।

পানি বাষ্পে পরিণত হওয়ার সময় তাপ গ্রহণ করে। ফলে পাতার অতিরিক্ত তাপ কমে এবং কোষের তাপমাত্রা উপযুক্ত সীমায় থাকে। পানি শোষণ ও ক্ষয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকলে কোষের স্ফীতি বজায় থাকে। খোলা পত্ররন্ধ্র দিয়ে সালোকসংশ্লেষণের জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইডও প্রবেশ করতে পারে।

বাংলাদেশে টবে লাগানো মরিচগাছের একটি পাতাযুক্ত শাখা শুকনা স্বচ্ছ ব্যাগে ঢেকে মুখ বেঁধে রাখলে কিছুক্ষণ পরে ভেতরে পানির ফোঁটা দেখা যায়। পাতা থেকে নির্গত জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে এসব ফোঁটা তৈরি করে। মাটি বা বাইরের পানি যেন ব্যাগে না ঢোকে, তা নিশ্চিত করতে হয়।

তবে শোষণের চেয়ে পানি হারানোর হার বেশি হলে গাছ নেতিয়ে পড়ে, এমনকি মারা যেতে পারে। শুষ্ক সময়ে অনেক গাছের পাতা ঝরা পানি ক্ষয় কমায়। উপকার ও ক্ষতি দুটিই থাকায় প্রস্বেদনকে অতিপ্রয়োজনীয় অমঙ্গল বলা হয়। সাধারণ ভুল হলো, বেশি প্রস্বেদন মানেই বেশি উপকার মনে করা; উপকার নির্ভর করে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের উপর।

মনে রাখো: প্রস্বেদন পানি পরিবহণ ও শীতলীকরণে সহায়ক, কিন্তু শোষণের চেয়ে বেশি পানি ক্ষয় উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • দুপুরে লাউয়ের পাতা নেতিয়ে পড়ে কেন?চালিয়ে দেখো

    বৈশাখের গরম, বাতাসভরা দুপুরে মাচার লাউগাছের পাতাগুলো নেতিয়ে পড়ে, অথচ সন্ধ্যায় আবার সতেজ হয়ে ওঠে। রাজু ভাবল, গাছ শুধু মূল দিয়ে পানি নেয়, পাতা দিয়ে তো পানি হারায় না। পাতা থেকে কি পানি বেরিয়ে যায়, আর কোন অবস্থায় সবচেয়ে বেশি?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. দিনাজপুরের একটি কৃষি গবেষণা খামারে গ্রীষ্মের প্রখর রোদে একটি প্রাপ্তবয়স্ক ভুট্টা গাছ (Zea mays) মাটি থেকে মূলরোমের সাহায্যে দিনে মোট ৫০০ mL পানি শোষণ করে। পাঠ্যপুস্তক অনুসারে উদ্ভিদ শোষিত পানির শতকরা প্রায় ৯৯ ভাগই প্রস্বেদনের (transpiration) মাধ্যমে বাষ্পাকারে বায়ুমণ্ডলে নির্গত করে এবং মাত্র ১ ভাগ পানি জৈবিক ও বিপাকীয় কাজে ব্যবহার করে। ওই ভুট্টা গাছটি একদিনে প্রস্বেদনের মাধ্যমে কত মিলিলিটার (mL) পানি বাতাসে বের করে দেবে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৪৯৫ mL

    1. গাছটির মোট শোষিত পানির পরিমাণ V = ৫০০ mL এবং প্রস্বেদনে নির্গত পানির শতকরা হার = ৯৯%।
    Vtotal=500 mL,Rate=99%V_{\text{total}} = 500\text{ mL},\quad \text{Rate} = 99\%
    1. প্রস্বেদনের মাধ্যমে নির্গত পানির আয়তন = শোষিত পানির আয়তন × ৯৯% = ৫০০ mL × (৯৯ ÷ ১০০) = ৪৯৫ mL।
    Vtranspired=500 mL×0.99=495 mLV_{\text{transpired}} = 500\text{ mL} \times 0.99 = 495\text{ mL}
  2. বিজ্ঞানী কার্টিস উদ্ভিদের প্রস্বেদনকে 'অতিপ্রয়োজনীয় অমঙ্গল' (A necessary evil) হিসেবে অভিহিত করেছেন কেন? সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    প্রস্বেদনের ফলে সৃষ্ট টান উদ্ভিদের মূলরোম থেকে পাতায় পানি ও খনিজ লবণ পরিবহণ নিশ্চিত করে, কোষের রসস্ফীতি বজায় রাখে এবং পাতাকে শীতল রাখে বলে এটি উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য বা অতিপ্রয়োজনীয়। তবে মাটি থেকে পানি শোষণের চেয়ে প্রস্বেদনে পানি হারানোর হার বেশি হলে কোষগুলো রসস্ফীতি হারিয়ে গাছ ঢলে পড়ে এবং তীব্র পানিশূন্যতায় উদ্ভিদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ যা উদ্ভিদের জীবনের জন্য অপরিহার্য, তার অতিরিক্ত মাত্রাই আবার ধ্বংস ডেকে আনে বলেই বিজ্ঞানী কার্টিস প্রস্বেদনকে 'অতিপ্রয়োজনীয় অমঙ্গল' বলেছেন।

    1. প্রস্বেদনের প্রয়োজনীয় দিক: প্রস্বেদন টান (transpiration pull) পানি ও খনিজ লবণ শোষণ ও পরিবহণ অব্যাহত রাখে, সালোকসংশ্লেষণে পানির জোগান দেয় এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পাতার তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখে।
    2. প্রস্বেদনের ক্ষতিকর দিক: খরার সময় বা মাটিতে পানির অভাব হলে অতিরিক্ত প্রস্বেদনের কারণে উদ্ভিদে মারাত্মক পানিশূন্যতা ঘটে, যার ফলে গাছ নুয়ে পড়ে (wilting) এবং অবশেষ মৃত্যু হতে পারে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো