পড়ার নোট
প্রস্বেদন হলো উদ্ভিদের বায়বীয় অংশ থেকে বাষ্পের আকারে পানি বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া। উদ্ভিদের বাইরের যেসব পরিবেশগত অবস্থা এই প্রক্রিয়ার হার বদলায়, সেগুলোকে বাহ্যিক প্রভাবক বলে। তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহ ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা এমন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক। একটি প্রভাবকের ফল বোঝার সময় অন্য অবস্থাগুলো একই আছে বলে ধরা হয়।
- তাপমাত্রা: তাপমাত্রা বাড়লে পাতার পানি সহজে বাষ্পে পরিণত হয়। একই সঙ্গে বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা বাড়ে। ফলে পাতা থেকে বাষ্প বের হওয়ার অনুকূল অবস্থা তৈরি হয় এবং প্রস্বেদনের হার বাড়ে। তাপমাত্রা কমলে বাষ্পীভবন ধীর হয়, তাই প্রস্বেদনও কমে।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা: নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ও সেই তাপমাত্রায় বায়ুর সর্বোচ্চ জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতার অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে। এটি কম হলে বায়ু আরও জলীয়বাষ্প গ্রহণ করতে পারে, তাই প্রস্বেদন বেশি হয়। এটি বেশি হলে বায়ুতে অতিরিক্ত বাষ্প গ্রহণের সুযোগ কমে এবং প্রস্বেদন ধীর হয়। শুধু বাষ্পের পরিমাণ জানলেই বায়ু কতটা আর্দ্র তা বোঝা যায় না; তাপমাত্রাও বিবেচনা করতে হয়।
- বায়ুপ্রবাহ: প্রস্বেদনের ফলে পাতার চারপাশের বায়ু ধীরে ধীরে আর্দ্র হয়। বায়ু স্থির থাকলে এই আর্দ্র স্তর প্রস্বেদন কমায়। বাতাস প্রবাহিত হলে স্তরটি সরে যায় এবং তুলনামূলক শুষ্ক বায়ু সেখানে আসে। ফলে পাতা থেকে আবার সহজে বাষ্প বের হয়। বায়ুমণ্ডলীয় চাপ বাড়লে বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদন কমে; চাপ কমলে বাড়ে।
রাজশাহীতে গরম, শুষ্ক ও বাতাসযুক্ত দিনে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া একটি গাছের কথা ভাবো। বেশি তাপমাত্রা বাষ্পীভবন বাড়ায়, কম আর্দ্রতা বাষ্প গ্রহণে সহায়তা করে এবং বাতাস পাতার পাশের আর্দ্র বায়ু সরায়। বিপরীতে, স্যাঁতসেঁতে ও বাতাসহীন পরিবেশে প্রস্বেদন তুলনামূলক কম হয়।
মনে রাখো: অন্য অবস্থা একই থাকলে বেশি তাপমাত্রা, কম আপেক্ষিক আর্দ্রতা ও বায়ুপ্রবাহ প্রস্বেদন বাড়ায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।