offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৬ · টপিক ১৪

মানবদেহে সংবহন

পড়ার নোট

মানবদেহে সংবহন হলো রক্ত ও লসিকার সাহায্যে প্রয়োজনীয় পদার্থ দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো এবং বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা। বহুকোষী দেহের সব কোষ বাইরের পরিবেশের সরাসরি সংস্পর্শে থাকে না। তাই ফুসফুসে গৃহীত অক্সিজেন বা অন্ত্রে শোষিত খাদ্য দূরের কোষে পৌঁছানোর জন্য একটি পরিবহণব্যবস্থা দরকার।

মানুষের সংবহনব্যবস্থার দুটি অংশ রয়েছে। রক্ত সংবহনতন্ত্র হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা ও কৈশিক জালিকা নিয়ে গঠিত; এর মধ্য দিয়ে রক্ত চলাচল করে। লসিকাতন্ত্র লসিকা ও লসিকানালি নিয়ে গঠিত এবং দেহের প্রতিরক্ষাতেও ভূমিকা রাখে। উভয় অংশ মিলেই দেহের অভ্যন্তরীণ পরিবহণে অংশ নেয়।

মানুষের রক্তসংবহন বদ্ধ সংবহন: স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত হৃৎপিণ্ড ও রক্তবাহিকার মধ্যেই প্রবাহিত হয়। হৃৎপিণ্ড পাম্পের মতো চাপ সৃষ্টি করে। ধমনি রক্তকে হৃৎপিণ্ড থেকে দূরে নিয়ে যায়, শিরা ফিরিয়ে আনে এবং কৈশিক জালিকা এদের সংযোগ দেয়। কৈশিক নালির পাতলা প্রাচীর দিয়ে রক্ত ও কোষের মধ্যে পদার্থের বিনিময় ঘটে।

এই ব্যবস্থায় রক্ত সরাসরি বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছায় এবং দ্রুত হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে। প্রায় এক মিনিট বা তারও কম সময়ে রক্ত সারা দেহ ঘুরতে পারে। রক্তবাহিকার ব্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো অঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত সরবরাহও পরিবর্তিত হতে পারে।

পরিবহণের প্রধান কাজগুলো হলো:

  • ফুসফুস থেকে অক্সিজেন এবং অন্ত্র থেকে পরিপাককৃত খাদ্য কোষে পৌঁছানো।
  • কোষের কার্বন ডাই-অক্সাইড ফুসফুসে এবং ইউরিয়ার মতো বর্জ্য বৃক্কে নিয়ে যাওয়া।
  • অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির হরমোন সংশ্লিষ্ট অঙ্গে পৌঁছানো এবং উৎপন্ন তাপ দেহে ছড়িয়ে দেওয়া।

রক্তের একটি পথ হৃৎপিণ্ড থেকে ফুসফুস হয়ে ফিরে আসে; অন্যটি হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের অঙ্গগুলো ঘুরে আসে। হৃৎপিণ্ডের পৃথক প্রকোষ্ঠ অক্সিজেনসমৃদ্ধ ও অক্সিজেনস্বল্প রক্তকে আলাদা রাখে।

যেমন, ভাত খাওয়ার পর পরিপাকে উৎপন্ন গ্লুকোজ অন্ত্র থেকে রক্তে মেশে। স্কুলে হাঁটার সময় পায়ের পেশিতে এই গ্লুকোজ ও অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে সংবহনব্যবস্থা। সাধারণ ভুল হলো, রক্ত শুধু অক্সিজেন বহন করে মনে করা; খাদ্য, হরমোন, তাপ ও বর্জ্য পরিবহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখো: সংবহনব্যবস্থা কোষে প্রয়োজনীয় পদার্থ পৌঁছায় এবং সেখান থেকে বর্জ্য অপসারণের পথে নিয়ে যায়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • ধমনিতে কোলেস্টেরল ও রক্তপ্রবাহচালিয়ে দেখো

    একজন সুস্থ ব্যক্তির স্বাভাবিক রক্তচাপ ১০০ mmHg এবং তার পায়ের ধমনির রক্তপ্রবাহ ১৬ mL/s। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমার কারণে পায়ের ধমনির কার্যকর ব্যাসার্ধ অর্ধেক (৫০%) হয়ে গেলে, রক্তচাপ একই থাকলে রক্তপ্রবাহ কমে কত হবে?

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. চট্টগ্রামের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করা হলো। পাঠ্যপুস্তক অনুসারে মানবদেহের মোট রক্তের প্রায় ৫৫% হলো রক্তরস (plasma) এবং বাকি ৪৫% রক্তকণিকা (blood corpuscles)। ওই ব্যক্তির দেহে মোট ৫.০ L রক্ত বিদ্যমান থাকলে, তার রক্তে রক্তরসের (plasma) পরিমাণ কত লিটার (L)?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ২.৭৫ L

    1. মোট রক্তের পরিমাণ V = ৫.০ L এবং মোট রক্তে রক্তরসের (plasma) আনুপাতিক হার = ৫৫%।
    Vblood=5.0 L,Plasma=55%V_{\text{blood}} = 5.0\text{ L},\quad \text{Plasma} = 55\%
    1. রক্তরসের আয়তন = মোট রক্তের আয়তন × ৫৫% = ৫.০ L × ০.৫৫ = ২.৭৫ L।
    Vplasma=5.0 L×0.55=2.75 LV_{\text{plasma}} = 5.0\text{ L} \times 0.55 = 2.75\text{ L}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো