পড়ার নোট
রক্ত সঞ্চালন হলো হৃৎপিণ্ড ও রক্তবাহিকার মধ্য দিয়ে রক্তের অবিরাম চলাচল। এই প্রবাহ কোষে অক্সিজেন, পরিপাককৃত খাদ্য ও হরমোন পৌঁছায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের অঙ্গে নিয়ে যায়। মানুষের স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ হৃৎপিণ্ড ও নালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তাই এটি বদ্ধ সংবহন।
সামগ্রিক সংবহনব্যবস্থায় রক্তসংবহনের পাশাপাশি লসিকাতন্ত্রও রয়েছে। রক্তসংবহনের চালিকাশক্তি হৃৎপিণ্ডের পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণ। সিস্টোল হলো সংকোচন এবং ডায়াস্টোল হলো প্রসারণ। একটি সম্পূর্ণ সংকোচন-প্রসারণে একটি হৃৎস্পন্দন ঘটে। রক্ত প্রায় এক মিনিট বা তারও কম সময়ে দেহ ঘুরে আসতে পারে।
রক্তের সম্পূর্ণ পথটি ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করো:
- দেহের কোষে অক্সিজেন সরবরাহের পর কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত ঊর্ধ্ব ও নিম্ন মহাশিরা দিয়ে ডান অলিন্দে আসে।
- ডান অলিন্দ সংকুচিত হলে ট্রাইকাসপিড কপাটিকার মধ্য দিয়ে রক্ত ডান নিলয়ে যায়।
- ডান নিলয় সংকুচিত হলে রক্ত ফুসফুসীয় ধমনি দিয়ে ফুসফুসে পৌঁছায়। সেখানে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ে এবং অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- ফুসফুসীয় শিরা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত বাম অলিন্দে আনে। বাম অলিন্দ থেকে বাইকাসপিড কপাটিকা দিয়ে তা বাম নিলয়ে যায়।
- বাম নিলয় সংকুচিত হলে রক্ত মহাধমনি দিয়ে বেরিয়ে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়। কৈশিক জালিকায় পদার্থ বিনিময়ের পর শিরা দিয়ে আবার ফিরে আসে।
হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ফুসফুসে গিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ করে হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে এবং হৃৎপিণ্ড থেকে সারা দেহে পরিবাহিত হয়ে পুনরায় হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে। এই দুই পথ মিলিয়ে পূর্ণ সঞ্চালনে রক্ত হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে দুবার যায়। পৃথক প্রকোষ্ঠ অক্সিজেনসমৃদ্ধ ও অক্সিজেনস্বল্প রক্তের মিশ্রণ ঠেকায়।
কপাটিকা রক্তের উল্টো প্রবাহ রোধ করে। নিলয় সংকোচনের সময় অলিন্দ-নিলয়ের কপাটিকা বন্ধ হয়। পরে নিলয় প্রসারিত হলে সেমিলুনার কপাটিকা ধমনি থেকে রক্ত ফেরত আসতে বাধা দেয়। কৈশিক নালির পাতলা প্রাচীর বিনিময় সহজ করে।
যেমন, স্কুলের মাঠে দৌড়ানোর সময় পেশিতে অক্সিজেন পৌঁছানো এবং সেখানকার কার্বন ডাই-অক্সাইড ফুসফুসে ফেরানো এই পথেই চলে। সাধারণ ভুল হলো, নিলয় প্রসারিত হলে ধমনিতে রক্ত বের হয় মনে করা; রক্ত বের হয় নিলয়ের সংকোচনে।
মনে রাখো: ডান নিলয় রক্ত ফুসফুসে এবং বাম নিলয় রক্ত দেহের অন্য অংশে পাঠায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।