offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৬ · টপিক ১৮

রক্ত সঞ্চালন

পড়ার নোট

রক্ত সঞ্চালন হলো হৃৎপিণ্ড ও রক্তবাহিকার মধ্য দিয়ে রক্তের অবিরাম চলাচল। এই প্রবাহ কোষে অক্সিজেন, পরিপাককৃত খাদ্য ও হরমোন পৌঁছায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের অঙ্গে নিয়ে যায়। মানুষের স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ হৃৎপিণ্ড ও নালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তাই এটি বদ্ধ সংবহন।

সামগ্রিক সংবহনব্যবস্থায় রক্তসংবহনের পাশাপাশি লসিকাতন্ত্রও রয়েছে। রক্তসংবহনের চালিকাশক্তি হৃৎপিণ্ডের পর্যায়ক্রমিক সংকোচন ও প্রসারণ। সিস্টোল হলো সংকোচন এবং ডায়াস্টোল হলো প্রসারণ। একটি সম্পূর্ণ সংকোচন-প্রসারণে একটি হৃৎস্পন্দন ঘটে। রক্ত প্রায় এক মিনিট বা তারও কম সময়ে দেহ ঘুরে আসতে পারে।

রক্তের সম্পূর্ণ পথটি ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করো:

  • দেহের কোষে অক্সিজেন সরবরাহের পর কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত ঊর্ধ্ব ও নিম্ন মহাশিরা দিয়ে ডান অলিন্দে আসে।
  • ডান অলিন্দ সংকুচিত হলে ট্রাইকাসপিড কপাটিকার মধ্য দিয়ে রক্ত ডান নিলয়ে যায়।
  • ডান নিলয় সংকুচিত হলে রক্ত ফুসফুসীয় ধমনি দিয়ে ফুসফুসে পৌঁছায়। সেখানে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ে এবং অক্সিজেন গ্রহণ করে।
  • ফুসফুসীয় শিরা অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত বাম অলিন্দে আনে। বাম অলিন্দ থেকে বাইকাসপিড কপাটিকা দিয়ে তা বাম নিলয়ে যায়।
  • বাম নিলয় সংকুচিত হলে রক্ত মহাধমনি দিয়ে বেরিয়ে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়। কৈশিক জালিকায় পদার্থ বিনিময়ের পর শিরা দিয়ে আবার ফিরে আসে।

হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ফুসফুসে গিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ করে হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে এবং হৃৎপিণ্ড থেকে সারা দেহে পরিবাহিত হয়ে পুনরায় হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে। এই দুই পথ মিলিয়ে পূর্ণ সঞ্চালনে রক্ত হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে দুবার যায়। পৃথক প্রকোষ্ঠ অক্সিজেনসমৃদ্ধ ও অক্সিজেনস্বল্প রক্তের মিশ্রণ ঠেকায়।

কপাটিকা রক্তের উল্টো প্রবাহ রোধ করে। নিলয় সংকোচনের সময় অলিন্দ-নিলয়ের কপাটিকা বন্ধ হয়। পরে নিলয় প্রসারিত হলে সেমিলুনার কপাটিকা ধমনি থেকে রক্ত ফেরত আসতে বাধা দেয়। কৈশিক নালির পাতলা প্রাচীর বিনিময় সহজ করে।

যেমন, স্কুলের মাঠে দৌড়ানোর সময় পেশিতে অক্সিজেন পৌঁছানো এবং সেখানকার কার্বন ডাই-অক্সাইড ফুসফুসে ফেরানো এই পথেই চলে। সাধারণ ভুল হলো, নিলয় প্রসারিত হলে ধমনিতে রক্ত বের হয় মনে করা; রক্ত বের হয় নিলয়ের সংকোচনে।

মনে রাখো: ডান নিলয় রক্ত ফুসফুসে এবং বাম নিলয় রক্ত দেহের অন্য অংশে পাঠায়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • ধমনিতে কোলেস্টেরল ও রক্তপ্রবাহচালিয়ে দেখো

    একজন সুস্থ ব্যক্তির স্বাভাবিক রক্তচাপ ১০০ mmHg এবং তার পায়ের ধমনির রক্তপ্রবাহ ১৬ mL/s। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমার কারণে পায়ের ধমনির কার্যকর ব্যাসার্ধ অর্ধেক (৫০%) হয়ে গেলে, রক্তচাপ একই থাকলে রক্তপ্রবাহ কমে কত হবে?

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. মানব হৃৎপিণ্ডের নিলয়দ্বয়ের মধ্যে বাম নিলয়ের (left ventricle) প্রাচীর ডান নিলয় (right ventricle) অপেক্ষা প্রায় তিনগুণ বেশি পুরু ও পেশিবহুল হওয়ার প্রধান শারীরবৃত্তীয় কারণ কোনটি?

    1. ক

      সার্বদেহিক সংবহনের দূরবর্তী শাখাগুলোতে উচ্চ চাপে মহাধমনির মাধ্যমে রক্ত পাম্প করার জন্য

    2. খ

      ফুসফুসে দ্রুত গ্যাসীয় বিনিময় সম্পন্ন করতে উচ্চ চাপে ফুসফুসীয় ধমনিতে রক্ত পাঠানোর জন্য

    3. গ

      বাম নিলয়ে অক্সিজেনবিহীন ঘন রক্ত অবস্থান করায় তা নির্গমনে অধিক বল প্রয়োগের জন্য

    4. ঘ

      বাম অলিন্দ থেকে আসা অতিরিক্ত আয়তনের রক্ত ধারণ করার সুবিধার্থে

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) সার্বদেহিক সংবহনের দূরবর্তী শাখাগুলোতে উচ্চ চাপে মহাধমনির মাধ্যমে রক্ত পাম্প করার জন্য

    1. ডান নিলয় কেবল নিকটবর্তী ফুসফুসে রক্ত পাম্প করে (ফুসফুসীয় সংবহন), যার রক্তনালির দৈর্ঘ্য কম ও রোধ কম হওয়ায় স্বল্প সংকোচন চাপেই রক্ত চলাচল সম্ভব।
    2. বিপরীতে, বাম নিলয়কে মহাধমনির (aorta) মাধ্যমে সারা দেহের মাথা থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত দূরবর্তী অঙ্গে রক্ত পাঠাতে হয় (সার্বদেহিক সংবহন)। এই দীর্ঘ পথ ও উচ্চ রোধ অতিক্রম করতে বাম নিলয়ে শক্তিশালী সংকোচন বলের প্রয়োজন হয়, যার কারণে এর প্রাচীর ডান নিলয়ের চেয়ে প্রায় তিনগুণ পুরু ও পেশিবহুল।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো