offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৬ · টপিক ১৭

রক্ত দান এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা

পড়ার নোট

রক্তদান হলো রোগীর প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত সুস্থ ব্যক্তির স্বেচ্ছায় রক্ত দেওয়া। সামাজিক দায়বদ্ধতা হলো অন্যের বিপদে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করার দায়িত্ব। পরিচিত বা অপরিচিত মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্তদান এই দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

দুর্ঘটনা, গুরুতর আঘাত, অস্ত্রোপচার, প্রসবকালীন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে রোগীর রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। লিউকেমিয়ার মতো রক্তের রোগেও রক্ত বা রক্তের উপাদান প্রয়োজন হতে পারে। রোগীকে দেওয়ার রক্ত সাধারণভাবে কারখানায় তৈরি করা যায় না; মানুষের দান করা রক্তই এর উৎস। সরাসরি দাতার কাছ থেকে বা ব্লাড ব্যাংক থেকে উপযুক্ত রক্ত সংগ্রহ করা হয়।

একজন প্রাপ্তবয়স্কের দেহে সাধারণভাবে প্রায় ৫–৬ লিটার রক্ত থাকে। উপযুক্ত দাতার কাছ থেকে প্রায় ৩৫০–৪৫০ মিলিলিটার রক্ত সংগ্রহ করা হতে পারে; পরিমাণটি দাতার উপযুক্ততা ও সংগ্রহকেন্দ্রের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। দেহ নতুন রক্তকণিকা তৈরি করে ক্ষয় পূরণ করে। সুস্থ ও উপযুক্ত ব্যক্তি সাধারণভাবে চার মাস অন্তর রক্ত দিতে পারেন; প্রত্যেকবার স্বাস্থ্য যাচাই জরুরি।

নিরাপদ রক্তদানের প্রধান ধাপগুলো হলো:

  • দাতার স্বাস্থ্য ও রক্তদানের উপযুক্ততা পরীক্ষা করা।
  • দাতা ও গ্রহীতার ABO এবং Rh গ্রুপ নির্ণয় করে সামঞ্জস্য দেখা।
  • ক্রস-ম্যাচিং করে রক্তে ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা পরীক্ষা করা।
  • এইডস, হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি-এর মতো মারাত্মক রোগের উপস্থিতি পরীক্ষা করা।
  • প্রশিক্ষিত কর্মীর মাধ্যমে নিরাপদ ব্যবস্থায় রক্ত সংগ্রহ ও ব্যবহার করা।

শুধু A গ্রুপ মিললেই সব পরীক্ষা শেষ হয় না। একইভাবে O-কে সর্বজনীন দাতা বা AB-কে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হলেও বাস্তবে Rh ও অন্যান্য সামঞ্জস্য পরীক্ষা বাদ দেওয়া যায় না।

যেমন, বাংলাদেশের কোনো হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জন্য রক্ত দরকার হলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উপযুক্ত দাতার সঙ্গে যোগাযোগ করাতে পারে। কলেজ বা হাসপাতালের রক্তদান কর্মসূচি দাতাদের অংশগ্রহণ বাড়ায়। শিক্ষার্থীরাও সচেতনতা ছড়িয়ে এবং যোগ্য দাতাকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারে।

সাধারণ ভুল হলো, রক্ত দিলে স্থায়ী দুর্বলতা হয় বলে ধরে নেওয়া। উপযুক্ত দাতার নিয়ম মেনে রক্তদানের ক্ষয় দেহ পূরণ করে; তবে সবাই সব সময় রক্তদানের উপযুক্ত নয়।

মনে রাখো: স্বেচ্ছায় রক্তদান জীবন বাঁচায়, আর স্বাস্থ্য ও সামঞ্জস্য পরীক্ষা সেই সাহায্যকে নিরাপদ করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহত একজন রোগীর রক্তের গ্রুপ 'O নেগেটিভ' (O−O^-)। জরুরি প্রয়োজনে রক্ত জমাট বাঁধা (agglutination) এড়াতে এই রোগীকে নিচের কোন গ্রুপের রক্ত নিরাপদে প্রদান করা যাবে?

    1. ক

      শুধুমাত্র OO নেগেটিভ (O−O^-)

    2. খ

      যেকোনো OO গ্রুপের রক্ত (O+O^+ বা O−O^-)

    3. গ

      যেকোনো নেগেটিভ রক্ত (A−A^-, B−B^-, AB−AB^- বা O−O^-)

    4. ঘ

      ABAB নেগেটিভ (AB−AB^-)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) শুধুমাত্র OO নেগেটিভ (O−O^-)

    1. OO গ্রুপের লোহিত রক্তকণিকায় কোনো A বা B অ্যান্টিজেন থাকে না, কিন্তু রক্তরসে অ্যান্টি-A ও অ্যান্টি-B উভয় অ্যান্টিবডি (অ্যাগ্লুটিনিন a ও b) থাকে। ফলে OO গ্রুপের ব্যক্তি অন্য কোনো গ্রুপ (AA, BB, ABAB) থেকে রক্ত নিতে পারে না।
    2. Rh নেগেটিভ (Rh−Rh^-) ব্যক্তির রক্তে Rh অ্যান্টিজেন (D) থাকে না। তাকে Rh পজিটিভ (Rh+Rh^+) রক্ত দিলে গ্রহীতার রক্তে অ্যান্টি-Rh অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়ে মারাত্মক রক্তকণিকা জমাট বাঁধা (agglutination) ঘটাবে। তাই O−O^- ব্যক্তি শুধুমাত্র O−O^- রক্তই নিরাপদে গ্রহণ করতে পারে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো