পড়ার নোট
রক্তদান হলো রোগীর প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত সুস্থ ব্যক্তির স্বেচ্ছায় রক্ত দেওয়া। সামাজিক দায়বদ্ধতা হলো অন্যের বিপদে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করার দায়িত্ব। পরিচিত বা অপরিচিত মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্তদান এই দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
দুর্ঘটনা, গুরুতর আঘাত, অস্ত্রোপচার, প্রসবকালীন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে রোগীর রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। লিউকেমিয়ার মতো রক্তের রোগেও রক্ত বা রক্তের উপাদান প্রয়োজন হতে পারে। রোগীকে দেওয়ার রক্ত সাধারণভাবে কারখানায় তৈরি করা যায় না; মানুষের দান করা রক্তই এর উৎস। সরাসরি দাতার কাছ থেকে বা ব্লাড ব্যাংক থেকে উপযুক্ত রক্ত সংগ্রহ করা হয়।
একজন প্রাপ্তবয়স্কের দেহে সাধারণভাবে প্রায় ৫–৬ লিটার রক্ত থাকে। উপযুক্ত দাতার কাছ থেকে প্রায় ৩৫০–৪৫০ মিলিলিটার রক্ত সংগ্রহ করা হতে পারে; পরিমাণটি দাতার উপযুক্ততা ও সংগ্রহকেন্দ্রের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। দেহ নতুন রক্তকণিকা তৈরি করে ক্ষয় পূরণ করে। সুস্থ ও উপযুক্ত ব্যক্তি সাধারণভাবে চার মাস অন্তর রক্ত দিতে পারেন; প্রত্যেকবার স্বাস্থ্য যাচাই জরুরি।
নিরাপদ রক্তদানের প্রধান ধাপগুলো হলো:
- দাতার স্বাস্থ্য ও রক্তদানের উপযুক্ততা পরীক্ষা করা।
- দাতা ও গ্রহীতার ABO এবং Rh গ্রুপ নির্ণয় করে সামঞ্জস্য দেখা।
- ক্রস-ম্যাচিং করে রক্তে ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা পরীক্ষা করা।
- এইডস, হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি-এর মতো মারাত্মক রোগের উপস্থিতি পরীক্ষা করা।
- প্রশিক্ষিত কর্মীর মাধ্যমে নিরাপদ ব্যবস্থায় রক্ত সংগ্রহ ও ব্যবহার করা।
শুধু A গ্রুপ মিললেই সব পরীক্ষা শেষ হয় না। একইভাবে O-কে সর্বজনীন দাতা বা AB-কে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হলেও বাস্তবে Rh ও অন্যান্য সামঞ্জস্য পরীক্ষা বাদ দেওয়া যায় না।
যেমন, বাংলাদেশের কোনো হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জন্য রক্ত দরকার হলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উপযুক্ত দাতার সঙ্গে যোগাযোগ করাতে পারে। কলেজ বা হাসপাতালের রক্তদান কর্মসূচি দাতাদের অংশগ্রহণ বাড়ায়। শিক্ষার্থীরাও সচেতনতা ছড়িয়ে এবং যোগ্য দাতাকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারে।
সাধারণ ভুল হলো, রক্ত দিলে স্থায়ী দুর্বলতা হয় বলে ধরে নেওয়া। উপযুক্ত দাতার নিয়ম মেনে রক্তদানের ক্ষয় দেহ পূরণ করে; তবে সবাই সব সময় রক্তদানের উপযুক্ত নয়।
মনে রাখো: স্বেচ্ছায় রক্তদান জীবন বাঁচায়, আর স্বাস্থ্য ও সামঞ্জস্য পরীক্ষা সেই সাহায্যকে নিরাপদ করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।