ধমনি কী?
যে রক্তনালি হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশে নিয়ে যায়, তাকে ধমনি বলে। হৃৎপিণ্ড প্রতিবার সংকুচিত হলে রক্ত জোরে ধমনিতে ঢোকে, তাই ধমনির প্রাচীর পুরু ও স্থিতিস্থাপক হতে হয়। কবজির কাছে আঙুল রাখলে যে নাড়িস্পন্দন টের পাও, তা ধমনিতে রক্তের এই ঢেউয়েরই ফল।
শিরা কী?
যে রক্তনালি দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে, তাকে শিরা বলে। শিরায় রক্তের চাপ কম, তাই পায়ের মতো নিচের অংশ থেকে রক্ত ওপরে ওঠার সময় যাতে পিছনে নেমে না যায়, সেজন্য শিরার ভেতরে কপাটিকা থাকে।
দুটি ব্যতিক্রম মনে রাখো
- ফুসফুসীয় ধমনি হৃৎপিণ্ড থেকে ফুসফুসে কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত নিয়ে যায়।
- ফুসফুসীয় শিরা ফুসফুস থেকে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত আনে।
তাই ধমনি আর শিরা চেনার আসল নিয়ম অক্সিজেন নয়, রক্তের দিক: হৃৎপিণ্ড থেকে দূরে গেলে ধমনি, হৃৎপিণ্ডের দিকে এলে শিরা।
দুটির মাঝে
ধমনি আর শিরার মাঝখানে থাকে সূক্ষ্ম কৈশিক জালিকা। এখানেই রক্ত আর দেহকোষের মধ্যে অক্সিজেন, পুষ্টি ও বর্জ্যের আদান-প্রদান হয়।
সাধারণ ভুল
- "শিরায় সবসময় দূষিত রক্ত থাকে" লেখা। ফুসফুসীয় শিরায় অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত থাকে।
- কপাটিকা ধমনিতে আছে বলা। কপাটিকা থাকে শিরায়।