offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · জীবে পরিবহণ

ধমনি ও শিরার পার্থক্য (ছকসহ)

সর্বশেষ হালনাগাদ ২১ অক্টোবর ২০২৬

সংক্ষেপে

ধমনি হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশে নিয়ে যায়; এর প্রাচীর পুরু ও স্থিতিস্থাপক, কপাটিকা নেই, আর এতে নাড়িস্পন্দন অনুভব করা যায়। শিরা দেহ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে; এর প্রাচীর পাতলা, আর ভেতরে কপাটিকা থাকে যা রক্তকে পিছনে যেতে দেয় না। ফুসফুসীয় ধমনি ও শিরা ছাড়া ধমনিতে অক্সিজেনসমৃদ্ধ আর শিরায় কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত থাকে।

ধমনি ও শিরা: পার্থক্যের ছক
তুলনার বিষয়ধমনিশিরা
রক্ত প্রবাহের দিক

হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে

দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে হৃৎপিণ্ডে

রক্তের ধরন

অক্সিজেনসমৃদ্ধ (ব্যতিক্রম: ফুসফুসীয় ধমনি)

কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ (ব্যতিক্রম: ফুসফুসীয় শিরা)

প্রাচীর

পুরু, পেশিবহুল ও স্থিতিস্থাপক

পাতলা ও কম স্থিতিস্থাপক

কপাটিকা

নেই

আছে; রক্তকে পিছনে ফিরে যেতে দেয় না

নালির গহ্বর

সরু

চওড়া

রক্তের চাপ ও প্রবাহ

চাপ বেশি; হৃৎপিণ্ডের সংকোচনে তরঙ্গের মতো প্রবাহ, তাই নাড়িস্পন্দন বোঝা যায়

চাপ কম; প্রবাহ ধীর ও সমান, নাড়িস্পন্দন বোঝা যায় না

ধমনি কী?

যে রক্তনালি হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশে নিয়ে যায়, তাকে ধমনি বলে। হৃৎপিণ্ড প্রতিবার সংকুচিত হলে রক্ত জোরে ধমনিতে ঢোকে, তাই ধমনির প্রাচীর পুরু ও স্থিতিস্থাপক হতে হয়। কবজির কাছে আঙুল রাখলে যে নাড়িস্পন্দন টের পাও, তা ধমনিতে রক্তের এই ঢেউয়েরই ফল।

শিরা কী?

যে রক্তনালি দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে, তাকে শিরা বলে। শিরায় রক্তের চাপ কম, তাই পায়ের মতো নিচের অংশ থেকে রক্ত ওপরে ওঠার সময় যাতে পিছনে নেমে না যায়, সেজন্য শিরার ভেতরে কপাটিকা থাকে।

দুটি ব্যতিক্রম মনে রাখো

  • ফুসফুসীয় ধমনি হৃৎপিণ্ড থেকে ফুসফুসে কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত নিয়ে যায়।
  • ফুসফুসীয় শিরা ফুসফুস থেকে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত আনে।

তাই ধমনি আর শিরা চেনার আসল নিয়ম অক্সিজেন নয়, রক্তের দিক: হৃৎপিণ্ড থেকে দূরে গেলে ধমনি, হৃৎপিণ্ডের দিকে এলে শিরা।

দুটির মাঝে

ধমনি আর শিরার মাঝখানে থাকে সূক্ষ্ম কৈশিক জালিকা। এখানেই রক্ত আর দেহকোষের মধ্যে অক্সিজেন, পুষ্টি ও বর্জ্যের আদান-প্রদান হয়।

সাধারণ ভুল

  • "শিরায় সবসময় দূষিত রক্ত থাকে" লেখা। ফুসফুসীয় শিরায় অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত থাকে।
  • কপাটিকা ধমনিতে আছে বলা। কপাটিকা থাকে শিরায়।

পরীক্ষায় যেভাবে লিখবে

"ধমনি ও শিরার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো" খুব পরিচিত প্রশ্ন। দিক আর কপাটিকা দিয়ে শুরু করো, কারণ এ দুটিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য:

ধমনিশিরা
১. হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত দেহে নিয়ে যায়।১. দেহ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে আনে।
২. কপাটিকা নেই।২. কপাটিকা আছে।
৩. প্রাচীর পুরু ও স্থিতিস্থাপক।৩. প্রাচীর পাতলা।

অক্সিজেনের পার্থক্য লিখলে ফুসফুসীয় ধমনি ও শিরার ব্যতিক্রমের কথাও লেখো, নইলে নম্বর কাটা যেতে পারে।

নিজে চালিয়ে দেখো

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. মানবদেহের শিরা বা ভেইনের (vein) বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে—

    i. রক্ত সংবহনের জন্য এদের উৎপত্তি সাধারণত হৃৎপিণ্ড থেকে ঘটে

    ii. রক্তপ্রবাহের একমুখী গতি নিশ্চিত করতে এদের গহ্বরে কপাটিকা থাকে

    iii. পালমোনারি শিরা ব্যতিক্রম হিসেবে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত বহন করে

    নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও ii

    2. খ

      i ও iii

    3. গ

      ii ও iii

    4. ঘ

      i, ii ও iii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) ii ও iii

    1. শিরার উৎপত্তি কৈশিক জালিকা থেকে ঘটে এবং এগুলো রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে, পক্ষান্তরে ধমনির উৎপত্তি ঘটে হৃৎপিণ্ড থেকে; ফলে বিবৃতি i ভুল।
    2. শিরার অভ্যন্তরে কপাটিকা রক্তপ্রবাহ একমুখী রাখে এবং ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত বহনকারী পালমোনারি শিরা সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম, তাই ii ও iii সঠিক।
  2. মানব হৃৎপিণ্ডের নিলয়দ্বয়ের মধ্যে বাম নিলয়ের (left ventricle) প্রাচীর ডান নিলয় (right ventricle) অপেক্ষা প্রায় তিনগুণ বেশি পুরু ও পেশিবহুল হওয়ার প্রধান শারীরবৃত্তীয় কারণ কোনটি?

    1. ক

      সার্বদেহিক সংবহনের দূরবর্তী শাখাগুলোতে উচ্চ চাপে মহাধমনির মাধ্যমে রক্ত পাম্প করার জন্য

    2. খ

      ফুসফুসে দ্রুত গ্যাসীয় বিনিময় সম্পন্ন করতে উচ্চ চাপে ফুসফুসীয় ধমনিতে রক্ত পাঠানোর জন্য

    3. গ

      বাম নিলয়ে অক্সিজেনবিহীন ঘন রক্ত অবস্থান করায় তা নির্গমনে অধিক বল প্রয়োগের জন্য

    4. ঘ

      বাম অলিন্দ থেকে আসা অতিরিক্ত আয়তনের রক্ত ধারণ করার সুবিধার্থে

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) সার্বদেহিক সংবহনের দূরবর্তী শাখাগুলোতে উচ্চ চাপে মহাধমনির মাধ্যমে রক্ত পাম্প করার জন্য

    1. ডান নিলয় কেবল নিকটবর্তী ফুসফুসে রক্ত পাম্প করে (ফুসফুসীয় সংবহন), যার রক্তনালির দৈর্ঘ্য কম ও রোধ কম হওয়ায় স্বল্প সংকোচন চাপেই রক্ত চলাচল সম্ভব।
    2. বিপরীতে, বাম নিলয়কে মহাধমনির (aorta) মাধ্যমে সারা দেহের মাথা থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত দূরবর্তী অঙ্গে রক্ত পাঠাতে হয় (সার্বদেহিক সংবহন)। এই দীর্ঘ পথ ও উচ্চ রোধ অতিক্রম করতে বাম নিলয়ে শক্তিশালী সংকোচন বলের প্রয়োজন হয়, যার কারণে এর প্রাচীর ডান নিলয়ের চেয়ে প্রায় তিনগুণ পুরু ও পেশিবহুল।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ধমনি ও শিরার প্রধান পার্থক্য কী?

ধমনি হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত দেহে নিয়ে যায়, শিরা দেহ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে। শিরায় কপাটিকা থাকে, ধমনিতে থাকে না।

কোন শিরায় অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত থাকে?

ফুসফুসীয় শিরা, যা ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিণ্ডে আনে।

শিরায় কপাটিকা থাকে কেন?

শিরায় রক্তের চাপ কম, তাই কপাটিকা রক্তকে পিছনে ফিরে যেতে না দিয়ে হৃৎপিণ্ডের দিকে চলতে সাহায্য করে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো