লোহিত রক্তকণিকা
রক্তের তিন ধরনের কণিকার মধ্যে লোহিত রক্তকণিকা সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি; প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে প্রায় ৫০ লাখ, যা শ্বেত রক্তকণিকার প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ গুণ। এর ভেতরে লৌহঘটিত রঞ্জক হিমোগ্লোবিন থাকে, যা অক্সিজেনের সঙ্গে মিলে অক্সিহিমোগ্লোবিন হয় আর ফুসফুস থেকে দেহের কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। রক্ত লাল দেখায় এই হিমোগ্লোবিনের জন্যই। লোহিত রক্তকণিকা যথেষ্ট না থাকলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
শ্বেত রক্তকণিকা
শ্বেত রক্তকণিকা দেহের প্রহরী। এগুলো বর্ণহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত, আর অ্যামিবার মতো আকার বদলে রক্তনালির বাইরেও যেতে পারে। জীবাণু দেহে ঢুকলে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়; এরা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ঘিরে ধ্বংস করে, আর কিছু শ্বেত রক্তকণিকা অ্যান্টিবডি তৈরি করে। ক্ষতস্থানে যে পুঁজ জমে, তা মূলত মৃত শ্বেত রক্তকণিকা।
মিল কোথায়
- দুটিই রক্তকণিকা, রক্তের প্লাজমায় ভেসে থাকে।
- দুটিই অস্থিমজ্জায় তৈরি হয়।
- দুটিই দেহকে সুস্থ রাখে: একটি অক্সিজেন দিয়ে, অন্যটি জীবাণু ঠেকিয়ে।
সাধারণ ভুল
- শ্বেত রক্তকণিকাকে "সাদা রঙের" লেখা। এগুলো আসলে বর্ণহীন।
- রক্ত জমাট বাঁধার কাজ শ্বেত রক্তকণিকার বলা। রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে তৃতীয় কণিকা, অণুচক্রিকা।