পড়ার নোট
এককোষী প্রোটোজোয়া একটিমাত্র কোষে পরিপাক, বৃদ্ধি, জননসহ সব কাজ করে। কিন্তু বহুকোষী জীবে ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কোষ, টিস্যু ও অঙ্গ থাকে। মানবদেহে কয়েক ধরনের কোষের ভূমিকা:
- স্নায়ুকোষ: সারা দেহে ছড়িয়ে একটি জালিকা গঠন করে। এরা উদ্দীপনা গ্রহণ করে মস্তিষ্কে পাঠায় এবং মস্তিষ্ক থেকে নির্দেশ নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছে দেয়। চোখ ও কানের স্নায়ুকোষ দেখা ও শোনায় সাহায্য করে। মানুষের মতো বিভিন্ন ধরনের স্নায়ুকোষ না থাকায় বেশির ভাগ প্রাণী বস্তুর সঠিক রং আলাদা করতে পারে না; অনেক প্রাণী শুধু দিনে বা শুধু রাতে দেখতে পারে।
- পেশিকোষ: লেখা, হাঁটা ও নড়াচড়াসহ সব ধরনের কাজে পেশিকোষ সংকুচিত ও প্রসারিত হয়।
- রক্তকোষ: তিন ধরনের রক্তকোষ তিন রকম কাজ করে। লোহিত রক্তকণিকা ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে ধমনি ও কৈশিক নালির মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায়। শ্বেত রক্তকণিকা রোগ প্রতিরোধ করে। অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া শুরু করে, ফলে ক্ষত থেকে রক্তপাত বন্ধ হয়।
- ত্বকের কোষ: দেহকে ঢেকে রাখার পাশাপাশি অবস্থান অনুযায়ী নানা কাজ করে; যেমন মাথার ত্বকের কোষ থেকে চুল গজায়, আর ঘর্মগ্রন্থি থেকে ঘাম নিঃসৃত হয়।
- অস্থিকোষ: খনিজ পদার্থ বা তরুণাস্থি জমিয়ে অস্থি গঠন করে, যা দেহের কাঠামো তৈরি করে ও দেহকে ভার বহনে সাহায্য করে।
প্রতিটি কোষের গঠন তার কাজের উপযোগী, আর বিভিন্ন কোষ একসাথে কাজ করলেই দেহ সুষ্ঠুভাবে চলে।
উদাহরণ: খেলতে গিয়ে হাঁটু ছিলে রক্ত বের হলো। কোন কোন কোষ কাজ করবে?
- ত্বকের স্নায়ুকোষ ব্যথার উদ্দীপনা মস্তিষ্কে পাঠাবে, তাই তুমি ব্যথা টের পাবে।
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধা শুরু করে রক্তপাত থামাবে।
- শ্বেত রক্তকণিকা ক্ষত দিয়ে ঢোকা জীবাণু ধ্বংস করে রোগ প্রতিরোধ করবে।
- লোহিত রক্তকণিকা ক্ষতের চারপাশের কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেবে।
- পায়ের পেশিকোষ সংকুচিত হয়ে তোমাকে হাঁটিয়ে বাড়ি নিয়ে যাবে।
সাধারণ ভুল হলো তিন ধরনের রক্তকোষের কাজ গুলিয়ে ফেলা: অক্সিজেন বহন করে লোহিত কণিকা, রোগ প্রতিরোধ করে শ্বেত কণিকা, আর রক্ত জমাট বাঁধায় অণুচক্রিকা।
মনে রাখো: মানবদেহে স্নায়ুকোষ উদ্দীপনা বহন করে, পেশিকোষ নড়াচড়া ঘটায়, রক্তকোষ অক্সিজেন বহন করে, রোগ প্রতিরোধ করে ও রক্ত জমাট বাঁধায়, ত্বকের কোষ দেহ ঢেকে রাখে আর অস্থিকোষ দেহের কাঠামো গড়ে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।