তরল রক্ত আর শক্ত অস্থি কি একই ধরনের টিস্যু?
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
জীববিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক বললেন, প্রাণিদেহের টিস্যু চার ধরনের। রাফির যুক্তি, রক্ত তরল আর অস্থি পাথরের মতো শক্ত, কাজেই এরা কখনো একই ধরনের টিস্যু হতে পারে না; রক্ত তো আসলে টিস্যুই নয়। স্লাইডগুলো অণুবীক্ষণে দেখে বলো: রক্ত আর অস্থি কোন ধরনের টিস্যু?
রক্ত আর অস্থি কোন ধরনের টিস্যু?
- দুটোই যোজক টিস্যু: কোষগুলো তাদের তৈরি মাতৃকায় ছড়িয়ে থাকে; রক্তে মাতৃকা তরল রক্তরস, অস্থিতে শক্ত খনিজ
- রক্ত তরল বলে টিস্যু নয়; অস্থি যোজক টিস্যু
- রক্ত পেশি টিস্যু, কারণ হৃৎপিণ্ড রক্ত পাম্প করে; অস্থি আবরণী টিস্যু
- অস্থি জীবিত টিস্যু নয়, শুধু খনিজ পদার্থ
যা বদলাতে পারবে
- স্লাইড: ত্বকের আবরণী টিস্যু, অন্ত্রের ভেতরের আবরণী, গালের ভেতরের কোষ (মিথিলিন ব্লু), রক্তের স্মিয়ার, অস্থির প্রস্থচ্ছেদ, ঐচ্ছিক (কঙ্কাল) পেশি, অনৈচ্ছিক (মসৃণ) পেশি, হৃৎপেশি, স্নায়ুকোষ
- বিবর্ধন: ৪০×, ১০০×, ৪০০×, ১০০০× (তেল নিমজ্জন)
- খুঁজে দেখো: কিছু খুঁজছি না, নিউক্লিয়াস, গবলেট কোষ, লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা, অস্টিওন, অস্থিকোষ, আড়াআড়ি দাগ, ইন্টারক্যালেটেড ডিস্ক, নিউরন, অ্যাক্সন
যা মেপে দেখাবে
- টিস্যুর ধরন
- টিস্যু
- এখন দেখা যাচ্ছে?
- দেখতে অন্তত লাগবে
- দৃষ্টিক্ষেত্রে আড়াআড়ি কোষ
চালানোর সময় খেয়াল করো
- রক্তের স্মিয়ার আর অস্থি দুটোরই 'টিস্যুর ধরন' দেখো। অস্থির প্রতিটি বলয়ে কালো দাগগুলো কী?
- তিন রকম পেশি পাশাপাশি তুলনা করো: কোনটিতে আড়াআড়ি দাগ, কোনটিতে ডিস্ক, কোনটি মাকুর মতো?
নিজে করে দেখো
- যে পেশি দাগযুক্ত অথচ অনৈচ্ছিক, তার বিশেষ জোড় দেখাও।
ইঙ্গিত
হৃৎপেশি, ১০০০× বিবর্ধন।
- মিউকাস ক্ষরণকারী কোষটি খুঁজে বের করো।
ইঙ্গিত
অন্ত্রের আবরণীতে সাদা পেয়ালার মতো কোষ।
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
প্রাণী টিস্যুর চার ধরন: আবরণী, যোজক, পেশি ও স্নায়ু
আবরণী টিস্যু দেহের বাইরের ও ভেতরের তল ঢেকে রাখে: ত্বকের স্তরিত আবরণী রক্ষা করে, গালের ভেতরের আঁইশাকার আবরণী মসৃণ আস্তরণ দেয়, আর অন্ত্রের স্তম্ভাকার আবরণী শোষণ করে ও গবলেট কোষ মিউকাস ক্ষরণ করে। যোজক টিস্যুতে কোষগুলো তাদেরই তৈরি মাতৃকায় ছড়িয়ে থাকে এবং বিভিন্ন অঙ্গকে জুড়ে ও ধরে রাখে: অস্থির মাতৃকা ক্যালসিয়ামে শক্ত, তাতে বলয়ে বলয়ে জীবিত অস্থিকোষ; রক্তের মাতৃকা তরল রক্তরস, তাতে লোহিত ও শ্বেত কণিকা আর অণুচক্রিকা। তাই রক্ত তরল যোজক টিস্যু। পেশি টিস্যু সংকুচিত হয়ে নড়াচড়া ঘটায়: ঐচ্ছিক পেশি আড়াআড়ি দাগযুক্ত, ইচ্ছামতো চলে; মসৃণ পেশি মাকু আকৃতির, অনৈচ্ছিক (অন্ত্র, রক্তনালি); হৃৎপেশি দাগযুক্ত কিন্তু অনৈচ্ছিক, ইন্টারক্যালেটেড ডিস্কে জোড়া। স্নায়ু টিস্যুর নিউরন অ্যাক্সন দিয়ে স্নায়ু তাড়না বহন করে দেহের কাজের সমন্বয় করে।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
টিস্যু চেনা যায় তার কোষ ও মাতৃকার গঠন দেখে, তরল না কঠিন তা দেখে নয়। রক্ত ও অস্থি দুটোতেই কোষ নিজেদের তৈরি মাতৃকায় ছড়িয়ে থাকে, তাই দুটোই যোজক টিস্যু।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- তরল পদার্থ কখনো টিস্যু হতে পারে না
- টিস্যুর ধরন বোঝা যায় সেটি কোন অঙ্গের কাছে আছে তা দিয়ে
- অস্থিতে কোনো জীবিত কোষ নেই
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- ভাঙা হাড় জোড়া লাগে কারণ অস্থিকোষ জীবিত; প্লাস্টার শুধু হাড়কে স্থির রাখে, বাকিটা কোষেরাই করে।
- রক্ত পরীক্ষায় শ্বেত রক্তকণিকা বেশি পাওয়া গেলে সংক্রমণের সন্দেহ করা হয়।