offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ২

১০০০ গুণ বড় করলেও রাইবোসোম দেখা যায় না কেন?

মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।

স্কুলের ল্যাবে মিতু অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পেঁয়াজের খোসার কোষ ইটের মতো সাজানো দেখল, আর গালের কোষ নীল চ্যাপ্টা টুকরোর মতো। বইয়ের ছবিতে প্রতিটি কোষের ভেতরে মাইটোকন্ড্রিয়া, রাইবোসোম আর গলজি বস্তু আঁকা। সে তেল নিমজ্জন লেন্স লাগিয়ে ১০০০ গুণ বড় করে রাইবোসোম খুঁজবে। সে কি রাইবোসোম দেখতে পাবে?

১০০০× বিবর্ধনে মিতু কি রাইবোসোম দেখতে পাবে?

  1. না; রাইবোসোম আলোক অণুবীক্ষণের ক্ষমতার চেয়ে অনেক ছোট, দেখতে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ লাগে
  2. হ্যাঁ, ১০০০ গুণ বড় করলে কোষের সব অঙ্গাণুই দেখা যায়
  3. না, কারণ গালের কোষের মতো প্রাণিকোষে রাইবোসোম থাকে না
  4. শুধু পেঁয়াজের কোষে দেখা যাবে, কারণ উদ্ভিদকোষ বড়

যা বদলাতে পারবে

  • স্লাইড: পেঁয়াজের খোসা (আয়োডিনে রাঙানো), পাতার প্রস্থচ্ছেদ, গালের ভেতরের কোষ (মিথিলিন ব্লু)
  • বিবর্ধন: ৪০×, ১০০×, ৪০০×, ১০০০× (তেল নিমজ্জন), ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র
  • খুঁজে দেখো: কিছু খুঁজছি না, কোষপ্রাচীর, কোষঝিল্লি, নিউক্লিয়াস, কোষগহ্বর, ক্লোরোপ্লাস্ট, মাইটোকন্ড্রিয়া, রাইবোসোম, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা, গলজি বস্তু, লাইসোসোম, সেন্ট্রিওল

যা মেপে দেখাবে

  • এখন দেখা যাচ্ছে?
  • দেখতে অন্তত লাগবে
  • এই নমুনায় আছে?
  • কোষপ্রাচীর আছে?
  • ক্লোরোপ্লাস্ট আছে?
  • দৃষ্টিক্ষেত্রের ব্যাস (µm)
  • আকার (µm)

চালানোর সময় খেয়াল করো

  • নিউক্লিয়াস খুঁজতে বিবর্ধন বাড়াও: কত গুণে প্রথম দেখা যায়? তারপর মাইটোকন্ড্রিয়া আর রাইবোসোম খোঁজো।
  • ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পেঁয়াজ আর গালের কোষ দুটোই দেখো। কোন অঙ্গাণু শুধু একটিতে আছে?

নিজে করে দেখো

  1. যে অঙ্গাণু খাদ্য তৈরি করে, সেটি আলোক অণুবীক্ষণে খুঁজে বের করো।
    ইঙ্গিত

    পাতার প্রস্থচ্ছেদ নাও, ৪০০× বিবর্ধন করো।

  2. যে অঙ্গাণু কেবল প্রাণিকোষে থাকে, সেটি দেখাও।
    ইঙ্গিত

    গালের কোষ, ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ।

ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।

উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের অঙ্গাণু ও তাদের কাজ; আলোক ও ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ

আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র যত বড়ই করুক, প্রায় ০.২ মাইক্রোমিটারের চেয়ে কাছাকাছি দুটি বিন্দুকে আলাদা করতে পারে না। তাই কোষপ্রাচীর ও কোষ ৪০ গুণেই, নিউক্লিয়াস ও ক্লোরোপ্লাস্ট প্রায় ৪০০ গুণে দেখা যায়, আর মাইটোকন্ড্রিয়া ১০০০ গুণে কেবল দানার মতো। রাইবোসোম (প্রায় ০.০২৫ মাইক্রোমিটার), এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা, গলজি বস্তু, লাইসোসোম ও সেন্ট্রিওলের গঠন দেখতে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র লাগে। কাজ: নিউক্লিয়াস কোষের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করে; মাইটোকন্ড্রিয়া শ্বসনে শক্তি দেয়; রাইবোসোম আমিষ তৈরি করে; এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা পদার্থ পরিবহন করে; গলজি বস্তু ক্ষরণ করে; লাইসোসোম হজম করে। উদ্ভিদকোষে কোষপ্রাচীর, ক্লোরোপ্লাস্ট ও বড় কোষগহ্বর থাকে; প্রাণিকোষে এগুলো নেই, তবে সেন্ট্রিওল থাকে। পেঁয়াজের খোসা মাটির নিচে থাকে বলে তাতে ক্লোরোপ্লাস্ট নেই, কিন্তু পাতার কোষে আছে।

অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল

বেশি বিবর্ধন মানেই বেশি দেখা নয়: আলো দিয়ে প্রায় ০.২ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট জিনিস আলাদা করা যায় না। রাইবোসোম তার প্রায় আট ভাগের এক ভাগ, তাই সব কোষেই থাকলেও আলোক অণুবীক্ষণে অদৃশ্য।

যেসব ভুল ধারণা হয়

  • যথেষ্ট বড় করলে আলোক অণুবীক্ষণে কোষের সব অংশ দেখা যায়
  • প্রাণিকোষে রাইবোসোম বা মাইটোকন্ড্রিয়ার মতো অঙ্গাণু থাকে না
  • বড় কোষের অঙ্গাণুও বড়, তাই সহজে দেখা যায়

বাস্তবে কোথায় দেখা যায়

  • হাসপাতালের প্যাথলজি ল্যাবে আলোক অণুবীক্ষণে রক্ত ও টিস্যু পরীক্ষা হয়; ভাইরাস দেখতে গবেষণাগারে ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ লাগে।

পাঠ্যবইয়ের টপিক