offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ২ · টপিক ১৪

অণুবীক্ষণ যন্ত্র

  • সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র
  • যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র
  • ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র

পড়ার নোট

খালি চোখে দেখা যায় না এমন ক্ষুদ্র বস্তু অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখা যায়। স্কুলের যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রে আলোর সাহায্যে দেখা হয়, তাই একে আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র বলে। যে যন্ত্রে আলোর বদলে ইলেকট্রন ব্যবহৃত হয়, সেটি ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র।

সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্র

ভিত্তি বা ফুটের ওপর একটি খাড়া স্ট্যান্ডে কাচের সমতল স্টেজ লাগানো থাকে। স্টেজের দুই পাশে দুটি ক্লিপ স্লাইড ধরে রাখে। স্টেজের নিচে একটি আয়না বাইরের আলো প্রতিফলিত করে ওপরে পাঠায়। একটি লেন্স আর্মের আংটায় বসানো থাকে এবং এডজাস্টমেন্ট স্ক্রু ঘুরিয়ে বস্তুর ওপর ফোকাস করা হয়।

যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র

প্রধান অংশগুলো:

  • স্ট্যান্ড, আর্ম, ফুট ও স্টেজ: কাঠামো; স্টেজে স্লাইড বসে।
  • বডি টিউব: ওপরের নলাকার অংশ; এক প্রান্তে আইপিস, অন্য প্রান্তে অবজেকটিভ।
  • নোজপিস ও অবজেকটিভ: ঘূর্ণনশীল অংশে লো পাওয়ার (10×10\times–12×12\times), হাই পাওয়ার (40×40\times–45×45\times) ও অয়েল ইমারশন (100×100\times) লেন্স থাকে।
  • আইপিস: সাধারণত 10×10\times–12×12\times বিবর্ধন করে।
  • কোর্স নব: স্থূল ফোকাস; ফাইন নব: সূক্ষ্ম ফোকাস।
  • ডায়াফ্রাম ও কনডেন্সার: কতটুকু আলো ঢুকবে তা ঠিক করে।
  • আলোর উৎস: আয়না বা বৈদ্যুতিক বাতি।

ব্যবহারে প্রথমে আলো ঠিক করো, স্লাইড ক্লিপে আটকাও, লো পাওয়ার অবজেকটিভ সামনে আনো, কোর্স নব ও পরে ফাইন নব দিয়ে ফোকাস করো। দুই চোখই খোলা রাখো। কোষ স্পষ্ট দেখতে স্টেইনিং করা হয়, অর্থাৎ রঞ্জক (স্টেইন) দিয়ে রং করা হয়, যেমন পেঁয়াজ কোষে স্যাফ্রানিন।

ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র

আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ৪০০–৭০০ ন্যানোমিটার, তাই আলোক অণুবীক্ষণে ২০০ ন্যানোমিটারের ছোট বস্তু দেখা যায় না। ইলেকট্রনের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অনেক ছোট, আর কাচের লেন্সের জায়গায় শক্তিশালী তড়িৎ চুম্বক ইলেকট্রন স্রোতকে বাঁকায়। তাই কোষের অঙ্গাণু স্পষ্ট দেখা যায়। ছবিটি কম্পিউটারের মনিটরে দেখা হয়।

মনে রাখো: আলোক অণুবীক্ষণ (সরল ও যৌগিক) আলো ব্যবহার করে; ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ ইলেকট্রন তরঙ্গ ব্যবহার করে বলে কোষের অঙ্গাণুও স্পষ্ট দেখায়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • ১০০০ গুণ বড় করলেও রাইবোসোম দেখা যায় না কেন?চালিয়ে দেখো

    স্কুলের ল্যাবে মিতু অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পেঁয়াজের খোসার কোষ ইটের মতো সাজানো দেখল, আর গালের কোষ নীল চ্যাপ্টা টুকরোর মতো। বইয়ের ছবিতে প্রতিটি কোষের ভেতরে মাইটোকন্ড্রিয়া, রাইবোসোম আর গলজি বস্তু আঁকা। সে তেল নিমজ্জন লেন্স লাগিয়ে ১০০০ গুণ বড় করে রাইবোসোম খুঁজবে। সে কি রাইবোসোম দেখতে পাবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. নাবিলার দেখা কোষের মোট বিবর্ধন কত?

    1. ক

      ৪ গুণ

    2. খ

      ৫০ গুণ

    3. গ

      ৪০ গুণ

    4. ঘ

      ৪০০ গুণ

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) ৪০০ গুণ

    1. যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মোট বিবর্ধন অভিনেত্র ও অভিলক্ষ্য লেন্সের বিবর্ধনের গুণফলের সমান।
    2. অতএব, মোট বিবর্ধন ৪০০ গুণ।
    10×40=40010 \times 40 = 400

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো