পড়ার নোট
ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে দেখলে জীবকোষের ভিতরে অনেক ছোট ছোট গঠন দেখা যায়। এগুলোকে বলা হয় অঙ্গানু। এগুলো কোষের বিভিন্ন কাজ করে।
নিউক্লিয়াস বা কোষের কেন্দ্র হলো কোষের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। এখানে ক্রোমোজোম থাকে, যা বংশগতির তথ্য বহন করে। কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমাটিন জালিকা মোটা হয়ে ক্রোমোজোম গঠন করে। প্রতিটি ক্রোমোজোম দুটি ক্রোমাটিড দিয়ে গঠিত, যা কোষ বিভাজনের সময় আলাদা হয়ে নতুন কোষে যায়।
মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের শক্তি কেন্দ্র। এখানে খাদ্য ভাঙা হয়ে শক্তি তৈরি হয় (ATP)। একে বলা হয় কোষের বিদ্যুৎ কেন্দ্র—যেমন রাইস কুকারের প্লাগ থেকে বিদ্যুৎ আসে, তেমনি মাইটোকন্ড্রিয়া থেকে কোষের কাজের জন্য শক্তি আসে।
রাইবোজোম হলো প্রোটিন তৈরির কারখানা। এগুলো সাইটোপ্লাজমে ভাসে বা অ্যান্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের সাথে লাগানো থাকে।
গলজি বস্তু প্রোটিন ও লিপিড প্রক্রিয়া করে পাঠায় যেখানে দরকার। এটি কোষের ডাকঘরের মতো।
লাইসোজোম ভাঙা অংশ বা ভাইরাস ধ্বংস করে। একে বলা হয় কোষের পুলিশ বা ক্লিনার।
প্লাস্টিড শুধু উদ্ভিদ কোষে থাকে। ক্লোরোপ্লাস্ট আলো ধরে খাদ্য তৈরি করে। লিউকোপ্লাস্ট স্টার্চ জমা রাখে। ক্রোমোপ্লাস্ট ফুল বা ফলের রং তৈরি করে।
কোষপ্রাচীর শুধু উদ্ভিদ কোষে থাকে। এটি কোষকে শক্ত করে রাখে এবং আকৃতি দেয়। এটি সেলুলোজ দিয়ে তৈরি।
সেন্ট্রোসোম প্রাণিকোষে থাকে এবং কোষ বিভাজনে স্পিন্ডল তন্তু তৈরি করে।
ভ্যাকুওল উদ্ভিদ কোষে বড় হয় এবং পানি, রস ও বর্জ্য জমা রাখে। প্রাণিকোষে ছোট এবং কম।
মেমব্রেন কোষ ও অঙ্গানুকে ঘিরে থাকে এবং প্রবেশ-নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করে।
সাইটোপ্লাজম কোষের নিউক্লিয়াস ছাড়া বাকি অংশ। এখানে সব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে।
মনে রাখো: কোষের প্রতিটি অঙ্গানু নির্দিষ্ট কাজ করে—যেমন নিউক্লিয়াস নিয়ন্ত্রণ করে, মাইটোকন্ড্রিয়া শক্তি দেয়, আর রাইবোজোম প্রোটিন তৈরি করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।