offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ২ · টপিক ১

উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের প্রধান অঙ্গাণুর কাজ (ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপিক গঠন অনুসরণে)

পড়ার নোট

ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে দেখলে জীবকোষের ভিতরে অনেক ছোট ছোট গঠন দেখা যায়। এগুলোকে বলা হয় অঙ্গানু। এগুলো কোষের বিভিন্ন কাজ করে।

নিউক্লিয়াস বা কোষের কেন্দ্র হলো কোষের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। এখানে ক্রোমোজোম থাকে, যা বংশগতির তথ্য বহন করে। কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমাটিন জালিকা মোটা হয়ে ক্রোমোজোম গঠন করে। প্রতিটি ক্রোমোজোম দুটি ক্রোমাটিড দিয়ে গঠিত, যা কোষ বিভাজনের সময় আলাদা হয়ে নতুন কোষে যায়।

মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের শক্তি কেন্দ্র। এখানে খাদ্য ভাঙা হয়ে শক্তি তৈরি হয় (ATP)। একে বলা হয় কোষের বিদ্যুৎ কেন্দ্র—যেমন রাইস কুকারের প্লাগ থেকে বিদ্যুৎ আসে, তেমনি মাইটোকন্ড্রিয়া থেকে কোষের কাজের জন্য শক্তি আসে।

রাইবোজোম হলো প্রোটিন তৈরির কারখানা। এগুলো সাইটোপ্লাজমে ভাসে বা অ্যান্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের সাথে লাগানো থাকে।

গলজি বস্তু প্রোটিন ও লিপিড প্রক্রিয়া করে পাঠায় যেখানে দরকার। এটি কোষের ডাকঘরের মতো।

লাইসোজোম ভাঙা অংশ বা ভাইরাস ধ্বংস করে। একে বলা হয় কোষের পুলিশ বা ক্লিনার।

প্লাস্টিড শুধু উদ্ভিদ কোষে থাকে। ক্লোরোপ্লাস্ট আলো ধরে খাদ্য তৈরি করে। লিউকোপ্লাস্ট স্টার্চ জমা রাখে। ক্রোমোপ্লাস্ট ফুল বা ফলের রং তৈরি করে।

কোষপ্রাচীর শুধু উদ্ভিদ কোষে থাকে। এটি কোষকে শক্ত করে রাখে এবং আকৃতি দেয়। এটি সেলুলোজ দিয়ে তৈরি।

সেন্ট্রোসোম প্রাণিকোষে থাকে এবং কোষ বিভাজনে স্পিন্ডল তন্তু তৈরি করে।

ভ্যাকুওল উদ্ভিদ কোষে বড় হয় এবং পানি, রস ও বর্জ্য জমা রাখে। প্রাণিকোষে ছোট এবং কম।

মেমব্রেন কোষ ও অঙ্গানুকে ঘিরে থাকে এবং প্রবেশ-নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করে।

সাইটোপ্লাজম কোষের নিউক্লিয়াস ছাড়া বাকি অংশ। এখানে সব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে।

মনে রাখো: কোষের প্রতিটি অঙ্গানু নির্দিষ্ট কাজ করে—যেমন নিউক্লিয়াস নিয়ন্ত্রণ করে, মাইটোকন্ড্রিয়া শক্তি দেয়, আর রাইবোজোম প্রোটিন তৈরি করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • কোষ কেন ক্ষুদ্রাকার: ক্ষেত্রফল বনাম আয়তনচালিয়ে দেখো

    একটি ঘনকাকৃতির সজীব কোষের ধারের দৈর্ঘ্য ১ cm। এর সমগ্র পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল ৬ cm² এবং আয়তন ১ cm³; ফলে ক্ষেত্রফল ও আয়তনের অনুপাত (SA:V) হলো ৬ /cm। কোষটি পুষ্টি শোষণ করে বৃদ্ধি পেল এবং এর ধারের দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ হয়ে ২ cm এ পৌঁছাল। কোষটির নতুন ক্ষেত্রফল ও আয়তনের অনুপাত (SA:V) কত হবে?

  • ১০০০ গুণ বড় করলেও রাইবোসোম দেখা যায় না কেন?চালিয়ে দেখো

    স্কুলের ল্যাবে মিতু অণুবীক্ষণ যন্ত্রে পেঁয়াজের খোসার কোষ ইটের মতো সাজানো দেখল, আর গালের কোষ নীল চ্যাপ্টা টুকরোর মতো। বইয়ের ছবিতে প্রতিটি কোষের ভেতরে মাইটোকন্ড্রিয়া, রাইবোসোম আর গলজি বস্তু আঁকা। সে তেল নিমজ্জন লেন্স লাগিয়ে ১০০০ গুণ বড় করে রাইবোসোম খুঁজবে। সে কি রাইবোসোম দেখতে পাবে?

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. একটি ধান গাছের পাতার কোষে বিভিন্ন জৈবনিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি (ATP) উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র নিচের কোন অঙ্গাণুটি?

    1. ক

      রাইবোসোম

    2. খ

      মাইটোকন্ড্রিয়া

    3. গ

      গলগি বস্তু

    4. ঘ

      লাইসোজোম

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) মাইটোকন্ড্রিয়া

    1. মাইটোকন্ড্রিয়া হলো কোষের শ্বসন অঙ্গাণু। এখানে ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের মাধ্যমে কোষের অধিকাংশ শক্তি বা এটিপি (ATP) উৎপন্ন হয়, তাই একে কোষের শক্তিঘর (Power house) বলা হয়।
    2. রাইবোসোম প্রোটিন তৈরি করে, গলগি বস্তু এনজাইম ও হরমোন ক্ষরণ এবং প্যাকেজিংয়ে অংশ নেয়, আর লাইসোজোম হাইড্রোলাইটিক এনজাইম দ্বারা অবাঞ্ছিত বস্তু ও জীবাণু ধ্বংস করে।
  2. ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) একটি গবেষণাগারে ধানের ক্যালাস টিস্যুর একটি ঘনকাকৃতির সজীব কোষ পর্যবেক্ষণ করা হলো যার ধারের দৈর্ঘ্য ২ µm। কোষটির প্লাজমালেমার সমগ্র পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল ও ভেতরের আয়তনের অনুপাত (SA:V) কত /µm? (এখানে পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল = ৬L² এবং আয়তন = L³)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৩ /µm

    1. একটি ঘনকাকৃতির কোষের ধারের দৈর্ঘ্য L হলে তার সমগ্র পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল SA = ৬L² এবং আয়তন V = L³।
    SA=6L2,V=L3\text{SA} = 6L^2, \quad V = L^3
    1. L = ২ µm বসালে SA = ৬ × (২ µm)² = ২৪ µm² এবং V = (২ µm)³ = ৮ µm³।
    SA=6×(2)2=24 μm2,V=(2)3=8 μm3\text{SA} = 6 \times (2)^2 = 24\ \mu\text{m}^2, \quad V = (2)^3 = 8\ \mu\text{m}^3
    1. ক্ষেত্রফল ও আয়তনের অনুপাত SA:V = SA ⁄ V = ২৪ ⁄ ৮ = ৩ /µm (অথবা সরাসরি SA ⁄ V = ৬ ⁄ L = ৬ ⁄ ২ = ৩ /µm)।
    SAV=24 μm28 μm3=3 /μm\frac{\text{SA}}{V} = \frac{24\ \mu\text{m}^2}{8\ \mu\text{m}^3} = 3\ /\mu\text{m}
  3. বগুড়ার একটি বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গবেষণাগারে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পেঁয়াজের ত্বকের একটি কোষ পর্যবেক্ষণ করল। অণুবীক্ষণ যন্ত্রটির অভিনেত্রীর (eyepiece) বিবর্ধন ১০× এবং অভিলক্ষ্যের (objective) বিবর্ধন ৪০×। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের দৃষ্টিক্ষেত্রে কোষটির প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য পাওয়া গেল ৪৮ mm। পেঁয়াজ কোষটির প্রকৃত দৈর্ঘ্য কত µm? (১ mm = ১,০০০ µm)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ১২০ µm

    1. যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মোট বিবর্ধন M = অভিনেত্রীর বিবর্ধন × অভিলক্ষ্যের বিবর্ধন = ১০ × ৪০ = ৪০০ গুণ।
    M=10×40=400M = 10 \times 40 = 400
    1. কোষটির প্রকৃত দৈর্ঘ্য = প্রতিবিম্বের দৈর্ঘ্য ⁄ মোট বিবর্ধন = ৪৮ mm ⁄ ৪০০ = ০.১২ mm।
    Actual length=48 mm400=0.12 mm\text{Actual length} = \frac{48\text{ mm}}{400} = 0.12\text{ mm}
    1. যেহেতু ১ mm = ১,০০০ µm, সুতরাং কোষটির প্রকৃত দৈর্ঘ্য = ০.১২ × ১,০০০ µm = ১২০ µm।
    0.12 mm=0.12×1000 μm=120 μm0.12\text{ mm} = 0.12 \times 1000\ \mu\text{m} = 120\ \mu\text{m}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো