offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ২ · টপিক ১০

স্নায়ু টিস্যু

পড়ার নোট

যে টিস্যু দিয়ে স্নায়ুতন্ত্র গঠিত, তাকে স্নায়ু টিস্যু বলে। এটি অসংখ্য নিউরন বা স্নায়ুকোষ দিয়ে তৈরি। স্নায়ু টিস্যু পরিবেশ থেকে তাপ, স্পর্শ, চাপ ইত্যাদি উদ্দীপনা গ্রহণ করে, দেহের ভেতরে তা পরিবহন করে এবং সে অনুযায়ী উপযুক্ত সাড়া দিতে সাহায্য করে।

নিউরনের গঠন

একটি আদর্শ নিউরনের দুটি অংশ:

  • কোষদেহ: বহুভুজাকার ও নিউক্লিয়াসযুক্ত। সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, রাইবোজোম, গলজি বস্তু, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থাকে, কিন্তু সক্রিয় সেন্ট্রিওল থাকে না; তাই নিউরন বিভাজিত হতে পারে না।
  • প্রলম্বিত অংশ: কোষদেহ থেকে বের হওয়া ছোট শাখাগুলো ডেনড্রন, আর এদের শাখা ডেনড্রাইট; এগুলো একটি বা একাধিক হতে পারে। কোষদেহ থেকে বের হওয়া একটি লম্বা তন্তু হলো অ্যাক্সন; একটি নিউরনে অ্যাক্সন একটিই।

সিনাপস

পাশাপাশি দুটি নিউরনের মধ্যে একটির অ্যাক্সন ও অন্যটির ডেনড্রাইটের মিলনে যে সংযোগ তৈরি হয়, তাকে সিনাপস বলে। সিনাপসের মাধ্যমে স্নায়ু উদ্দীপনা এক নিউরন থেকে পরের নিউরনে যায়।

কাজ

স্নায়ু টিস্যু উদ্দীপনা গ্রহণ করে মস্তিষ্কে পাঠায়, আর মস্তিষ্ক সাড়া দেয়। উন্নত প্রাণীতে স্নায়ু টিস্যু স্মৃতি সংরক্ষণ করে এবং বিভিন্ন অঙ্গের কাজ ও তাদের মধ্যে সমন্বয় নিয়ন্ত্রণ করে।

একটি প্রচলিত ভুল ধারণা: অনেকে মনে করেন আমরা মস্তিষ্কের মাত্র 10% ব্যবহার করি। এটি সত্য নয়। মস্তিষ্কের সব অংশ একই সময়ে সমান সক্রিয় না থাকলেও সময়ে সময়ে আমরা মস্তিষ্কের সব অংশই ব্যবহার করি।

উদাহরণ: হাত দিয়ে গরম পাতিল ছুঁয়ে ফেললে উদ্দীপনা কোন পথে যায়?

  1. হাতের ত্বকের নিউরনের ডেনড্রাইট তাপের উদ্দীপনা গ্রহণ করে।
  2. উদ্দীপনা কোষদেহ হয়ে অ্যাক্সন বরাবর চলে।
  3. সিনাপসের মাধ্যমে পরের নিউরনে গিয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
  4. মস্তিষ্ক থেকে নির্দেশ অন্য নিউরনের মাধ্যমে হাতের পেশিতে যায়, পেশি সংকুচিত হয়ে হাত সরে আসে।

সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে আহত নিউরন অন্য কোষের মতো বিভাজিত হয়ে সহজে পূরণ হয়। সক্রিয় সেন্ট্রিওল না থাকায় নিউরন বিভাজিত হয় না।

মনে রাখো: স্নায়ু টিস্যু নিউরন দিয়ে গঠিত; নিউরনের কোষদেহ, ডেনড্রাইট ও একটি অ্যাক্সন থাকে, আর সিনাপসের মাধ্যমে উদ্দীপনা এক নিউরন থেকে অন্য নিউরনে যায়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • তরল রক্ত আর শক্ত অস্থি কি একই ধরনের টিস্যু?চালিয়ে দেখো

    জীববিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষক বললেন, প্রাণিদেহের টিস্যু চার ধরনের। রাফির যুক্তি, রক্ত তরল আর অস্থি পাথরের মতো শক্ত, কাজেই এরা কখনো একই ধরনের টিস্যু হতে পারে না; রক্ত তো আসলে টিস্যুই নয়। স্লাইডগুলো অণুবীক্ষণে দেখে বলো: রক্ত আর অস্থি কোন ধরনের টিস্যু?

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো