পড়ার নোট
যে টিস্যুতে কোষের সংখ্যা তুলনামূলক কম কিন্তু কোষের বাইরের আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা ধাত্র বেশি, তাকে যোজক টিস্যু বলে। গঠন ও কাজ অনুযায়ী এটি তিন প্রকার।
১. তন্তুময় যোজক টিস্যু
ত্বকের নিচে এবং পেশির মধ্যে ছড়িয়ে থাকে। এর ধাত্রে বিভিন্ন ধরনের তন্তু দেখা যায়।
২. কঙ্কাল যোজক টিস্যু
দেহের ভেতরের কাঠামো বা কঙ্কালতন্ত্র গঠন করে। এটি দেহকে নির্দিষ্ট আকৃতি ও দৃঢ়তা দেয়, অঙ্গ সঞ্চালন ও চলনে সাহায্য করে, মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড, ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের মতো নরম অঙ্গ রক্ষা করে, রক্তকণিকা তৈরি করে এবং ঐচ্ছিক পেশি যুক্ত হওয়ার জায়গা দেয়। এটি দুই ধরনের:
- তরুণাস্থি: নমনীয় কঙ্কাল টিস্যু; ধাত্র দৃঢ় ও স্থিতিস্থাপক। মানুষের নাক ও কানের পিনা তরুণাস্থি দিয়ে তৈরি। হিউমেরাস ও ফিমারের মতো অস্থির দুই প্রান্তে তরুণাস্থি থাকে, যা অস্থিকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে।
- অস্থি: শক্ত ও অনমনীয় কঙ্কাল টিস্যু; ধাত্রে ক্যালসিয়াম জমে এটিকে মজবুত করে।
৩. তরল যোজক টিস্যু
এর ধাত্র তরল। দেহের অভ্যন্তরে সংবহন বজায় রাখা, রোগ প্রতিরোধ ও রক্ত জমাট বাঁধায় এর বিশেষ ভূমিকা আছে। এটি দুই প্রকার:
- রক্ত: ক্ষারীয়, সামান্য লবণাক্ত, লাল তরল। এতে রক্তরস প্রায় 55% এবং রক্তকণিকা প্রায় 45%। রক্তরস হালকা হলুদ, এর 91–92% পানি। রক্তকণিকা তিন ধরনের: লোহিত কণিকা (হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহন করে, রক্তকে লাল করে), শ্বেত কণিকা (রোগজীবাণু ধ্বংস করে) এবং অণুচক্রিকা (রক্ত জমাট বাঁধায়)। উষ্ণ রক্তের প্রাণীতে রক্ত দেহের তাপমাত্রার ভারসাম্য রাখে।
- লসিকা: কোষের ফাঁকে জমা হলুদ, সামান্য ক্ষারীয় তরল; ছোট নালিতে সংগৃহীত হয়ে লসিকাতন্ত্র গঠন করে। এতে লিম্ফোসাইট কোষ থাকে।
উদাহরণ: একজন মানুষের দেহে 5 লিটার রক্ত থাকলে রক্তরস প্রায় লিটার এবং রক্তকণিকা প্রায় লিটার। রক্তরসের প্রায় 91.5% পানি ধরলে রক্তরসের পানি প্রায় লিটার।
সাধারণ ভুল হলো রক্তকে টিস্যু না ভাবা। রক্তের ধাত্র তরল রক্তরস আর কোষ হলো রক্তকণিকা, তাই এটি তরল যোজক টিস্যু।
মনে রাখো: যোজক টিস্যুতে কোষ কম ও ধাত্র বেশি; এটি তন্তুময়, কঙ্কাল (তরুণাস্থি ও অস্থি) এবং তরল (রক্ত ও লসিকা) এই তিন প্রকার।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।