পড়ার নোট
বহুকোষী প্রাণীতে একই ভ্রূণীয় কোষ থেকে সৃষ্ট এক বা একাধিক ধরনের কোষ দেহের নির্দিষ্ট অংশে থেকে একসাথে একটি সাধারণ কাজ করলে তাকে টিস্যু বলে। অর্থাৎ একটি টিস্যুর কোষগুলোর উৎপত্তি, কাজ ও গঠন একই রকম। টিস্যু নিয়ে বিজ্ঞানের যে শাখা আলোচনা করে, তাকে হিস্টোলজি বলে।
কোষ হলো টিস্যুর গাঠনিক ও কার্যকরী একক। যেমন লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও অণুচক্রিকা আলাদা আলাদা কোষ, কিন্তু এরা মিলে রক্ত নামের একটি তরল যোজক টিস্যু গঠন করে।
প্রাণিটিস্যুর প্রকারভেদ
কোষের প্রকৃতি ও সংখ্যা এবং কোষ থেকে নিঃসৃত আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা ধাত্রের উপস্থিতি অনুযায়ী প্রাণিটিস্যু চার প্রকার:
| টিস্যু | বৈশিষ্ট্য | প্রধান কাজ |
|---|---|---|
| আবরণী টিস্যু | কোষগুলো ভিত্তিপর্দার উপর ঘনভাবে পাশাপাশি থাকে | অঙ্গের আবরণ, সুরক্ষা, ক্ষরণ, শোষণ |
| যোজক টিস্যু | কোষ কম, ধাত্র বেশি | বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গকে যুক্ত রাখা, কাঠামো, পরিবহন |
| পেশি টিস্যু | লম্বা তন্তুর মতো কোষ, ধাত্র প্রায় নেই | সংকোচন-প্রসারণে নড়াচড়া ও অভ্যন্তরীণ সংবহন |
| স্নায়ু টিস্যু | নিউরন দিয়ে গঠিত | উদ্দীপনা গ্রহণ, পরিবহন ও সাড়া দেওয়া |
কাজের বিভাজন
প্রতিটি টিস্যুর গঠন তার কাজের উপযোগী। পেশি টিস্যু সংকুচিত হতে পারে বলে নড়াচড়া ঘটায়; স্নায়ু টিস্যুর নিউরন লম্বা তন্তুর মাধ্যমে দূরে সংকেত পাঠায়; যোজক টিস্যুর ধাত্র অস্থিকে শক্ত আর রক্তকে তরল রাখে।
উদাহরণ: একটি হাতের ভেতরে কোন কোন প্রাণিটিস্যু আছে?
- উপরে ত্বকের আবরণী টিস্যু, যা হাতকে ঢেকে রাখে ও রক্ষা করে।
- ভেতরে অস্থি ও রক্ত, অর্থাৎ যোজক টিস্যু, যা কাঠামো দেয় ও অক্সিজেন বহন করে।
- অস্থির সাথে যুক্ত ঐচ্ছিক পেশি টিস্যু, যা আঙুল নাড়ায়।
- স্নায়ু টিস্যু, যা স্পর্শ টের পায় ও পেশিকে নির্দেশ দেয়।
চার ধরনের টিস্যু মিলে একটি হাত কাজ করে।
সাধারণ ভুল হলো কোষ আর টিস্যুকে একই ভাবা। কোষ হলো একক, আর একই উৎস ও কাজের কোষের সমষ্টি হলো টিস্যু।
মনে রাখো: প্রাণিটিস্যু চার প্রকার: আবরণী, যোজক, পেশি ও স্নায়ু টিস্যু; একই উৎপত্তি, গঠন ও কাজের কোষ মিলে টিস্যু গঠিত হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।