পড়ার নোট
রক্তবাহিকা হলো যেসব নালির মধ্য দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়। ধমনি, শিরা ও কৈশিক জালিকা মিলিয়ে হৃৎপিণ্ড থেকে দেহে এবং দেহ থেকে হৃৎপিণ্ডে ফেরার পথ তৈরি করে। এদের গঠনের পার্থক্য নিজ নিজ কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ধমনির কাজ ও গঠন
ধমনি হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত দূরে বহন করে। অধিকাংশ ধমনি অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত বহন করলেও ফুসফুসীয় ধমনি কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত ফুসফুসে নিয়ে যায়। হৃৎপিণ্ডের সংকোচনে আসা বেশি চাপ সহ্য করার জন্য ধমনির প্রাচীর পুরু, পেশিবহুল ও স্থিতিস্থাপক। এর নালিপথ তুলনামূলক সরু এবং নালিপথ বরাবর কপাটিকা থাকে না।
ধমনির প্রাচীরে তিনটি স্তর থাকে। বাইরের টিউনিকা এক্সটার্না তন্তুময় যোজক টিস্যুর, মাঝের টিউনিকা মিডিয়া বৃত্তাকার অনৈচ্ছিক পেশির এবং ভেতরের টিউনিকা ইন্টারনা সরল আবরণী টিস্যুর তৈরি।
প্রতিবার হৃৎপিণ্ড সংকুচিত হলে ধমনিতে রক্তের চাপের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। ধমনিগাত্রের ছন্দময় স্ফীতি ও সংকোচনকে নাড়িস্পন্দন বলে। যেমন, বাংলাদেশের কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মী কবজির ধমনিতে আঙুল রেখে নাড়ি অনুভব করেন। এটি ধমনির প্রাচীরের স্পন্দন; কোনো শিরার স্পন্দন নয়।
শিরার কাজ ও সংযোগ
শিরা দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত হৃৎপিণ্ডে ফিরিয়ে আনে। অধিকাংশ শিরা কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত বহন করে; ফুসফুসীয় শিরা ব্যতিক্রম, কারণ এটি ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত আনে।
শিরার প্রাচীরেও তিনটি স্তর থাকে, তবে ধমনির তুলনায় পাতলা, কম পেশিবহুল ও কম স্থিতিস্থাপক। এর নালিপথ চওড়া এবং রক্ত কম চাপে প্রবাহিত হয়। শিরার কপাটিকা রক্ত পিছনে ফিরে যাওয়া ঠেকিয়ে হৃৎপিণ্ডের দিকে চলতে সাহায্য করে। ছোট শিরাগুলো মিলিত হয়ে ক্রমে বড় শিরা ও মহাশিরা তৈরি করে।
কৈশিক জালিকা ক্ষুদ্রতম ধমনি ও ক্ষুদ্রতম শিরার সংযোগকারী অতি সূক্ষ্ম নালি। এর অত্যন্ত পাতলা প্রাচীর দিয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোষ ও রক্তের মধ্যে অক্সিজেন, খাদ্য ও বর্জ্যের বিনিময় হয়। ভাতের পরিপাকজাত খাদ্য অন্ত্রের কৈশিক নালিতে শোষিত হয়ে রক্তে মেশে; পরে সংবহনের মাধ্যমে দেহের কোষে পৌঁছায়।
সাধারণ ভুল হলো, অক্সিজেন আছে বলেই কোনো নালিকে ধমনি বলা। ধমনি ও শিরা চেনার মূল ভিত্তি হৃৎপিণ্ডের তুলনায় প্রবাহের দিক। উভয়ের রক্তেই অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকে, তবে পরিমাণ আলাদা।
মনে রাখো: ধমনি রক্ত হৃৎপিণ্ড থেকে দূরে নিয়ে যায়, শিরা ফিরিয়ে আনে এবং কৈশিক জালিকায় পদার্থ বিনিময় হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।