offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৬ · টপিক ১৯

হৃৎপিণ্ডের গঠন ও কাজ

পড়ার নোট

হৃৎপিণ্ড একটি ফাঁপা, পেশিবহুল পাম্প অঙ্গ। এটি বক্ষগহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে কিছুটা বাম দিকে অবস্থিত এবং মোটামুটি ত্রিকোণাকার। বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে তৈরি হওয়ায় সচেতনভাবে নির্দেশ না দিলেও এটি কাজ করে।

গঠন

হৃৎপিণ্ডকে ঘিরে থাকা পাতলা আবরণ হলো পেরিকার্ডিয়াম। হৃৎপ্রাচীরের তিনটি স্তর রয়েছে। বাইরের এপিকার্ডিয়াম প্রধানত যোজক টিস্যু দিয়ে গঠিত এবং আবরণী টিস্যুতে আবৃত; এখানে চর্বিও থাকে। মাঝের মায়োকার্ডিয়াম শক্তিশালী অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে তৈরি। ভেতরের এন্ডোকার্ডিয়াম প্রকোষ্ঠের ভিতর ও কপাটিকাকে আবৃত রাখে।

হৃৎপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ থাকে। উপরের দুটি অলিন্দ রক্ত গ্রহণ করে; নিচের দুটি নিলয় রক্ত বাইরে পাঠায়। ডান অলিন্দ দেহ থেকে এবং বাম অলিন্দ ফুসফুস থেকে রক্ত গ্রহণ করে। ডান নিলয় ফুসফুসে, বাম নিলয় দেহের অন্য অংশে রক্ত পাঠায়। অলিন্দের প্রাচীর তুলনামূলক পাতলা; নিলয়ের প্রাচীর বেশি পেশিবহুল। বাম নিলয়ের প্রাচীর সবচেয়ে পুরু, কারণ একে সমগ্র দেহে রক্ত পাঠাতে বেশি চাপ সৃষ্টি করতে হয়।

বিভাজক প্রাচীর ডান ও বাম পাশকে পৃথক রাখে। ফলে অক্সিজেনসমৃদ্ধ ও অক্সিজেনস্বল্প রক্ত মেশে না। অলিন্দ ও নিলয়ের মধ্যকার মুখে কপাটিকা থাকে:

  • ট্রাইকাসপিড কপাটিকা ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের মাঝে থাকে; এর তিনটি পাল্লা।
  • বাইকাসপিড কপাটিকা বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের মাঝে থাকে; এর দুটি পাল্লা।
  • সেমিলুনার কপাটিকা মহাধমনি ও ফুসফুসীয় ধমনির গোড়ায় থাকে।

কাজ

হৃৎপিণ্ডের সংকোচনকে সিস্টোল এবং প্রসারণকে ডায়াস্টোল বলে। অলিন্দ প্রসারিত হলে রক্ত আসে, তারপর অলিন্দ সংকুচিত হয়ে নিলয়ে রক্ত পাঠায়। নিলয় সংকুচিত হলে রক্ত ধমনিতে বের হয়। কপাটিকা রক্তকে বিপরীত দিকে ফিরে যেতে বাধা দেয়। এই পর্যায়ক্রমিক কাজ রক্তপ্রবাহ সচল রাখে।

বিশ্রামরত প্রাপ্তবয়স্কের হৃৎস্পন্দন সাধারণত মিনিটে ৬০–১০০ বার; মিনিটে ৭০–৮০ বারও এই সীমার মধ্যে পড়ে। যেমন, স্কুলে বসে থাকা অবস্থার তুলনায় মাঠে দৌড়ালে পেশির চাহিদা বাড়ে এবং হৃৎপিণ্ড দ্রুত কাজ করতে পারে।

সাধারণ ভুল হলো, পেরিকার্ডিয়ামকে হৃৎপ্রাচীরের তিন স্তরের একটি বলা। এটি হৃৎপিণ্ডের চারপাশের আবরণ; প্রাচীরের স্তরগুলো এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম ও এন্ডোকার্ডিয়াম।

মনে রাখো: হৃৎপেশি রক্তকে চালায়, পৃথক প্রকোষ্ঠ রক্তের মিশ্রণ ঠেকায় এবং কপাটিকা একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • ধমনিতে কোলেস্টেরল ও রক্তপ্রবাহচালিয়ে দেখো

    একজন সুস্থ ব্যক্তির স্বাভাবিক রক্তচাপ ১০০ mmHg এবং তার পায়ের ধমনির রক্তপ্রবাহ ১৬ mL/s। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমার কারণে পায়ের ধমনির কার্যকর ব্যাসার্ধ অর্ধেক (৫০%) হয়ে গেলে, রক্তচাপ একই থাকলে রক্তপ্রবাহ কমে কত হবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. মানব হৃৎপিণ্ডের নিলয়দ্বয়ের মধ্যে বাম নিলয়ের (left ventricle) প্রাচীর ডান নিলয় (right ventricle) অপেক্ষা প্রায় তিনগুণ বেশি পুরু ও পেশিবহুল হওয়ার প্রধান শারীরবৃত্তীয় কারণ কোনটি?

    1. ক

      সার্বদেহিক সংবহনের দূরবর্তী শাখাগুলোতে উচ্চ চাপে মহাধমনির মাধ্যমে রক্ত পাম্প করার জন্য

    2. খ

      ফুসফুসে দ্রুত গ্যাসীয় বিনিময় সম্পন্ন করতে উচ্চ চাপে ফুসফুসীয় ধমনিতে রক্ত পাঠানোর জন্য

    3. গ

      বাম নিলয়ে অক্সিজেনবিহীন ঘন রক্ত অবস্থান করায় তা নির্গমনে অধিক বল প্রয়োগের জন্য

    4. ঘ

      বাম অলিন্দ থেকে আসা অতিরিক্ত আয়তনের রক্ত ধারণ করার সুবিধার্থে

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) সার্বদেহিক সংবহনের দূরবর্তী শাখাগুলোতে উচ্চ চাপে মহাধমনির মাধ্যমে রক্ত পাম্প করার জন্য

    1. ডান নিলয় কেবল নিকটবর্তী ফুসফুসে রক্ত পাম্প করে (ফুসফুসীয় সংবহন), যার রক্তনালির দৈর্ঘ্য কম ও রোধ কম হওয়ায় স্বল্প সংকোচন চাপেই রক্ত চলাচল সম্ভব।
    2. বিপরীতে, বাম নিলয়কে মহাধমনির (aorta) মাধ্যমে সারা দেহের মাথা থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত দূরবর্তী অঙ্গে রক্ত পাঠাতে হয় (সার্বদেহিক সংবহন)। এই দীর্ঘ পথ ও উচ্চ রোধ অতিক্রম করতে বাম নিলয়ে শক্তিশালী সংকোচন বলের প্রয়োজন হয়, যার কারণে এর প্রাচীর ডান নিলয়ের চেয়ে প্রায় তিনগুণ পুরু ও পেশিবহুল।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো