পড়ার নোট
হৃৎপিণ্ড একটি ফাঁপা, পেশিবহুল পাম্প অঙ্গ। এটি বক্ষগহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে কিছুটা বাম দিকে অবস্থিত এবং মোটামুটি ত্রিকোণাকার। বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে তৈরি হওয়ায় সচেতনভাবে নির্দেশ না দিলেও এটি কাজ করে।
গঠন
হৃৎপিণ্ডকে ঘিরে থাকা পাতলা আবরণ হলো পেরিকার্ডিয়াম। হৃৎপ্রাচীরের তিনটি স্তর রয়েছে। বাইরের এপিকার্ডিয়াম প্রধানত যোজক টিস্যু দিয়ে গঠিত এবং আবরণী টিস্যুতে আবৃত; এখানে চর্বিও থাকে। মাঝের মায়োকার্ডিয়াম শক্তিশালী অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে তৈরি। ভেতরের এন্ডোকার্ডিয়াম প্রকোষ্ঠের ভিতর ও কপাটিকাকে আবৃত রাখে।
হৃৎপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ থাকে। উপরের দুটি অলিন্দ রক্ত গ্রহণ করে; নিচের দুটি নিলয় রক্ত বাইরে পাঠায়। ডান অলিন্দ দেহ থেকে এবং বাম অলিন্দ ফুসফুস থেকে রক্ত গ্রহণ করে। ডান নিলয় ফুসফুসে, বাম নিলয় দেহের অন্য অংশে রক্ত পাঠায়। অলিন্দের প্রাচীর তুলনামূলক পাতলা; নিলয়ের প্রাচীর বেশি পেশিবহুল। বাম নিলয়ের প্রাচীর সবচেয়ে পুরু, কারণ একে সমগ্র দেহে রক্ত পাঠাতে বেশি চাপ সৃষ্টি করতে হয়।
বিভাজক প্রাচীর ডান ও বাম পাশকে পৃথক রাখে। ফলে অক্সিজেনসমৃদ্ধ ও অক্সিজেনস্বল্প রক্ত মেশে না। অলিন্দ ও নিলয়ের মধ্যকার মুখে কপাটিকা থাকে:
- ট্রাইকাসপিড কপাটিকা ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের মাঝে থাকে; এর তিনটি পাল্লা।
- বাইকাসপিড কপাটিকা বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের মাঝে থাকে; এর দুটি পাল্লা।
- সেমিলুনার কপাটিকা মহাধমনি ও ফুসফুসীয় ধমনির গোড়ায় থাকে।
কাজ
হৃৎপিণ্ডের সংকোচনকে সিস্টোল এবং প্রসারণকে ডায়াস্টোল বলে। অলিন্দ প্রসারিত হলে রক্ত আসে, তারপর অলিন্দ সংকুচিত হয়ে নিলয়ে রক্ত পাঠায়। নিলয় সংকুচিত হলে রক্ত ধমনিতে বের হয়। কপাটিকা রক্তকে বিপরীত দিকে ফিরে যেতে বাধা দেয়। এই পর্যায়ক্রমিক কাজ রক্তপ্রবাহ সচল রাখে।
বিশ্রামরত প্রাপ্তবয়স্কের হৃৎস্পন্দন সাধারণত মিনিটে ৬০–১০০ বার; মিনিটে ৭০–৮০ বারও এই সীমার মধ্যে পড়ে। যেমন, স্কুলে বসে থাকা অবস্থার তুলনায় মাঠে দৌড়ালে পেশির চাহিদা বাড়ে এবং হৃৎপিণ্ড দ্রুত কাজ করতে পারে।
সাধারণ ভুল হলো, পেরিকার্ডিয়ামকে হৃৎপ্রাচীরের তিন স্তরের একটি বলা। এটি হৃৎপিণ্ডের চারপাশের আবরণ; প্রাচীরের স্তরগুলো এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম ও এন্ডোকার্ডিয়াম।
মনে রাখো: হৃৎপেশি রক্তকে চালায়, পৃথক প্রকোষ্ঠ রক্তের মিশ্রণ ঠেকায় এবং কপাটিকা একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।