offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৬ · টপিক ২১

রক্তচাপের ভূমিকা

পড়ার নোট

রক্তচাপ হলো ধমনির প্রাচীরের উপর প্রবাহিত রক্তের প্রয়োগ করা চাপ। হৃৎপিণ্ড সংকুচিত হয়ে রক্ত ধমনিতে পাঠালে এই চাপ সৃষ্টি হয়। পর্যাপ্ত চাপ থাকলে রক্ত দূরের অঙ্গেও পৌঁছায়; ফলে মাথা থেকে পায়ের কোষ পর্যন্ত অক্সিজেন ও খাদ্য সরবরাহ পায়।

নিলয়ের সংকোচন বা সিস্টোলের সময় ধমনিতে চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে; এটিই সিস্টোলিক চাপ। নিলয়ের প্রসারণ বা ডায়াস্টোলের সময় চাপ সর্বনিম্ন হয়; এটিই ডায়াস্টোলিক চাপ। প্রসারণের সময় হৃৎপিণ্ড রক্ত গ্রহণ করলেও ধমনির চাপ শূন্য হয়ে যায় না। ধমনির স্থিতিস্থাপকতা স্পন্দনের মধ্যবর্তী সময়েও রক্তপ্রবাহ চলতে সাহায্য করে।

রক্তচাপের কারণে চলমান রক্ত কৈশিক জালিকায় পৌঁছায়। সেখানে পাতলা প্রাচীর দিয়ে খাদ্য ও অক্সিজেন কোষে যায় এবং বর্জ্য রক্তে আসে। তাই চাপ রক্তকে বিনিময়স্থলে পৌঁছায়, আর ব্যাপন পদার্থ বিনিময়ে সাহায্য করে। রক্তপ্রবাহ সচল থাকায় হরমোন নির্দিষ্ট অঙ্গে যায় এবং উৎপন্ন তাপ দেহের বিভিন্ন অংশে ছড়ায়। রক্তচাপ নিজে হরমোন তৈরি করে না।

সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক চাপের পার্থক্যকে পালস প্রেসার বলে। সম্পর্কটি হলো Pp=Ps−PdP_p=P_s-P_d। এখানে PpP_p পালস প্রেসার, PsP_s সিস্টোলিক চাপ এবং PdP_d ডায়াস্টোলিক চাপ; প্রত্যেকটির SI একক পাস্কাল বা Pa। চিকিৎসায় এগুলো সাধারণত পারদের মিলিমিটার বা mm Hg-এ প্রকাশ করা হয়।

একটি কাল্পনিক মাপ ১১৬/৭৬ mm Hg হলে ধাপে ধাপে:

  • প্রথম সংখ্যা থেকে সিস্টোলিক চাপ পাওয়া যায়: ১১৬ mm Hg।
  • দ্বিতীয় সংখ্যা থেকে ডায়াস্টোলিক চাপ পাওয়া যায়: ৭৬ mm Hg।
  • বিয়োগ করে পালস প্রেসার: Pp=(116−76) mm Hg=40 mm HgP_p=(116-76)\,\mathrm{mm\,Hg}=40\,\mathrm{mm\,Hg}।

হৃৎপিণ্ডের পাম্প করার শক্তি, রক্তের পরিমাণ এবং ধমনির অবস্থা চাপকে প্রভাবিত করে। যেমন, স্কুলের মাঠে দৌড়ানোর সময় পেশির চাহিদা বাড়লে হৃৎপিণ্ডের কাজ ও রক্তপ্রবাহ বদলায়। তাই বিশ্রাম ও পরিশ্রমের মাপ এক নাও হতে পারে।

চাপ খুব কম হলে অঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছাতে সমস্যা হয়। দীর্ঘদিন বেশি থাকলে ধমনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত লবণ, চর্বিযুক্ত খাবার, মানসিক চাপ ও তামাক ব্যবহার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সাধারণ ভুল হলো, ডায়াস্টোলিক চাপকে হৃৎপিণ্ডের বিশ্রামের সময়কাল মনে করা; এটি একটি চাপের মান।

মনে রাখো: উপযুক্ত রক্তচাপ অঙ্গে রক্ত পৌঁছায়; অতিরিক্ত বেশি বা কম চাপ উভয়ই ক্ষতিকর হতে পারে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • ধমনিতে কোলেস্টেরল ও রক্তপ্রবাহচালিয়ে দেখো

    একজন সুস্থ ব্যক্তির স্বাভাবিক রক্তচাপ ১০০ mmHg এবং তার পায়ের ধমনির রক্তপ্রবাহ ১৬ mL/s। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমার কারণে পায়ের ধমনির কার্যকর ব্যাসার্ধ অর্ধেক (৫০%) হয়ে গেলে, রক্তচাপ একই থাকলে রক্তপ্রবাহ কমে কত হবে?

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো