পড়ার নোট
হৃৎপিণ্ড জন্মের আগেই কাজ শুরু করে এবং সারা জীবন রক্ত পাম্প করে। একে সুস্থ রাখতে শুধু অসুখ হলে চিকিৎসা নয়, প্রতিদিনের খাবার ও জীবনযাপনের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাদ্য, অর্থাৎ দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানযুক্ত খাবার, এবং নিয়মিত শারীরিক কাজ হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
ভাতের সঙ্গে ডাল, মাছ, শাকসবজি এবং ফল রেখে খাবারে বৈচিত্র্য আনা যায়। তবে সাদা ভাতসহ শর্করাজাতীয় খাবারও প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া ভালো নয়। বেশি তেল, চর্বি, ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুড কমাতে হবে। অতিরিক্ত চর্বি রক্তনালিতে জমার ঝুঁকি বাড়ায়; পথ সরু হলে হৃৎপেশিতে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
খাবারে অতিরিক্ত লবণ, বিশেষত পাতে আলাদা কাঁচা লবণ, এড়ানো দরকার। বেশি লবণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। রক্তচাপ বেড়ে গেলে হৃৎপিণ্ডকে বেশি চাপের বিরুদ্ধে রক্ত পাঠাতে হয়। ওজন নিয়ন্ত্রণও জরুরি, কারণ অতিরিক্ত ওজন হৃৎপিণ্ডের কাজের চাপ বাড়ায়।
নিয়মিত ব্যায়াম বলতে অভ্যাস হিসেবে শরীরকে সক্রিয় রাখা বোঝায়। হাঁটা, সাইকেল চালানো অথবা উপযুক্ত খেলাধুলা এর পরিচিত উপায়। প্রতিদিন প্রায় 30 মিনিট হাঁটা অনেকের জন্য নিয়মিত সক্রিয় থাকার একটি উদাহরণ হতে পারে; সামর্থ্য ও স্বাস্থ্য অনুযায়ী কাজ বেছে নিতে হয়। স্কুলের মাঠে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলা এবং কাছের দোকানে রিকশার বদলে হেঁটে যাওয়াও দৈনন্দিন উদাহরণ।
সিগারেট, জর্দা, সাদা ও গুল সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে। তামাকের নিকোটিন হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালির ক্ষতি করে। মাদক ও অ্যালকোহলের আসক্তি হৃৎস্পন্দন এবং হৃৎপিণ্ডের কাজ বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। সাময়িক ভালো লাগা নিরাপত্তার প্রমাণ নয়।
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমানো, পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রামের অভ্যাসও সহায়ক। বয়স বাড়লে, বিশেষত চল্লিশের পরে বা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস থাকলে তার নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাও দরকার।
সাধারণ ভুল হলো নিয়মিত ব্যায়াম করলে তামাক বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবারের ক্ষতি মুছে যায় ভাবা। প্রতিটি ঝুঁকি আলাদাভাবে কমাতে হয়।
মনে রাখো: সুষম খাবার, সক্রিয় জীবন, তামাক বর্জন এবং ঝুঁকির নিয়মিত মূল্যায়ন একসঙ্গে হৃৎপিণ্ডের যত্ন নেয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।