পড়ার নোট
সঠিক খাদ্য নির্বাচন হলো দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি হৃৎপিণ্ডের ক্ষতির ঝুঁকি কমায় এমন খাবার বেছে নেওয়া। সুষম খাদ্য দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। শুধু পেট ভরলেই খাদ্য সুষম হয় না; খাবারের ধরন ও পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ।
হৃৎপিণ্ডের পেশিরও অক্সিজেন ও পুষ্টি দরকার। এগুলো রক্তের মাধ্যমে পৌঁছায়। হৃৎপিণ্ডের রক্ত সরবরাহকারী ধমনির দেয়ালে চর্বি জমলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে পেশিতে অক্সিজেন ও পুষ্টির সরবরাহ কমে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই খাবারে অতিরিক্ত তেল, চর্বি ও শর্করা কমানো দরকার।
খাদ্য নির্বাচনে কয়েকটি অভ্যাস কাজে আসে:
- টাটকা ফল ও শাকসবজি নিয়মিত খাও। পেঁপে, কমলা ও পালং শাকের মতো খাবার ভিটামিন ও আঁশ সরবরাহ করে। আঁশযুক্ত খাবার সুষম খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- অতিরিক্ত তেলযুক্ত বিরিয়ানি, তেহারি, ভাজাপোড়া, বার্গার ও প্যাটিস ঘন ঘন খাওয়ার অভ্যাস এড়াও। ঘি ও মাখনের মতো চর্বিসমৃদ্ধ খাবারও সীমিত রাখো।
- মাখন, চিংড়ি, গরুর যকৃৎ ও ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল বেশি থাকে। এগুলো অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। তবে কোলেস্টেরল দেহেরও প্রয়োজন; লক্ষ্য হলো এর অতিরিক্ত মাত্রা এড়ানো।
- মাছ ও ডাল আমিষের উৎস হিসেবে বেছে নেওয়া যায়। রান্নায় বেশি তেল দিলে খাবারের চর্বির পরিমাণ বাড়ে। বাদাম ও উদ্ভিজ্জ তেলও পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করতে হয়।
- ভাত বা রুটি প্রয়োজনমতো খাও। কম পরিশোধিত শস্য ও আটা আঁশের উৎস। অতিরিক্ত মিষ্টি ও শর্করা ওজন বাড়াতে পারে; অতিরিক্ত ওজন এবং অনিয়ন্ত্রিত রক্তের গ্লুকোজ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
- রান্নায় লবণ কম দাও এবং খাওয়ার সময় বাড়তি কাঁচা লবণ নিও না। অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়।
ধরো, দুপুরে বাড়িতে ভাত, ডাল, শাক ও মাছ আছে। পরিমিত ভাতের সঙ্গে ডাল, শাক ও কম তেলে রান্না করা মাছ বেছে নেওয়া সুষম খাবারের একটি পরিচিত উদাহরণ। সঙ্গে বাড়তি লবণ না নেওয়াও ভালো অভ্যাস। প্রয়োজনমতো নিরাপদ পানি পান করাও দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অংশ।
সাধারণ ভুল: ফল খেলেই অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবারের ক্ষতি দূর হয় মনে করা। একটি ভালো খাবার অন্য খাবারের অতিরিক্ত তেল, চর্বি বা লবণের প্রভাব বাতিল করে না।
মনে রাখো: হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে সুষম খাবার বেছে নাও এবং অতিরিক্ত তেল, চর্বি, শর্করা ও লবণ এড়াও।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।