পড়ার নোট
উদ্ভিদে পরিবহণের ধারণা হলো উদ্ভিদদেহের ভেতরে প্রয়োজনীয় পদার্থের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর। একটি গাছের মূল, কাণ্ড ও পাতা আলাদা কাজ করলেও তারা বিচ্ছিন্নভাবে বেঁচে থাকে না। পরিবহণের মাধ্যমে এক অংশের সংগৃহীত বা উৎপাদিত পদার্থ অন্য অংশ ব্যবহার করতে পারে।
বিষয়টি বুঝতে তিনটি প্রশ্ন করো: কোন পদার্থ চলছে, কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে, এবং কোন পথে যাচ্ছে? পানি ও খনিজ লবণের ক্ষেত্রে উৎস হলো মাটি। মূল এগুলো গ্রহণ করে এবং জাইলেমের মাধ্যমে কাণ্ড হয়ে পাতায় পৌঁছায়। পাতায় তৈরি খাদ্যের ক্ষেত্রে উৎপাদনের স্থান পাতা, আর গন্তব্য হতে পারে মূল, নতুন কুঁড়ি কিংবা ফল।
জাইলেম ভেসেল পানি ও খনিজের দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের পথ তৈরি করে। ফ্লোয়েমের সিভনল প্রস্তুত খাদ্য চলাচলের পথ। পানি ও খনিজের প্রধান প্রবাহ মূল থেকে ওপরের দিকে হলেও পাশের অংশেও বণ্টন হয়। খাদ্য প্রয়োজন অনুসারে ওপরের বা নিচের দিকে যায়; তাই সব পদার্থের চলার দিক এক নয়।
মাটি থেকে উদ্ভিদের ভেতরে পদার্থ গ্রহণকে শোষণ বলে। গ্রহণের পর সেই পদার্থ অন্য অংশে পৌঁছানো হলো পরিবহণ। দুটি ঘটনা সম্পর্কিত হলেও এক নয়। যেমন, মূল পানি শোষণ করলেই সেটি সঙ্গে সঙ্গে পাতার প্রতিটি কোষে পৌঁছে যায় না; তাকে ভেতরের পথ অতিক্রম করতে হয়।
এই চলাচলে অভিস্রবণ, ব্যাপন এবং প্রস্বেদনের মতো প্রক্রিয়া ভূমিকা রাখে। পরিবহণ একটি জীবদেহের কাজ হলেও এর পেছনে পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম কার্যকর থাকে। মানবদেহে হৃৎপিণ্ড রক্ত চালিয়ে অক্সিজেন ও খাদ্য পৌঁছায় এবং বর্জ্য অপসারণে সাহায্য করে; উদ্ভিদে পরিবহণের ব্যবস্থা ভিন্ন।
বাড়ির টবে একটি বেগুনগাছের গোড়ায় পানি দেওয়ার কথা ভাবো। পানি প্রথমে মূল গ্রহণ করে, পরে পাতায় যায়। পাতায় তৈরি খাদ্য আবার মাটি থেকে দূরে থাকা বেগুনে পৌঁছায়। এই উদাহরণে গ্রহণ, চলাচল এবং ব্যবহার তিনটি আলাদা ঘটনা বোঝা যায়।
সাধারণ ভুল হলো মাটি থেকে পানি নেওয়াকেই সম্পূর্ণ পরিবহণ বলা। পরিবহণের ধারণায় গাছের ভেতরের চলাচল এবং বিভিন্ন অংশে পদার্থ পৌঁছানোও অন্তর্ভুক্ত।
মনে রাখো: পরিবহণ বুঝতে পদার্থের উৎস, গন্তব্য ও চলাচলের পথ একসঙ্গে চিনতে হবে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।