offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৬ · টপিক ৩২

বাতজ্বর

পড়ার নোট

বাতজ্বর হলো স্ট্রেপটোকোকাসের সংক্রমণের পরে দেখা দিতে পারে এমন প্রদাহজনিত রোগ। গলার সংক্রমণ, টনসিলের প্রদাহ, স্কারলেট জ্বর বা মধ্যকর্ণের সংক্রমণের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। প্রথম আক্রমণ সাধারণত শৈশবে হয়। এটি দেহের বিভিন্ন অংশে প্রভাব ফেললেও হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেই ক্ষতি রক্ত সঞ্চালনকে দীর্ঘদিন ব্যাহত করতে পারে।

সংক্রমণের বিরুদ্ধে তৈরি দেহের রোগ প্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া কখনো নিজের টিস্যুকেও আঘাত করে। এতে গিঁট এবং হৃৎপিণ্ডে প্রদাহ হতে পারে। তাই বাতজ্বরকে শুধু গলায় জীবাণু থাকার আরেক নাম ভাবা ঠিক নয়। গলার সংক্রমণ ছড়াতে পারে, কিন্তু পরবর্তী বাতজ্বর নিজে সরাসরি ছোঁয়াচে রোগ নয়।

বাতজ্বরজনিত হৃদরোগ-এ হৃৎপেশি এবং কপাটিকা, অর্থাৎ রক্তপ্রবাহের দিক বজায় রাখতে সাহায্যকারী গঠন, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কপাটিকা স্বাভাবিকভাবে কাজ না করলে হৃৎপিণ্ড কার্যকরভাবে পর্যাপ্ত রক্ত পাঠাতে পারে না। ফলে দেহে রক্ত সরবরাহ কমে যায়। শুরুতে স্পষ্ট লক্ষণ না থাকলেও পরবর্তী সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।

লক্ষণগুলো একসঙ্গে বিচার করা দরকার:

  • জ্বর, অবসাদ, দুর্বলতা এবং ক্ষুধামান্দ্য থাকতে পারে।
  • ওজন কমা, রক্তশূন্যতা ও ফ্যাকাশে ভাব দেখা দিতে পারে।
  • গিঁট লাল হয়ে ফুলে যায় এবং ব্যথা হতে পারে।
  • বুক ধড়ফড়, বুকের অস্বস্তি বা ত্বকে লালচে দাগও দেখা দিতে পারে।

শুরুতে রোগ শনাক্ত করা কখনো কঠিন হয়। যেমন, গ্রামের একটি শিশুর গলাব্যথার পরে জ্বর ও হাঁটুর গিঁট ফুলে গেলে শুধু খেলতে গিয়ে আঘাত পেয়েছে মনে করা ঠিক নয়। তবে এই লক্ষণ দেখেই বাতজ্বর নিশ্চিত করাও ঠিক নয়; চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত হলে চিকিৎসকের নির্দেশে পেনিসিলিন ব্যবহার করা হয়। সংক্রমণের যথাযথ চিকিৎসা এবং পুনরায় আক্রমণ প্রতিরোধ গুরুত্বপূর্ণ। আগে বাতজ্বর হয়েছে এমন শিশুকে চিকিৎসক দীর্ঘদিন, কখনো প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত, নিয়মিত পেনিসিলিন দিতে পারেন। ওষুধের সময়কাল নিজে ঠিক করা উচিত নয়।

সাধারণ ভুল হলো গিঁটের ব্যথা কমলেই হৃৎপিণ্ডের কোনো ঝুঁকি নেই ভাবা।

মনে রাখো: বাতজ্বরের ক্ষেত্রে গিঁটের লক্ষণের পাশাপাশি হৃৎপেশি ও কপাটিকার সম্ভাব্য ক্ষতিও গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো