পড়ার নোট
রক্তে কোলেস্টেরল পরিবহনের জন্য চর্বিজাতীয় পদার্থ ও প্রোটিন মিলে লিপোপ্রোটিন তৈরি করে। কোলেস্টেরলের প্রকারভেদ বোঝার সময় মূলত এসব পরিবাহকের পার্থক্য এবং রক্তের চর্বির ধরন বিবেচনা করা হয়। সবগুলোর কাজ ও হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্ক এক নয়। তাই শুধু মোট পরিমাণ জানলে প্রতিটি উপাদানের ভূমিকা বোঝা যায় না।
LDL বা Low Density Lipoprotein হলো কম ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন। এটি যকৃৎ থেকে দেহের কোষে কোলেস্টেরল বহন করে। অতিরিক্ত LDL ধমনির প্রাচীরে কোলেস্টেরল জমার সঙ্গে সম্পর্কিত। জমা পদার্থে ধমনির পথ সরু হলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। হৃৎপিণ্ডের নিজস্ব রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে বলে LDL-কে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়।
HDL বা High Density Lipoprotein হলো বেশি ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন। এটি রক্ত ও দেহের বিভিন্ন স্থান থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল যকৃতে ফিরিয়ে নিতে সাহায্য করে। যকৃতের মাধ্যমে কোলেস্টেরল অপসারণের সঙ্গে এই পরিবহন সম্পর্কিত। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে বলে HDL-কে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়। LDL ও HDL-এর নামের ভালো বা খারাপ কথাটি তাদের এই ভিন্ন প্রভাব বোঝায়।
ট্রাইগ্লিসারাইড রক্তরসে থাকা আরেক ধরনের চর্বি। খাদ্যের প্রাণিজ চর্বি ও শর্করা থেকে এটি তৈরি হতে পারে এবং শক্তি সঞ্চয়ের সঙ্গে যুক্ত। অতিরিক্ত ট্রাইগ্লিসারাইডও হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
ধরো, পরিবারের একজন সদস্য প্রায়ই অতিরিক্ত ভাতের সঙ্গে চর্বিযুক্ত মাংস খান। শুধু খাবারে কোলেস্টেরল আছে কি না দেখলেই চলবে না; অতিরিক্ত শর্করা ও চর্বির সঙ্গে ট্রাইগ্লিসারাইডের সম্পর্কও বিবেচনা করতে হবে।
সাধারণ ভুল হলো সব ধরনের মাত্রা কম থাকাই ভালো ভাবা। LDL ও ট্রাইগ্লিসারাইড কম রাখার লক্ষ্য এবং HDL-এর সুরক্ষামূলক ভূমিকা একভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না।
মনে রাখো: LDL ঝুঁকি বাড়ায়, HDL সুরক্ষায় সাহায্য করে, আর ট্রাইগ্লিসারাইড একটি পৃথক রক্তের চর্বি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।