offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৬ · টপিক ২৩

রক্তচাপ ও পালসরেট এবং এদের পরিমাপ

পড়ার নোট

রক্তচাপ পরিমাপ

ধমনির প্রাচীরে প্রবাহিত রক্ত যে চাপ দেয়, তাকে রক্তচাপ বলে। হৃৎপিণ্ডের সংকোচন বা সিস্টোলের সময় চাপ সর্বাধিক হয়; এটি সিস্টোলিক চাপ। প্রসারণ বা ডায়াস্টোলের সময় চাপ সর্বনিম্ন হয়; এটি ডায়াস্টোলিক চাপ। প্রাপ্তবয়স্কের পরিচিত আদর্শ মান প্রায় 120/80 mm Hg; প্রথম সংখ্যাটি সিস্টোলিক এবং দ্বিতীয়টি ডায়াস্টোলিক চাপ বোঝায়। এখানে ভাগ করতে হয় না।

স্ফিগমোম্যানোমিটার বা বিপি যন্ত্র দিয়ে রক্তচাপ মাপা হয়। প্রচলিত একক মিলিমিটার পারদস্তম্ভ বা mm Hg; চাপের SI একক প্যাসকেল বা Pa। মাপার আগে কয়েক মিনিট শান্ত পরিবেশে বিশ্রাম নিতে হয়।

  • বাহুর কনুইয়ের উপরে কাফ জড়িয়ে তাতে বাতাস ঢোকানো হয়।
  • ধীরে বাতাস ছাড়ার সময় স্টেথোস্কোপ দিয়ে ধমনির শব্দ শোনা হয়।
  • প্রথম শব্দ শোনার চাপ সিস্টোলিক এবং শব্দ মিলিয়ে যাওয়ার চাপ ডায়াস্টোলিক চাপ হিসেবে লেখা হয়।
  • পুনরায় মাপলে 15–20 মিনিট ব্যবধান রাখা ভালো।

দুই চাপের পার্থক্য পালস প্রেসার: Pp=Ps−PdP_p=P_s-P_d। এখানে PpP_p পালস প্রেসার, PsP_s সিস্টোলিক এবং PdP_d ডায়াস্টোলিক চাপ; প্রত্যেকের SI একক Pa। অনুশীলনে ধরা যাক পাঠ 118/76 mm Hg। প্রথমে বড় মান থেকে ছোট মান বিয়োগ করি: 118−76=42118-76=42। অতএব পালস প্রেসার 42 mm Hg।

পালসরেট পরিমাপ

হৃৎস্পন্দনের ফলে ধমনির স্ফীতি ও সংকোচন হলো নাড়িস্পন্দন। এক মিনিটে এর সংখ্যা পালসরেট। কবজির রেডিয়াল ধমনিতে আঙুল রেখে এক মিনিট স্পন্দন গোনা যায়; ঘাড়ের ধমনিতেও স্পন্দন অনুভূত হয়। বিশ্রামরত প্রাপ্তবয়স্কের সাধারণ সীমা মিনিটে 60–100 বার; 70–80 বারও এই সীমার মধ্যে।

স্কুলের মাঠে দৌড়ানোর আগে ও পরে বন্ধুর পালস গুনে তুলনা করো। পরিশ্রমে পেশির অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ে বলে হৃৎপিণ্ড দ্রুত রক্ত পাঠায়। জ্বর বা মানসিক চাপেও পালস বাড়তে পারে; প্রশিক্ষিত খেলোয়াড়ের বিশ্রামকালীন পালস তুলনামূলক কম হতে পারে।

সাধারণ ভুল হলো পালসরেট ও পালস প্রেসারকে একই মনে করা। প্রথমটি স্পন্দনের হার, দ্বিতীয়টি চাপের পার্থক্য।

মনে রাখো: রক্তচাপের দুটি মান এবং প্রতি মিনিটের পালস আলাদা তথ্য দেয়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • প্রথম টক শব্দে কাঁটা কোথায়?চালিয়ে দেখো

    স্কুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় নার্স সাকিবের বাহুতে কাফ পেঁচিয়ে পাম্প করে ১৬০ mmHg পর্যন্ত চাপ দিলেন, তারপর ধীরে ধীরে বাতাস ছাড়তে লাগলেন আর স্টেথোস্কোপে শুনছেন। একসময় টক টক শব্দ শুরু হলো, পরে আবার থেমে গেল। প্রথম শব্দ শোনার মুহূর্তের পাঠকে কী বলে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. উদ্দীপকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—

    i. সুমনের বিশ্রামকালীন পালসরেট প্রতি মিনিটে ৭২ বার, যা স্বাভাবিক সীমার অন্তর্ভুক্ত

    ii. শরীরচর্চার পর তার প্রতি মিনিটে পালসরেট ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে

    iii. পেশিকোষে অতিরিক্ত অক্সিজেনের চাহিদা পূরণের জন্য এই পরিবর্তন ঘটেছে

    নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও ii

    2. খ

      i ও iii

    3. গ

      ii ও iii

    4. ঘ

      i, ii ও iii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) i, ii ও iii

    1. বিশ্রামরত অবস্থায় প্রতি মিনিটে পালসরেট 36×2=7236 \times 2 = 72 স্পন্দন/মিনিট, যা প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাভাবিক সীমার (৬০-১০০ স্পন্দন/মিনিট) অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং বিবৃতি i সঠিক।
    36×2=72 beats/min36 \times 2 = 72\text{ beats/min}
    1. শরীরচর্চার পর পালসরেট 54×2=10854 \times 2 = 108 স্পন্দন/মিনিট। শতকরা বৃদ্ধি = 108−7272×100%=50%\frac{108 - 72}{72} \times 100\% = 50\%, যা সক্রিয় পেশিকোষে শ্বসনের জন্য অতিরিক্ত অক্সিজেনের জোগান দিতে ঘটে; সুতরাং ii ও iii সঠিক।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো