পড়ার নোট
রক্তচাপ পরিমাপ
ধমনির প্রাচীরে প্রবাহিত রক্ত যে চাপ দেয়, তাকে রক্তচাপ বলে। হৃৎপিণ্ডের সংকোচন বা সিস্টোলের সময় চাপ সর্বাধিক হয়; এটি সিস্টোলিক চাপ। প্রসারণ বা ডায়াস্টোলের সময় চাপ সর্বনিম্ন হয়; এটি ডায়াস্টোলিক চাপ। প্রাপ্তবয়স্কের পরিচিত আদর্শ মান প্রায় 120/80 mm Hg; প্রথম সংখ্যাটি সিস্টোলিক এবং দ্বিতীয়টি ডায়াস্টোলিক চাপ বোঝায়। এখানে ভাগ করতে হয় না।
স্ফিগমোম্যানোমিটার বা বিপি যন্ত্র দিয়ে রক্তচাপ মাপা হয়। প্রচলিত একক মিলিমিটার পারদস্তম্ভ বা mm Hg; চাপের SI একক প্যাসকেল বা Pa। মাপার আগে কয়েক মিনিট শান্ত পরিবেশে বিশ্রাম নিতে হয়।
- বাহুর কনুইয়ের উপরে কাফ জড়িয়ে তাতে বাতাস ঢোকানো হয়।
- ধীরে বাতাস ছাড়ার সময় স্টেথোস্কোপ দিয়ে ধমনির শব্দ শোনা হয়।
- প্রথম শব্দ শোনার চাপ সিস্টোলিক এবং শব্দ মিলিয়ে যাওয়ার চাপ ডায়াস্টোলিক চাপ হিসেবে লেখা হয়।
- পুনরায় মাপলে 15–20 মিনিট ব্যবধান রাখা ভালো।
দুই চাপের পার্থক্য পালস প্রেসার: । এখানে পালস প্রেসার, সিস্টোলিক এবং ডায়াস্টোলিক চাপ; প্রত্যেকের SI একক Pa। অনুশীলনে ধরা যাক পাঠ 118/76 mm Hg। প্রথমে বড় মান থেকে ছোট মান বিয়োগ করি: । অতএব পালস প্রেসার 42 mm Hg।
পালসরেট পরিমাপ
হৃৎস্পন্দনের ফলে ধমনির স্ফীতি ও সংকোচন হলো নাড়িস্পন্দন। এক মিনিটে এর সংখ্যা পালসরেট। কবজির রেডিয়াল ধমনিতে আঙুল রেখে এক মিনিট স্পন্দন গোনা যায়; ঘাড়ের ধমনিতেও স্পন্দন অনুভূত হয়। বিশ্রামরত প্রাপ্তবয়স্কের সাধারণ সীমা মিনিটে 60–100 বার; 70–80 বারও এই সীমার মধ্যে।
স্কুলের মাঠে দৌড়ানোর আগে ও পরে বন্ধুর পালস গুনে তুলনা করো। পরিশ্রমে পেশির অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ে বলে হৃৎপিণ্ড দ্রুত রক্ত পাঠায়। জ্বর বা মানসিক চাপেও পালস বাড়তে পারে; প্রশিক্ষিত খেলোয়াড়ের বিশ্রামকালীন পালস তুলনামূলক কম হতে পারে।
সাধারণ ভুল হলো পালসরেট ও পালস প্রেসারকে একই মনে করা। প্রথমটি স্পন্দনের হার, দ্বিতীয়টি চাপের পার্থক্য।
মনে রাখো: রক্তচাপের দুটি মান এবং প্রতি মিনিটের পালস আলাদা তথ্য দেয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।