offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৬ · টপিক ৪

উদ্ভিদ ও পানির সম্পর্ক

পড়ার নোট

পানি উদ্ভিদের জীবিত থাকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। প্রোটোপ্লাজম হলো কোষের জীবন্ত উপাদান এবং জীবনের ভৌত ভিত্তি; এর প্রায় ৯০ শতাংশ পানি। পানি কমে গেলে প্রোটোপ্লাজম সংকুচিত হয় এবং স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। তীব্র পানির অভাবে বিপাকীয় বিক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই পানিকে জীবনের তরল বলা হয়।

পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো কোষের সজীবতা বজায় রাখা। পর্যাপ্ত পানি থাকলে কোষ স্ফীত থাকে। এই স্ফীত অবস্থার কারণে কচি পাতা ও নরম কাণ্ড দৃঢ় থাকে। পানি হারালে কোষের স্ফীতি কমে এবং পাতা নেতিয়ে পড়তে পারে। কোষের বৃদ্ধি ও উদ্ভিদের চলনেও পানির ভূমিকা আছে।

পানি সালোকসংশ্লেষণের কাঁচামাল। সবুজ পাতার ক্লোরোপ্লাস্টে আলোর উপস্থিতিতে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি হয়। ফলে পর্যাপ্ত আলো থাকলেও পানির সরবরাহ ব্যাহত হলে খাদ্য উৎপাদন স্বাভাবিক থাকে না। শুধু আলো দিয়ে উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির সব শর্ত পূরণ হয় না।

পানি একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্রাবক, অর্থাৎ এতে বিভিন্ন পদার্থ দ্রবীভূত হতে পারে। খনিজ লবণ পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় উদ্ভিদদেহে পরিবাহিত হয়। কোষের বহু বিপাকীয় বিক্রিয়ার জন্যও পানির উপস্থিতি দরকার। তাই পানি কেবল গাছ ভেজানো বা তৃষ্ণা মেটানোর উপাদান নয়।

উদ্ভিদ মূলের মাধ্যমে প্রধানত মাটি থেকে পানি গ্রহণ করে। পানি গ্রহণের সঙ্গে ইমবাইবিশন, ব্যাপন ও অভিস্রবণ সম্পর্কিত। গৃহীত পানির অল্প অংশ বিপাকীয় কাজে লাগে; অনেকটাই প্রস্বেদনে বাষ্প হিসেবে বের হয়। এই বাষ্পীভবন পাতা ঠান্ডা রাখে এবং নিচ থেকে পানি ও খনিজ ওঠার টান সৃষ্টিতে সাহায্য করে।

বাংলাদেশে শুষ্ক মৌসুমে ফসলের জমিতে সেচ দেওয়া হয়। মাটিতে পানি কম থাকলে মূল প্রয়োজনীয় পানি পায় না, অথচ পাতা দিয়ে পানি হারানো চলতে পারে। সেচ পানির সরবরাহ বজায় রেখে কোষের সজীবতা, খাদ্য উৎপাদন ও বৃদ্ধি চালু রাখতে সাহায্য করে।

সাধারণ ভুল হলো প্রস্বেদনে বের হওয়া সব পানিকে অর্থহীন অপচয় ভাবা। পানি হারানোর ঝুঁকি আছে, কিন্তু এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিবহণ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণও যুক্ত।

মনে রাখো: পানি প্রোটোপ্লাজমের সজীবতা, খাদ্য উৎপাদন, দ্রবণ তৈরি ও পরিবহণের জন্য অপরিহার্য।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • লবণ পানিতে আলুর সংকোচন: অভিস্রবণচালিয়ে দেখো

    সালাদ বা রান্নার জন্য আলুর টুকরায় লবণ মাখিয়ে রাখলে বা আলুর টুকরাকে লবণ পানিতে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে তা থেকে পানি বের হয়ে আলু নরম ও কুঁচকে যায়। একটি সতেজ আলুর (উদ্ভিদ কোষ) কোষরসের দ্রবের ঘনত্ব ০.৩ mol/L। আলুটিকে যদি ১.২ mol/L ঘনত্বের একটি লবণ দ্রবণে ডুবিয়ে রাখা হয়, তবে বৈষম্যভেদ্য কোষঝিল্লি ভেদ করে পানির সামগ্রিক প্রবাহ কোন দিকে ঘটবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. মুন্সীগঞ্জে রান্নার জন্য একটি সতেজ গোল আলুর (Solanum tuberosum) টুকরো গাঢ় লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখা হলো। আলুর কোষরসের ঘনত্বের চেয়ে বাইরের লবণ দ্রবণের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় বৈষম্যভেদ্য পর্দা ভেদ করে কোষ থেকে পানি বাইরে বেরিয়ে আলু নরম ও কুঁচকে গেল। এই প্রক্রিয়াটির নাম কী?

    1. ক

      বহিঃঅভিস্রবণ (Exosmosis)

    2. খ

      অন্তঃঅভিস্রবণ (Endosmosis)

    3. গ

      ইমবাইবিশন (Imbibition)

    4. ঘ

      ব্যাপন (Diffusion)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) বহিঃঅভিস্রবণ (Exosmosis)

    1. অভিস্রবণ হলো একটি বৈষম্যভেদ্য পর্দা দিয়ে পৃথক করা দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণের মধ্যে কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের দ্রবণের দিকে দ্রাবকের (পানির) স্বতঃস্ফূর্ত প্রবাহ।
    2. যখন কোনো জীবকোষকে পরিবেশের অতিসারক (hypertonic) বা অধিক ঘন দ্রবণে রাখা হয়, তখন কোষের ভেতর থেকে পানি বৈষম্যভেদ্য কোষঝিল্লি ভেদ করে বাইরে চলে আসে, যাকে বহিঃঅভিস্রবণ (Exosmosis) বলে। এর ফলে আলুর কোষরস হ্রাস পেয়ে তা সংকুচিত ও নরম হয়ে যায়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো