offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ১১

খনিজ সম্পদ: জীবাশ্ম

SSC Chemistry Chapter 11

  • ১৪টি টপিক
  • ৫টি সিমুলেশন
  • ১৫ পিরিয়ড

সিমুলেশন

টপিক

  1. পেট্রোলিয়ামের উপাদানসমূহ

    পড়ে নাও

    বহু প্রাচীন উদ্ভিদ ও প্রাণীর ধ্বংসাবশেষ মাটির নিচে শত শত মিলিয়ন বছর ধরে তাপ, চাপ ও বায়ুর অনুপস্থিতিতে রাসায়নিক পরিবর্তনে কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসে পরিণত হয়েছে; এদের জীবাশ্ম জ্বালানি বলে।

    পুরো টপিক পড়ো →

  2. পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার

    পড়ে নাও

    অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম সরাসরি ব্যবহার করা যায় না, কিন্তু আংশিক পাতনে আলাদা করা প্রতিটি অংশের নিজস্ব ব্যবহার আছে।

    পুরো টপিক পড়ো →

  3. হাইড্রোকার্বন

    হাইড্রোকার্বনের শ্রেণিবিভাগ

    পড়ে নাও

    শুধু কার্বন ও হাইড্রোজেন দিয়ে গঠিত যৌগকে হাইড্রোকার্বন বলে; যেমন মিথেন (CH₄), ইথিন (C₂H₄), সাইক্লোহেক্সেন (C₆H₁₂), বেনজিন (C₆H₆)। ১. অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন: 'অ্যালিফেটিক' মানে চর্বিজাতীয়।

    পুরো টপিক পড়ো →

  4. অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন

    পড়ে নাও

    হাইড্রোকার্বন প্রধানত দুই প্রকার: অ্যালিফেটিক ও অ্যারোমেটিক। 'অ্যারোমেটিক' শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ 'অ্যারোমা' থেকে, যার অর্থ সুগন্ধ। প্রথম যে অ্যারোমেটিক যৌগগুলো পাওয়া গিয়েছিল সেগুলো মিষ্টি গন্ধযুক্ত ছিল বলে এ নাম।

    পুরো টপিক পড়ো →

  5. সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের প্রস্তুতির বিক্রিয়া ও ধর্ম

    পড়ে নাও

    প্রস্তুতি: নিকেল প্রভাবকে 250°C তাপমাত্রায়: CO₂ + 4H₂ → CH₄ + 2H₂O অ্যালকিন বা অ্যালকাইনে হাইড্রোজেন যোগ করে (Ni, 180–200°C): CH₂=CH₂ + H₂ → CH₃-CH₃ সোডিয়াম ইথানয়েটকে সোডা লাইম দিয়ে উত্তপ্ত করে: CH₃COONa + NaOH →…

    পুরো টপিক পড়ো →

  6. পলিমার

    সংযোজন বা যুত পলিমার · ঘনীভবন পলিমার

    পড়ে নাও

    যে বিক্রিয়ায় কোনো পদার্থের অনেকগুলো ক্ষুদ্র অণু পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি বৃহৎ অণু গঠন করে, তাকে পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলে। অংশগ্রহণকারী ছোট অণুগুলো মনোমার, আর তৈরি হওয়া বৃহৎ অণু পলিমার।

    পুরো টপিক পড়ো →

  7. প্লাস্টিক দ্রব্য

    প্লাস্টিক প্রস্তুতি (পলিমারকরণ বিক্রিয়া)

    পড়ে নাও

    যে বিক্রিয়ায় কোনো পদার্থের অনেকগুলো ক্ষুদ্র অণু পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি বৃহৎ অণু গঠন করে, তাকে পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলে। প্রতিটি ছোট অণু মনোমার, আর তৈরি বৃহৎ অণু পলিমার।

    পুরো টপিক পড়ো →

  8. পরিবেশের উপর প্লাস্টিক দ্রব্যের প্রভাব

    পড়ে নাও

    বর্তমান বিশ্বে প্লাস্টিকজাতীয় কৃত্রিম পলিমার ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হচ্ছে। থালাবাসন, পাইপ, কন্টেইনার, ব্যাগসহ অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস প্লাস্টিকের তৈরি; এগুলো আগে ধাতু, তুলা, পাট, রেশম ও কাঠ দিয়ে তৈরি হতো।

    পুরো টপিক পড়ো →

  9. ছবি ও ভিডিওতে পরিবেশের উপর প্লাস্টিক দ্রব্যের প্রভাব

    পড়ে নাও

    প্লাস্টিকের ক্ষতি নিজের চোখে দেখলে বিষয়টি সহজে বোঝা যায়। তাই এলাকায় ঘুরে বা নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে একটি উপস্থাপনা তৈরি করা একটি কার্যকর শিক্ষণ কাজ।

    পুরো টপিক পড়ো →

  10. প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলিয়ামের যথাযথ ব্যবহার

    পড়ে নাও

    প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম জীবাশ্ম জ্বালানি; শত শত মিলিয়ন বছরে তৈরি হয়েছে, তাই একবার ফুরিয়ে গেলে আর পাওয়া যাবে না। এগুলো পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয় এবং সালফারযুক্ত জ্বালানি পোড়ালে বায়ু দূষিত হয়।

    পুরো টপিক পড়ো →

  11. বাড়ির কাজ: প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের উপকারিতা

    পড়ে নাও

    বাড়ির কাজ: প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের উপকারিতা

    প্রাকৃতিক গ্যাস আর পেট্রোলিয়াম আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ জীবাশ্ম জ্বালানি। এগুলো মাটির নিচে লক্ষ কোটি বছর ধরে উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে তৈরি হয়েছে।

    প্রাকৃতিক গ্যাসের উপকারিতা:

    • এটি মূলত মিথেন (CH4CH_4) দিয়ে তৈরি, যা পরিষ্কার জ্বালানি। জ্বালালে কম ধোঁয়া ও কম দূষণ হয়।
    • বাড়িতে রান্নার কাজে এটি ব্যবহার করা হয়। আমাদের রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে যে গ্যাস থাকে, তা মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে পাওয়া প্রোপেন বা বিউটেন।
    • বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এটি কয়লার চেয়ে পরিবেশবান্ধব এবং দ্রুত শক্তি দেয়।
    • সার (যেমন ইউরিয়া) তৈরির কাঁচামাল হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়।

    পেট্রোলিয়ামের উপকারিতা:

    • পেট্রোলিয়াম হলো বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। এটি থেকে পাওয়া যায় পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, লুব্রিকেটিং তেল ইত্যাদি।
    • পেট্রোল আর ডিজেল গাড়ি, ট্রাক, ট্রাক্টর, রিকশা মোটর ইঞ্জিনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
    • কেরোসিন ছোট ছোট চুলায় রান্না বা ল্যাম্পে আলো জ্বালাতে ব্যবহার করা হয়।
    • পেট্রোলিয়াম থেকে প্লাস্টিক, কাপড়, রং, কীটনাশক ইত্যাদি তৈরি করা হয়।

    NCTB গাইডলাইন অনুযায়ী, রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের চেয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অন্যান্য দ্রব্য তৈরিতে এগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলো সীমিত সম্পদ, তাই সঠিকভাবে ব্যবহার করা জরুরি।

    মনে রাখো: প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম শুধু রান্না বা গাড়ি চালানোর জন্য নয়, বিদ্যুৎ, সার, প্লাস্টিক ইত্যাদি তৈরির জন্যও অপরিহার্য।

  12. অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড ও জৈব এসিডের প্রস্তুতিতে হাইড্রোকার্বনের ব্যবহার

    অ্যালকোহলের ব্যবহার · অ্যালডিহাইডের ব্যবহার · জৈব এসিডের ব্যবহার

    পড়ে নাও

    পেট্রোলিয়ামের প্রধান উপাদান হাইড্রোকার্বন, এবং এ থেকে অ্যালকোহল (R-OH), অ্যালডিহাইড (R-CHO) ও জৈব এসিড (R-COOH) তৈরি করা যায়।

    পুরো টপিক পড়ো →

  13. পরিবেশের উপর প্লাস্টিক দ্রব্যের প্রভাব সম্পর্কিত অনুসন্ধানমূলক কাজ

    পড়ে নাও

    প্লাস্টিক মাটিতে পচে কি না, তা হাতে-কলমে একটি অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা যায়। রসায়নের গবেষণার ধাপগুলো এখানে প্রয়োগ করা হয়।

    পুরো টপিক পড়ো →

  14. পরীক্ষার মাধ্যমে জৈব ও অজৈব যৌগের পার্থক্যকরণ

    পড়ে নাও

    এ অধ্যায়ের সব যৌগ জৈব যৌগ। সাধারণত জৈব যৌগ সমযোজী বন্ধনে আর অজৈব যৌগ আয়নিক বন্ধনে গঠিত।

    পুরো টপিক পড়ো →

শিখনফল

  • জীবাশ্ম জ্বালানির ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • পেট্রোলিয়ামকে জৈব যৌগের মিশ্রণ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • হাইড্রোকার্বনের ধারণা ও শ্রেণিবিভাগ ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের প্রস্তুতির বিক্রিয়া ও ধর্ম ব্যাখ্যা এবং এদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে।
  • প্লাস্টিক দ্রব্য ও তন্তু তৈরির রাসায়নিক বিক্রিয়া এবং এর ব্যবহার বর্ণনা করতে পারবে।
  • পরিবেশের ওপর প্লাস্টিক দ্রব্য যথাযথ ব্যবহার না করার কুফল উল্লেখ করতে পারবে।
  • প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম এবং কয়লা ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা ও ব্যবহারের কৌশল ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • হাইড্রোকার্বন থেকে অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড ও জৈব এসিডের প্রস্তুতির কৌশল ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড ও জৈব এসিডের ব্যবহার ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • পরিবেশের উপর প্লাস্টিক দ্রব্যের প্রভাব সম্পর্কিত অনুসন্ধানমূলক কাজ করতে পারবে।
  • পরীক্ষার মাধ্যমে জৈব ও অজৈব যৌগের মধ্যে পার্থক্য করে দেখাতে পারবে।
  • জীবাশ্ম জ্বালানির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা প্রদর্শন করবে।

এই অধ্যায়ের পার্থক্য ও গাইড

এই অধ্যায়ের সূত্র

  • জৈব ও অজৈব যৌগ শনাক্তকরণ: তাপে কার্বন অবশেষ
    C12H22O11→Δ12C+11H2O\text{C}_{12}\text{H}_{22}\text{O}_{11} \xrightarrow{\Delta} 12\text{C} + 11\text{H}_2\text{O}
    সিমুলেশনে দেখো →
  • হাইড্রোকার্বনের সমগোত্রীয় শ্রেণি: অ্যালকেন, অ্যালকিন ও অ্যালকাইন
    CnH2n+2  (alkane),CnH2n  (alkene),CnH2n−2  (alkyne)\text{C}_n\text{H}_{2n+2} \;\text{(alkane)},\quad \text{C}_n\text{H}_{2n} \;\text{(alkene)},\quad \text{C}_n\text{H}_{2n-2} \;\text{(alkyne)}
    সিমুলেশনে দেখো →
  • হাইড্রোকার্বন থেকে অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড ও জৈব এসিড
    CH2=CH2→H2O, H3PO4C2H5OH→[O]CH3CHO→[O]CH3COOH\text{CH}_2\text{=CH}_2 \xrightarrow{\text{H}_2\text{O, H}_3\text{PO}_4} \text{C}_2\text{H}_5\text{OH} \xrightarrow{[O]} \text{CH}_3\text{CHO} \xrightarrow{[O]} \text{CH}_3\text{COOH}
    সিমুলেশনে দেখো →
  • প্লাস্টিক ও পলিমারকরণ
    n CH2=CH2→(-CH2-CH2-)nn\,\text{CH}_2\text{=CH}_2 \rightarrow (\text{-CH}_2\text{-CH}_2\text{-})_n
    সিমুলেশনে দেখো →
  • হাইড্রোকার্বনের শিকলের দৈর্ঘ্য ও স্ফুটনাংক: আংশিক পাতন
    CnH2n+2(M=14n+2)\text{C}_n\text{H}_{2n+2} \quad (M = 14n + 2)
    সিমুলেশনে দেখো →

এই বিষয়ের সব সূত্র →

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

রাজশাহীর একটি মডেল স্কুলের পরীক্ষাগারে রসায়ন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কয়েকটি জৈব যৌগের পারস্পরিক রূপান্তরের পরীক্ষা প্রদর্শন করলেন: পরীক্ষা-১: ইথানলকে অতিরিক্ত গাঢ় সালফিউরিক এসিডসহ ১৬০°C–১৭০°C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করে একটি অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গ্যাস P প্রস্তুত করা হলো। পরীক্ষা-২: গ্যাস P এর মধ্যে লাল বর্ণের ব্রোমিন দ্রবণ যোগ করায় লাল বর্ণ তাৎক্ষণিকভাবে অপসারিত হয়ে বর্ণহীন সম্পৃক্ত যৌগ Q উৎপন্ন হলো। পরীক্ষা-৩: ইথানলকে সালফিউরিক এসিড মিশ্রিত পটাসিয়াম ডাইক্রোমেট (K₂Cr₂O₇ + H₂SO₄) সহযোগে নিয়ন্ত্রিত জারণ ঘটিয়ে প্রথমে অ্যালডিহাইড R এবং পরবর্তীতে তীব্র ঝাঁজালো গন্ধযুক্ত একটি জৈব এসিড S প্রস্তুত করা হলো।

  1. ক

    জীবাশ্ম জ্বালানি (fossil fuel) কাকে বলে?

    উত্তর দেখাও

    শত শত মিলিয়ন বছর পূর্বে মাটির নিচে চাপা পড়ে যাওয়া মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ ভূগর্ভস্থ উচ্চ তাপ ও চাপে রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে রূপান্তরিত হয়ে যে জ্বালানি (যেমন প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ও কয়লা) সৃষ্টি হয়, তাকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে।

  2. খ

    অ্যালকেনসমূহকে কেন 'প্যারাফিন' বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর দেখাও

    ল্যাটিন শব্দ 'প্যারা' (parum) অর্থ কম এবং 'অ্যাফিন' (affinis) অর্থ আসক্তি; অর্থাৎ 'প্যারাফিন' শব্দের অর্থ আসক্তিহীন বা স্বল্প আসক্তিযুক্ত। অ্যালকেনের কার্বন শিকলে কার্বন-কার্বন (C–C) এবং কার্বন-হাইড্রোজেন (C–H) একক সমযোজী সিগমা বন্ধন থাকে, যা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এদের ভাঙতে অনেক শক্তির প্রয়োজন হয়। ফলে সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে অ্যালকেন এসিড, ক্ষার বা সাধারণ জারক-বিজারকের সাথে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহ দেখায় না বলে এদেরকে প্যারাফিন বলা হয়।

  3. গ

    উদ্দীপকের পরীক্ষা-১ ও পরীক্ষা-২ এ সংঘটিত রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো সমীকরণসহ দেখাও এবং কীভাবে বিক্রিয়াটি গ্যাস P এর অসম্পৃক্ততা প্রমাণ করে তা বর্ণনা করো।

    উত্তর দেখাও

    ১. পরীক্ষা-১ এর বিক্রিয়া (নিরুদন): ইথানলকে অতিরিক্ত গাঢ় সালফিউরিক এসিডসহ ১৬০°C–১৭০°C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে নিরুদন বিক্রিয়ার মাধ্যমে পানি অপসারিত হয়ে ইথিন (গ্যাস P) উৎপন্ন হয়: CH₃CH₂OH -(গাঢ় H₂SO₄, ১৬০°C–১৭০°C)-> CH₂=CH₂ + H₂O।

    ২. পরীক্ষা-২ এর বিক্রিয়া (সংযোজন): ইথিন (P) এর মধ্যে লাল ব্রোমিন দ্রবণ যোগ করলে দ্বিবন্ধন ভেঙে সংযোজন বিক্রিয়ায় বর্ণহীন ১,২-ডাইব্রোমোইথেন (যৌগ Q) উৎপন্ন হয়: CH₂=CH₂ + Br₂ (লাল) → CH₂Br–CH₂Br (বর্ণহীন)।

    ৩. অসম্পৃক্ততার প্রমাণ: সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন (যেমন মিথেন বা ইথেন) সাধারণ অবস্থায় ব্রোমিনের সাথে বিক্রিয়া করে না, ফলে ব্রোমিনের লাল বর্ণ অপরিবর্তিত থাকে। কিন্তু গ্যাস P (ইথিন) ব্রোমিনের লাল দ্রবণের সাথে বিক্রিয়া করে তৎক্ষণাৎ তার লাল বর্ণ বিনষ্ট করে বর্ণহীন যৌগে পরিণত করে। ব্রোমিনের লাল বর্ণ দূরীকরণের এই পরীক্ষাটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে যে গ্যাস P একটি অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন।

  4. ঘ

    উদ্দীপকের পরীক্ষা-৩ এ যৌগ R ও S তৈরির রাসায়নিক সমীকরণ দাও। খাদ্য সংরক্ষণ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে যৌগ S এর উপযোগিতা বিশ্লেষণ করো।

    উত্তর দেখাও

    ১. যৌগ R ও S তৈরির সমীকরণ: সালফিউরিক এসিড ও পটাসিয়াম ডাইক্রোমেটের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন জায়মান অক্সিজেন [O] ইথানলকে জারিত করে প্রথমে ইথান্যাল (যৌগ R) উৎপন্ন করে: CH₃CH₂OH + [O] -(K₂Cr₂O₇ + H₂SO₄)-> CH₃CHO + H₂O। উৎপন্ন ইথান্যাল (R) পুনরায় জায়মান অক্সিজেন দ্বারা দ্রুত জারিত হয়ে ইথানয়িক এসিড (যৌগ S) তৈরি করে: CH₃CHO + [O] -(K₂Cr₂O₇ + H₂SO₄)-> CH₃COOH।

    ২. খাদ্য সংরক্ষণে ভূমিকা: ইথানয়িক এসিডের ৪%–১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়। বাংলাদেশে গৃহস্থালিতে মাছ, মাংস ও ঐতিহ্যবাহী আচার (যেমন আম, জলপাই ও রসুনের আচার) সংরক্ষণে ভিনেগার ব্যবহৃত হয়। ভিনেগার খাদ্যবস্তুর অম্লত্ব বৃদ্ধি করে pH মান ৩.৫–৪.০ এ নামিয়ে আনে। এই অম্লীয় পরিবেশে খাদ্য পচনকারী ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব বাঁচতে পারে না এবং তাদের বৃদ্ধি ও বিস্তার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

    ৩. গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক তাৎপর্য: বাংলাদেশে মৌসুমে প্রচুর আম, চালতা, বরই ও শাকসবজি উৎপাদিত হয়, যা সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বল্পমূল্যে হাইড্রোকার্বন ও শিল্পজাত ভিনেগার ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে ঘরে ঘরে আচার ও খাদ্য সংরক্ষণ কারখানা গড়ে তোলা যায়। এটি একদিকে খাদ্যের অপচয় রোধ করে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং অন্যদিকে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি করে।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার নিয়ম →