পড়ার নোট
বহু প্রাচীন উদ্ভিদ ও প্রাণীর ধ্বংসাবশেষ মাটির নিচে শত শত মিলিয়ন বছর ধরে তাপ, চাপ ও বায়ুর অনুপস্থিতিতে রাসায়নিক পরিবর্তনে কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসে পরিণত হয়েছে; এদের জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। বড় উদ্ভিদ থেকে কয়লা, আর ফাইটোপ্লাংকটন, জুওপ্লাংকটন ও মৃত প্রাণীর দেহাবশেষ থেকে পেট্রোলিয়াম তৈরি হয়েছে। পেট্রোলিয়াম আরও পরিবর্তিত হয়ে প্রাকৃতিক গ্যাস হয়, তাই হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাসের সাথে পেট্রোলিয়ামও পাওয়া গেছে।
অপরিশোধিত তেল
পেট্রোলিয়াম সাধারণত 5000 ফুট বা আরও গভীরে শিলাস্তরে থাকে। কূপ খুঁড়লে উপরের গ্যাসের চাপে তেল উঠে আসে। কূপ থেকে সরাসরি পাওয়া তেলকে অপরিশোধিত তেল বলে; এটি অস্বচ্ছ, সালফার যৌগের জন্য দুর্গন্ধযুক্ত এবং বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ, তাই সরাসরি ব্যবহার করা যায় না।
আংশিক পাতনে পৃথকীকরণ
উপাদানগুলোর স্ফুটনাঙ্ক ভিন্ন বলে আংশিক পাতন কলামে এদের আলাদা করা হয়। কলামের নিচে তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি, উপরে ক্রমে কম। বাষ্পীভূত তেল উপরে ওঠার সময় প্রতিটি অংশ তার স্ফুটনাঙ্কের উপযোগী উচ্চতায় ঘনীভূত হয়।
| অংশ | স্ফুটনাঙ্ক | কার্বন সংখ্যা | পেট্রোলিয়ামে পরিমাণ |
|---|---|---|---|
| পেট্রোলিয়াম গ্যাস | 0–20°C | 1–4 | 2% |
| পেট্রোল (গ্যাসোলিন) | 21–70°C | 5–10 | 5% |
| ন্যাপথা | 71–120°C | 7–14 | 10% |
| কেরোসিন | 121–170°C | 11–16 | 13% |
| ডিজেল | 171–270°C | 17–20 | — |
| প্যারাফিন মোম | 271–340°C | 20–30 | — |
| পিচ | 340°C এর বেশি | 30 এর বেশি | — |
কার্বন সংখ্যা যত বেশি, স্ফুটনাঙ্ক তত বেশি, তাই ভারী অংশ কলামের নিচে থাকে।
প্রাকৃতিক গ্যাস
প্রধান উপাদান মিথেন; এ ছাড়া ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন, আইসোবিউটেন ও পেন্টেন থাকে। বাংলাদেশের গ্যাসে মিথেন 93–98%।
উদাহরণ: 1000 লিটার অপরিশোধিত তেল থেকে প্রায় কত লিটার কেরোসিন ও পেট্রোল পাওয়া যাবে? কেরোসিন লিটার, পেট্রোল লিটার।
মনে রাখো: পেট্রোলিয়াম বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ, যা আংশিক পাতনে স্ফুটনাঙ্ক অনুযায়ী পেট্রোলিয়াম গ্যাস, পেট্রোল, ন্যাপথা, কেরোসিন, ডিজেল, প্যারাফিন মোম ও পিচে আলাদা হয়; প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।