offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ১১ · টপিক ২

পেট্রোলিয়ামের ব্যবহার

পড়ার নোট

অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম সরাসরি ব্যবহার করা যায় না, কিন্তু আংশিক পাতনে আলাদা করা প্রতিটি অংশের নিজস্ব ব্যবহার আছে।

বিভিন্ন অংশের ব্যবহার

  • পেট্রোলিয়াম গ্যাস: চাপ দিয়ে তরল করে সিলিন্ডারে ভরা হয়; এই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে তাপ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
  • পেট্রোল বা গ্যাসোলিন: যানবাহনের ইঞ্জিনের জ্বালানি।
  • ন্যাপথা: জ্বালানি হিসেবে এবং পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও প্রয়োজনীয় দ্রব্য তৈরিতে।
  • কেরোসিন: জেট ইঞ্জিনের জ্বালানি।
  • ডিজেল: যানবাহনের জ্বালানি, পিচ্ছিলকারক ও দ্রাবক।
  • প্যারাফিন মোম: প্রসাধন সামগ্রী ও ভ্যাসলিন তৈরিতে।
  • পিচ: রাস্তা নির্মাণে।

জ্বালানি ছাড়াও কাঁচামাল

পেট্রোলিয়ামের প্রধান উপাদান হাইড্রোকার্বন (অ্যালকেন, অ্যালকিন, অ্যালকাইন), আর এ থেকে অ্যালকোহল, অ্যালডিহাইড ও জৈব এসিড তৈরি করা যায়। পেট্রোলিয়াম থেকে পাওয়া ইথিন থেকে পলিথিন এবং প্রোপিন থেকে পলিপ্রোপিন তৈরি হয়। তাই পেট্রোলিয়াম শুধু জ্বালানি নয়, প্লাস্টিক ও নানা রাসায়নিক শিল্পের কাঁচামালও।

প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার

আমাদের দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস রান্না, যানবাহনের জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মিথেনের দহনে তাপ পাওয়া যায়:

CH4+2O2→CO2+2H2O\mathrm{CH_4 + 2O_2 \rightarrow CO_2 + 2H_2O} + তাপ

উদাহরণ: নিচের প্রতিটি কাজে পেট্রোলিয়ামের কোন অংশ লাগে?

কাজঅংশ
বাসায় সিলিন্ডারে রান্নাপেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG)
মোটরসাইকেল চালানোপেট্রোল
বাস ও ট্রাক চালানোডিজেল
উড়োজাহাজের জেট ইঞ্জিনকেরোসিন
ঠোঁটের ভ্যাসলিনপ্যারাফিন মোম
রাস্তা পাকা করাপিচ
প্লাস্টিক কারখানার কাঁচামালন্যাপথা ও এর থেকে পাওয়া হাইড্রোকার্বন

সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে পেট্রোল আর পেট্রোলিয়াম একই জিনিস। পেট্রোলিয়াম হলো অপরিশোধিত তেলের পুরো মিশ্রণ, আর পেট্রোল তার একটি অংশমাত্র।

মনে রাখো: পেট্রোলিয়ামের অংশগুলো রান্না (LPG), যানবাহন (পেট্রোল, ডিজেল), জেট ইঞ্জিন (কেরোসিন), প্রসাধনী (প্যারাফিন মোম) ও রাস্তা (পিচ) সহ নানা কাজে লাগে, আর এটি প্লাস্টিক ও রাসায়নিক শিল্পের কাঁচামালও।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পেট্রোলিয়ামের আংশিক পাতনচালিয়ে দেখো

    চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ERL) অপরিশোধিত পেট্রোলিয়ামকে ৪০০°C তাপে উত্তপ্ত করে বাষ্প আকারে আংশিক পাতন কলামে প্রবেশ করানো হয়। কলামের নিচে তাপমাত্রা বেশি (৩৫০°C) এবং ওপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে (২০°C)। হাইড্রোকার্বনের বাষ্প ওপরে ওঠার সময় ট্রে-এর তাপমাত্রা তার স্ফুটনাংকের সমান বা নিচে নামলে তবেই ঘনীভূত হয়ে তরল হয়। যেমন— ১২টি কার্বনযুক্ত কেরোসিন (C₁₂H₂₆, স্ফুটনাংক ২১৬°C) নিচের দিকের ২০০°C তাপমাত্রার ট্রেতেই ঘনীভূত হয়। পেট্রোলের প্রধান উপাদান অকটেনে ৮টি কার্বন পরমাণু থাকে (C₈H₁₈) এবং এর স্ফুটনাংক ১২৬°C। অকটেন বাষ্প কলামের কোন ট্রেতে ঘনীভূত হয়ে তরল হিসেবে জমা হবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়ামকে আংশিক পাতন কলামে পৃথক করা হয়। সেখানে ১২১°C থেকে ১৭০°C স্ফুটনাংক পরিসরে কোন অংশটি বাষ্পীভূত ও ঘনীভূত হয়ে পৃথক হয়, যা সাধারণত জেট বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়?

    1. ক

      পেট্রোল বা গ্যাসোলিন (স্ফুটনাংক ২১°C–৭০°C)

    2. খ

      ন্যাফথা (স্ফুটনাংক ৭১°C–১২০°C)

    3. গ

      কেরোসিন (স্ফুটনাংক ১২১°C–১৭০°C)

    4. ঘ

      ডিজেল (স্ফুটনাংক ১৭১°C–২৭০°C)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) কেরোসিন (স্ফুটনাংক ১২১°C–১৭০°C)

    1. পেট্রোলিয়ামের আংশিক পাতন কলামে ১২১°C থেকে ১৭০°C তাপমাত্রা পরিসরে পাতিত অংশটি হলো কেরোসিন, যার হাইড্রোকার্বন শিকলে সাধারণত ১১ থেকে ১৬টি কার্বন পরমাণু (C₁₁–C₁₆) থাকে।
    2. কেরোসিন পেট্রোলিয়ামের প্রায় ১৩% অংশ জুড়ে থাকে এবং এটি জেট বিমানের জ্বালানি ও বাংলাদেশে গৃহস্থালির রান্নার কাজে স্টোভের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো