পড়ার নোট
যে বিক্রিয়ায় কোনো পদার্থের অনেকগুলো ক্ষুদ্র অণু পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি বৃহৎ অণু গঠন করে, তাকে পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলে। অংশগ্রহণকারী ছোট অণুগুলো মনোমার, আর তৈরি হওয়া বৃহৎ অণু পলিমার। দুটি মনোমার যুক্ত হলে ডাইমার, তিনটি হলে ট্রাইমার। প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডের পলিমার।
গঠন অনুযায়ী পলিমার দুই রকম।
সংযোজন (যুত) পলিমার
মনোমার অণুগুলো সরাসরি যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শিকল তৈরি করলে তাকে সংযোজন পলিমারকরণ বলে, এতে কিছু বাদ যায় না।
- পলিথিন: । ব্যাগ ও শিট তৈরি হয়।
- পলিপ্রোপিন: প্রোপিন থেকে, দড়ি, বোতল ও পাইপ হয়। পলিথিনের চেয়ে মজবুত ও উচ্চ তাপ সহ্য করতে পারে।
- পিভিসি (PVC): ভিনাইল ক্লোরাইড থেকে; পানির পাইপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী পদার্থ হয়।
ঘনীভবন পলিমার
মনোমারগুলো যুক্ত হওয়ার সময় , এর মতো ক্ষুদ্র অণু বেরিয়ে গেলে তাকে ঘনীভবন পলিমারকরণ বলে। নাইলন ৬:৬ এর উদাহরণ: অ্যাডিপিক এসিড ও হেক্সামিথিলিন ডাই-অ্যামিন উত্তপ্ত করলে নাইলন ও পানি তৈরি হয়। নাইলন চকচকে, টেকসই ও নমনীয়; কৃত্রিম কাপড়, রশি ও দাঁতের ব্রাশ বানাতে লাগে।
উৎস অনুযায়ীও পলিমার দুই ভাগে বিভক্ত:
- প্রাকৃতিক পলিমার: সেলুলোজ ও স্টার্চ (গ্লুকোজ থেকে), প্রোটিন, রাবার।
- কৃত্রিম পলিমার বা প্লাস্টিক: পলিথিন, পিভিসি, নাইলন ইত্যাদি।
মনে রাখো: সংযোজন পলিমারে মনোমার সরাসরি যুক্ত হয়, কিছু বাদ যায় না; ঘনীভবন পলিমারে যুক্ত হওয়ার সময় পানির মতো ক্ষুদ্র অণু বেরিয়ে যায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।