পড়ার নোট
বর্তমান বিশ্বে প্লাস্টিকজাতীয় কৃত্রিম পলিমার ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হচ্ছে। থালাবাসন, পাইপ, কন্টেইনার, ব্যাগসহ অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস প্লাস্টিকের তৈরি; এগুলো আগে ধাতু, তুলা, পাট, রেশম ও কাঠ দিয়ে তৈরি হতো। কিন্তু প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
কেন প্লাস্টিক পরিবেশের ক্ষতি করে
আমরা মাটি বা পানিতে যা ফেলি, তা সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, বায়ুর অক্সিজেন বা মাটি-পানির অন্য পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু প্লাস্টিক ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, অন্য পদার্থের সাথেও বিক্রিয়া করে না। তাই মাটি বা পানিতে ফেললে তা বছরের পর বছর একই রকম থেকে যায়।
ক্ষতির ধরন
- মাটি দূষণ: মাটিতে জমা প্লাস্টিক পানি ও বাতাস চলাচলে বাধা দেয়, মাটির গুণাগুণ নষ্ট করে।
- পানি দূষণ: নদী, খাল ও জলাশয়ে প্লাস্টিক জমে পানি দূষিত হয়; জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- নালা বন্ধ হওয়া: পলিথিন ব্যাগ নালা ও ড্রেনে আটকে পানি চলাচল বন্ধ করে দেয়।
- বায়ু দূষণ: প্লাস্টিক পোড়ালে বা গলালে অনেক বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়।
- ভারসাম্য নষ্ট: সব মিলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
আমাদের করণীয়
- প্লাস্টিক যেখানে-সেখানে না ফেলে সংরক্ষণ করে প্রক্রিয়াজাত (রিসাইক্লিং) করে পুনরায় ব্যবহার করা।
- কাঠ, ধাতু ও পাটের মতো প্রাকৃতিক তন্তুর ব্যবহার বাড়ানো; যেমন বাজারে পলিথিনের বদলে পাটের বা কাপড়ের ব্যাগ।
- প্লাস্টিক পোড়ানো থেকে বিরত থাকা।
- বিজ্ঞানীরা পচনশীল প্লাস্টিক তৈরির চেষ্টা করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সফলও হয়েছেন; অদূর ভবিষ্যতে বাজারে এ ধরনের দ্রব্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।
উদাহরণ: একটি পরিবার প্রতিদিন বাজার থেকে 4টি পলিথিন ব্যাগ আনে। এক বছরে কতটি ব্যাগ জমে? টি। এগুলো পচে না, তাই ফেলে দিলে সবগুলোই মাটি বা পানিতে থেকে যাবে। একটি পাটের ব্যাগ বারবার ব্যবহার করলে এর প্রায় সবই বাঁচানো যায়।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে প্লাস্টিক পুড়িয়ে ফেললেই সমস্যার সমাধান। পোড়ালে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়ে বায়ু দূষিত হয়।
মনে রাখো: প্লাস্টিক ব্যাকটেরিয়ায় পচে না এবং অন্য পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে মাটি ও পানি দূষিত করে; পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা, প্রাকৃতিক তন্তু ব্যবহার এবং পচনশীল প্লাস্টিক এর সমাধান।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।