পড়ার নোট
এ অধ্যায়ের সব যৌগ জৈব যৌগ। সাধারণত জৈব যৌগ সমযোজী বন্ধনে আর অজৈব যৌগ আয়নিক বন্ধনে গঠিত। দুই ধরনের যৌগের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে:
| জৈব যৌগ | অজৈব যৌগ |
|---|---|
| সাধারণত কার্বন অবশ্যই থাকে; যেমন মিথেন () | দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া কার্বন থাকে না; যেমন হাইড্রোজেন সালফাইড () |
| বিক্রিয়া হতে সাধারণত বেশি সময় লাগে | বিক্রিয়া হতে সাধারণত কম সময় লাগে |
| সাধারণত সমযোজী বন্ধনে গঠিত | সাধারণত আয়নিক বা সমযোজী বন্ধনে গঠিত |
সমযোজী যৌগের অণুগুলোর মধ্যে আকর্ষণ দুর্বল বলে জৈব যৌগের গলনাঙ্ক সাধারণত কম; আয়নিক যৌগে আয়নগুলোর তীব্র আকর্ষণের কারণে গলনাঙ্ক বেশি।
পরীক্ষার মাধ্যমে পার্থক্য
১. উত্তপ্ত করার পরীক্ষা: একটি পরিষ্কার চামচে বা টেস্টটিউবে সামান্য চিনি এবং অন্যটিতে সামান্য খাবার লবণ নিয়ে স্পিরিট ল্যাম্পে উত্তপ্ত করো।
- চিনি অল্প তাপেই গলে যায়, তারপর বাদামি ও শেষে কালো হয়ে যায়, কারণ এতে কার্বন আছে। এটি জৈব যৌগ।
- লবণ একই তাপে গলে না বা কালো হয় না, কারণ এর গলনাঙ্ক অনেক বেশি এবং কার্বন নেই। এটি অজৈব যৌগ।
২. গলনাঙ্কের পরীক্ষা: কয়েকটি জৈব ও অজৈব যৌগের গলনাঙ্ক নির্ণয় করে তুলনা করো; জৈব যৌগগুলো সাধারণত কম তাপমাত্রায় গলে।
৩. দহনের পরীক্ষা: মোম, কেরোসিন বা অ্যালকোহলের মতো জৈব যৌগ সহজে জ্বলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি দেয়; লবণ, চুনাপাথরের মতো অজৈব যৌগ এভাবে জ্বলে না।
সতর্কতা: সেফটি গগলস পরো; টেস্টটিউবের মুখ নিজের বা অন্যের দিকে রাখবে না; দাহ্য পদার্থ শিখা থেকে দূরে রাখো এবং খুব অল্প পরিমাণে নাও।
উদাহরণ: তিনটি সাদা গুঁড়া: চিনি, খাবার লবণ ও খাবার সোডা। উত্তপ্ত করায় একটি গলে কালো হলো, বাকি দুটি কালো হলো না। কোনটি জৈব? যেটি কালো হলো সেটি চিনি, অর্থাৎ জৈব যৌগ। লক্ষ করো, খাবার সোডায় () কার্বন থাকলেও এটি অজৈব যৌগ; এটি "দু-একটি ব্যতিক্রমের" উদাহরণ, তাই শুধু কার্বন থাকা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
মনে রাখো: জৈব যৌগে সাধারণত কার্বন থাকে, এরা সমযোজী, কম গলনাঙ্কের ও তাপে কালো হয় বা জ্বলে; অজৈব যৌগ সাধারণত আয়নিক, উচ্চ গলনাঙ্কের, তাই চিনি ও লবণ উত্তপ্ত করে সহজে পার্থক্য করা যায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।