offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৮

রসায়ন ও শক্তি

SSC Chemistry Chapter 8

  • ১৪টি টপিক
  • ৬টি সিমুলেশন
  • ২৮ পিরিয়ড

সিমুলেশন

টপিক

  1. রাসায়নিক শক্তি

    তাপ উৎপাদী বিক্রিয়া ও তাপহারী বিক্রিয়া · বিক্রিয়ার শক্তি চিত্র · বন্ধন শক্তি ও রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শক্তির পরিবর্তন · রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপ, বিদ্যুৎ ও আলোক শক্তি (চুলা, ব্যাটারি, মোমবাতি) · রাসায়নিক শক্তি থেকে পাওয়া শক্তি কাজে লাগানো (ইঞ্জিন চালানো, রান্না, বিদ্যুৎ উৎপাদন, কলকারখানা)

    পড়ে নাও

    রাসায়নিক শক্তি হলো পদার্থের অণু ও পরমাণুর পারস্পরিক বন্ধন ও আকর্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত শক্তি। বন্ধনে দুটি পরমাণুকে যুক্ত রাখার আকর্ষণ শক্তিকে বন্ধন শক্তি বলে।

    পুরো টপিক পড়ো →

  2. রাসায়নিক শক্তির যথাযথ ব্যবহার

    পড়ে নাও

    রাসায়নিক শক্তির যথাযথ ব্যবহার হলো প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি ব্যবহার করে উপকারী কাজ করা এবং অপচয়, দূষণ ও দুর্ঘটনা কমানো। কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি। এদের মধ্যে রাসায়নিক শক্তি থাকে।

    পুরো টপিক পড়ো →

  3. গ্রামের তুলনায় শহরে গরম বেশি কেন

    জ্বালানির বিশুদ্ধতার গুরুত্ব · রাসায়নিক শক্তি ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব (বায়ু দূষণ, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন) · ইথানলকে মোটরযানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার

    পড়ে নাও

    শহরে যানবাহন, কলকারখানা ও রান্নার কাজে অনেক জ্বালানি পোড়ানো হয়। এসব তাপ উৎপাদী বিক্রিয়ায় আশপাশে তাপ ছড়ায়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রও বাইরের দিকে তাপ ছাড়ে।

    পুরো টপিক পড়ো →

  4. লেবুতে জিংক ও তামার তার দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন

    পড়ে নাও

    একটি লেবু, জিংকের তার ও তামার তার দিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে সামান্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এটি একটি গ্যালভানিক কোষ, অর্থাৎ রাসায়নিক শক্তিকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরের ব্যবস্থা।

    পুরো টপিক পড়ো →

  5. গ্যালভানিক কোষ

    ধাতু/ধাতব আয়ন তড়িৎদ্বার · তড়িৎদ্বার বিক্রিয়া · কোষ বিক্রিয়া (একটি গ্যালভানিক কোষের গঠনচিত্র) · ড্রাই সেলের গঠন ও ইলেকট্রন স্থানান্তরের কৌশল

    পড়ে নাও

    গ্যালভানিক কোষ রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। কোনো ধাতুকে তার নিজের আয়নযুক্ত দ্রবণে আংশিক ডুবিয়ে তৈরি ব্যবস্থা হলো ধাতু-ধাতুর আয়ন তড়িৎদ্বার।

    পুরো টপিক পড়ো →

  6. ব্যাটারির সুবিধা ও অসুবিধা

    স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর ব্যাটারির প্রভাব

    পড়ে নাও

    ব্যাটারি হলো তড়িৎ-রাসায়নিক শক্তির উৎস, যা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। টর্চ, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ক্যালকুলেটরে ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়।

    পুরো টপিক পড়ো →

  7. বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিক্রিয়া সংগঠন

    পড়ে নাও

    বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কোনো পদার্থে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটানো যায়। গলিত বা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করার সময় যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে।

    পুরো টপিক পড়ো →

  8. পানি ও সোডিয়াম ক্লোরাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণে গ্যাস উৎপাদন

    বিদ্যুৎ পরিবাহী, ধাতব পরিবাহী ও তড়িৎ বিশ্লেষ্য

    পড়ে নাও

    বিদ্যুৎ পরিবাহী হলো এমন পদার্থ, যার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চলতে পারে। তামার তারের মতো ইলেকট্রনীয় বিদ্যুৎ পরিবাহীতে মুক্ত ইলেকট্রন আধান বহন করে। লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ও গ্রাফাইটও এভাবে বিদ্যুৎ পরিবহন করে।

    পুরো টপিক পড়ো →

  9. তড়িৎ বিশ্লেষণে লিটমাস কাগজের বর্ণ পরিবর্তনের কারণ

    তড়িৎদ্বার ও তড়িৎ রাসায়নিক কোষ

    পড়ে নাও

    লিটমাস একটি নির্দেশক, যার বর্ণ দিয়ে কোনো মাধ্যমের অম্লীয় বা ক্ষারীয় প্রকৃতি বোঝা যায়। এসিড নীল লিটমাসকে লাল এবং ক্ষার লাল লিটমাসকে নীল করে।

    পুরো টপিক পড়ো →

  10. তড়িৎ রাসায়নিক কোষ ও গ্যালভানিক কোষের পার্থক্য

    তড়িৎ বিশ্লেষণ ও তড়িৎ বিশ্লেষ্যের বিশ্লিষ্ট হওয়ার কৌশল · সোডিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণের তড়িৎ বিশ্লেষণ · পানির তড়িৎ বিশ্লেষণ · তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োগ · তড়িৎ বিশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থের বাণিজ্যিক ব্যবহার

    পড়ে নাও

    তড়িৎ রাসায়নিক কোষে রাসায়নিক বিক্রিয়া ও বিদ্যুৎ শক্তির মধ্যে সম্পর্ক কাজে লাগানো হয়। তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ বাইরের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিক্রিয়া ঘটায়।

    পুরো টপিক পড়ো →

  11. নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া ও বিদ্যুৎ উৎপাদন

    পড়ে নাও

    নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া হলো এমন বিক্রিয়া, যেখানে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে। সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বাইরের শক্তিস্তরের ইলেকট্রনের আদান-প্রদান বা অংশীদারত্ব বদলায়, কিন্তু নিউক্লিয়াস অপরিবর্তিত থাকে।

    পুরো টপিক পড়ো →

  12. চিত্রের সাহায্যে নিউক্লীয় বিক্রিয়া থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন

    পড়ে নাও

    পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কীভাবে কাজ করে, তা একটি প্রবাহচিত্রে ধাপে ধাপে সাজালে সহজে বোঝা যায়। প্রতিটি ধাপে শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে বদলায়।

    পুরো টপিক পড়ো →

  13. পদার্থ দ্রবীভূত করে ও রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপের পরিবর্তন পরীক্ষা

    পড়ে নাও

    কোনো পদার্থ পানিতে দ্রবীভূত হলে বা বিক্রিয়া করলে পানির তাপমাত্রা বাড়ে বা কমে। থার্মোমিটারে আগে ও পরে তাপমাত্রা মেপে বোঝা যায় প্রক্রিয়াটি তাপ উৎপাদী না তাপহারী।

    পুরো টপিক পড়ো →

  14. দলগত কাজ: লবণ দ্রবীভূত করে এবং ভিনেগার, লেবুর রস, চুন ও সোডা মিশিয়ে তাপের পরিবর্তন পরীক্ষা

    পড়ে নাও

    এই দলগত কাজে বাড়িতে ও বিদ্যালয়ে সহজে পাওয়া যায় এমন পদার্থ দিয়ে দেখা হয়, কোন মিশ্রণে তাপমাত্রা বাড়ে আর কোনটিতে কমে। লক্ষ্য হলো প্রতিটি ক্ষেত্রকে তাপ উৎপাদী বা তাপহারী হিসেবে শনাক্ত করা।

    পুরো টপিক পড়ো →

শিখনফল

  • রাসায়নিক পরিবর্তনের সাথে শক্তি উৎপাদনের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • শক্তি উৎপাদনে জ্বালানির বিশুদ্ধতার গুরুত্ব অনুধাবন, পরিবেশ সুরক্ষায় এগুলোর ব্যবহার সীমিত রাখতে ও উপযুক্ত জ্বালানি নির্বাচনে সচেতনতার পরিচয় দিতে পারবে।
  • নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে রাসায়নিক বিক্রিয়া সংশ্লিষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করে তা অনুসন্ধানের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে পারবে।
  • রাসায়নিক বিক্রিয়া সংগঠনে এবং শক্তি উৎপাদনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও আত্নবিশ্বাসের সাথে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হবে।
  • জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ইলেকট্রনীয় মতবাদ ব্যবহার করে চল বিদ্যুতের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারবে।
  • বিদ্যুৎ ব্যবহার করে (তড়িৎ বিশ্লেষণ) বিক্রিয়া সংগঠন করতে পারবে।
  • বিভিন্ন পদার্থের তড়িৎ বিশ্লেষণে উৎপাদিত পদার্থ এবং এর বাণিজ্যিক ব্যবহার সম্পর্কে মতামত দিতে পারবে।
  • তড়িৎ রাসায়নিক কোষ ও গ্যালভানিক কোষের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে।
  • তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পর্কে মতামত দিতে পারবে।
  • তাপহারী ও তাপউৎপাদী বিক্রিয়ার পরীক্ষা
  • লবণ দ্রবীভূত ও রাসায়নিক পরিবর্তন হওয়ার সময় তাপের পরিবর্তন পরীক্ষার সাহায্যে দেখাতে পারবে।
  • গ্যালভানিক কোষের তড়িৎদ্বার গঠন করতে পারবে।
  • রাসায়নিক দ্রব্যের ক্ষতিকর দিকসমূহ সম্পর্কে সচেতনতা প্রদর্শন করবে।
  • বিশুদ্ধ জ্বালানি ব্যবহারে আগ্রহ প্রদর্শন করবে।

এই অধ্যায়ের সূত্র

  • তড়িৎ বিশ্লেষণে লিটমাসের বর্ণ পরিবর্তন: সোডিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণ
    cathode: 2H2O+2e−→H2+2OH−anode: 2Cl−→Cl2+2e−\text{cathode: } 2H_2O + 2e^- \rightarrow H_2 + 2OH^- \qquad \text{anode: } 2Cl^- \rightarrow Cl_2 + 2e^-
    সিমুলেশনে দেখো →
  • রাসায়নিক শক্তি: তাপোৎপাদী ও তাপহারী পরিবর্তন
    CaO+H2O→Ca(OH)2+heatNH4Cl(s)+heat→waterNH4Cl(aq)\text{CaO} + \text{H}_2\text{O} \rightarrow \text{Ca(OH)}_2 + \text{heat} \qquad \text{NH}_4\text{Cl(s)} + \text{heat} \xrightarrow{\text{water}} \text{NH}_4\text{Cl(aq)}
    সিমুলেশনে দেখো →
  • গ্যালভানিক কোষের তড়িৎচালক বল (EMF) ও শ্রেণি সমবায়
    Etotal=n⋅(Ecathode∘−Eanode∘)E_{\text{total}} = n \cdot (E^\circ_{\text{cathode}} - E^\circ_{\text{anode}})
    সিমুলেশনে দেখো →
  • তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ ও গ্যালভানিক কোষ, তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োগ
    Zn+Cu2+→Zn2++Cu,E=1.10 VZn + Cu^{2+} \rightarrow Zn^{2+} + Cu,\quad E = 1.10\ \text{V}
    সিমুলেশনে দেখো →
  • নিউক্লীয় বিক্রিয়া ও বিদ্যুৎ উৎপাদন
    92235U+01n→56141Ba+3692Kr+3 01n+200 MeV{}^{235}_{92}\text{U} + {}^1_0n \rightarrow {}^{141}_{56}\text{Ba} + {}^{92}_{36}\text{Kr} + 3\,{}^1_0n + 200\ \text{MeV}
    সিমুলেশনে দেখো →
  • বিদ্যুৎ দিয়ে বিক্রিয়া ঘটানো: তড়িৎ বিশ্লেষণ
    2H2O→electricity2H2+O2,Q=It,ne−=QF2H_2O \xrightarrow{\text{electricity}} 2H_2 + O_2,\quad Q = It,\quad n_{e^-} = \frac{Q}{F}
    সিমুলেশনে দেখো →

এই বিষয়ের সব সূত্র →

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

রাজশাহীর একটি বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান পরীক্ষাগারে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দুটি ভিন্ন তড়িৎ রাসায়নিক পরীক্ষা সম্পন্ন করল: কোষ-১: একটি তাজা লেবুর রসে একটি দস্তার (Zn) পাত এবং একটি তামার (Cu) পাত সমান্তরালভাবে প্রবেশ করিয়ে বহিঃস্থ তারে একটি এলইডি (LED) বাতি ও ভোল্টমিটার যুক্ত করা হলো। ভোল্টমিটারে ১.১০ V বিভব পার্থক্য দেখা গেল। কোষ-২: একটি কাচের পাত্রে সোডিয়াম ক্লোরাইডের গাঢ় জলীয় দ্রবণ (ব্রাইন) নিয়ে দুটি গ্রাফাইট দণ্ড ডুবিয়ে ব্যাটারির সাহায্যে তড়িৎ বিশ্লেষণ ঘটানো হলো। (দেওয়া আছে: লেবুর কোষে Zn ও Cu তড়িৎদ্বারের সমন্বয়ে গঠিত একক কোষের বিভব ১.১০ V; এলইডি বাতিটি প্রজ্বলনের জন্য ন্যূনতম ২.৫ V ভোল্টেজ প্রয়োজন)।

  1. ক

    তড়িৎ বিশ্লেষ্য (electrolyte) কাকে বলে?

    উত্তর দেখাও

    যেসব রাসায়নিক পদার্থ গলিত অবস্থায় বা উপযুক্ত দ্রাবকে দ্রবীভূত অবস্থায় আয়ন সৃষ্টির মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবহন করে এবং বিদ্যুৎ পরিবহনের সাথে সাথে রাসায়নিকভাবে বিশ্লিষ্ট হয়ে নতুন পদার্থে পরিণত হয়, তাদেরকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে।

  2. খ

    কোষ-১ এ জিংক পাতটি ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার (অ্যানোড) হিসেবে কাজ করে কেন? ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর দেখাও

    তড়িৎ রাসায়নিক সক্রিয়তা সিরিজে জিংক (Zn) কপারের (Cu) উপরে অবস্থিত হওয়ায় জিংক কপার অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু। লেবুর রসের সাইট্রিক এসিডে জিংক সহজেই ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়: Zn(s) → Zn²⁺(aq) + 2e⁻। নির্গত ইলেকট্রনগুলো জিংক পাতে পুঞ্জীভূত হয় বলে জিংক পাত ঋণাত্মক আধানে আহিত হয়। গ্যালভানিক কোষে যে তড়িৎদ্বারে জারণ ঘটে তাকে অ্যানোড বলে; ফলে কোষ-১ এ জিংক পাত ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানোড হিসেবে ক্রিয়া করে।

  3. গ

    উদ্দীপকের কোষ-২ এর তড়িৎ বিশ্লেষণে অ্যানোড ও ক্যাথোডে সংঘটিত বিক্রিয়াগুলো সমীকরণসহ দেখাও এবং উৎপাদসমূহ শনাক্ত করো।

    উত্তর দেখাও

    সোডিয়াম ক্লোরাইডের গাঢ় জলীয় দ্রবণে (ব্রাইন) Na⁺, Cl⁻, H⁺ এবং OH⁻ আয়ন বিদ্যমান থাকে। ১. অ্যানোডে সংঘটিত বিক্রিয়া (জারণ): ধনাত্মক অ্যানোডের দিকে Cl⁻ ও OH⁻ আকৃষ্ট হয়। দ্রবণে ক্লোরাইড আয়নের উচ্চ ঘনমাত্রার কারণে OH⁻ এর পরিবর্তে Cl⁻ আয়ন প্রাধান্য পেয়ে ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং ক্লোরিন গ্যাস (Cl₂) উৎপন্ন করে: 2Cl⁻(aq) → Cl₂(g) + 2e⁻।

    ২. ক্যাথোডে সংঘটিত বিক্রিয়া (বিজারণ): ঋণাত্মক ক্যাথোডের দিকে Na⁺ ও H⁺ আকৃষ্ট হয়। সক্রিয়তা সিরিজে হাইড্রোজেন Na এর নিচে অবস্থিত হওয়ায় H⁺ আয়ন সহজে ইলেকট্রন গ্রহণ করে বিজারিত হয় এবং হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂) উৎপন্ন করে: 2H⁺(aq) + 2e⁻ → H₂(g)।

    ৩. দ্রবণে অবশিষ্ট উৎপাদ: দ্রবণে অপরিবর্তিত Na⁺ এবং OH⁻ আয়ন পরস্পর যুক্ত হয়ে কস্টিক সোডা বা সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) তৈরি করে। সুতরাং, অ্যানোডে ক্লোরিন গ্যাস (Cl₂), ক্যাথোডে হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂) এবং দ্রবণে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) উৎপন্ন হয়।

  4. ঘ

    একটি একক কোষ-১ দিয়ে এলইডি বাতিটি জ্বালানো সম্ভব কি? কীভাবে ন্যূনতম সংখ্যক কোষ-১ সমন্বয় করে বাতিটি জ্বালানো যাবে এবং এই প্রক্রিয়ায় শক্তি রূপান্তরের তাৎপর্য গাণিতিক বিশ্লেষণসহ মূল্যায়ন করো।

    উত্তর দেখাও

    ১. একক কোষ দিয়ে বাতি জ্বালানোর সম্ভাব্যতা: উদ্দীপক অনুসারে একটি একক কোষ-১ এর বিভব পার্থক্য V₁ = ১.১০ V। কিন্তু এলইডি (LED) বাতিটি প্রজ্বলনের জন্য ন্যূনতম ২.৫ V ভোল্টেজ প্রয়োজন। যেহেতু ১.১০ V < ২.৫ V, তাই একটিমাত্র কোষ-১ দিয়ে বাতিটি জ্বালানো সম্ভব নয়।

    ২. ন্যূনতম কোষের সংখ্যা নির্ণয়: কোষগুলোকে শ্রেণি সমবায়ে (series combination) যুক্ত করলে মোট বিভব যোগ হয়: V_total = n × V₁। বাতিটি জ্বালাতে প্রয়োজনীয় শর্ত: n × ১.১০ V ≥ ২.৫ V বা, n ≥ ২.৫ ⁄ ১.১০ ≈ ২.২৭। যেহেতু কোষের সংখ্যা পূর্ণসংখ্যা হতে হবে, তাই বাতিটি জ্বালাতে ন্যূনতম ৩টি কোষ-১ শ্রেণি সমবায়ে যুক্ত করতে হবে। ৩টি কোষ শ্রেণি সমবায়ে যুক্ত করলে প্রাপ্ত মোট ভোল্টেজ = ৩ × ১.১০ V = ৩.৩০ V, যা প্রয়োজনীয় ২.৫ V অপেক্ষা বেশি। ফলে বাতিটি উজ্জ্বলভাবে জ্বলবে।

    ৩. শক্তি রূপান্তরের মূল্যায়ন: লেবু কোষে সাইট্রিক এসিডের উপস্থিতিতে জিংকের জারণ ও হাইড্রোজেনের বিজারণের ফলে রাসায়নিক শক্তি সরাসরি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং বহিঃস্থ বর্তনীতে এলইডি বাতিতে সেই বিদ্যুৎশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই পরীক্ষাটি প্রমাণ করে যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উপায়ে কার্যকর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার সম্ভব।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লেখার নিয়ম →