offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৮ · টপিক ২

রাসায়নিক শক্তির যথাযথ ব্যবহার

পড়ার নোট

রাসায়নিক শক্তির যথাযথ ব্যবহার হলো প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি ব্যবহার করে উপকারী কাজ করা এবং অপচয়, দূষণ ও দুর্ঘটনা কমানো। কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি। এদের মধ্যে রাসায়নিক শক্তি থাকে। অক্সিজেনের সঙ্গে দহন বিক্রিয়ায় সেই শক্তি তাপ হিসেবে পাওয়া যায়। রান্না, যানবাহন চালানো ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে এই তাপ কাজে লাগে।

জ্বালানি ব্যবহার করলেই শুধু সুবিধা পাওয়া যায় না। জীবাশ্ম জ্বালানির মজুত সীমিত; অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় কমায়। তাই শক্তি সাশ্রয়ের অর্থ কাজ বন্ধ করা নয়, একই প্রয়োজন মেটাতে অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ বন্ধ করা।

কার্বনযুক্ত জ্বালানির দহনে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত সঞ্চয় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়ায়। অপরিশোধিত জ্বালানির সালফার ও নাইট্রোজেনযুক্ত অপদ্রব্য থেকে ক্ষতিকর অক্সাইড তৈরি হতে পারে। এগুলো এসিড বৃষ্টির কারণ হয়। আবার পর্যাপ্ত বায়ু না পেলে অসম্পূর্ণ দহনে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড তৈরি হতে পারে। তাই জ্বালানির বিশুদ্ধতা এবং দহনের জন্য যথেষ্ট বায়ু—দুটিই জরুরি।

বাংলাদেশের একটি পরিবারের ভাত রান্নার কথা ভাবো। হাঁড়ি নামানোর পরও চুলা জ্বলতে থাকলে জ্বালানি খরচ হচ্ছে, কিন্তু রান্নার কোনো উপকার হচ্ছে না। কাজ শেষে চুলা বন্ধ করলে একই রান্না সম্পন্ন হয় এবং অপচয় কমে। একইভাবে অপ্রয়োজনে গাড়ির ইঞ্জিন চালু রাখা উচিত নয়।

দায়িত্বশীল ব্যবহারের কয়েকটি অভ্যাস হলো:

  • প্রয়োজনমতো জ্বালানি নেওয়া এবং কাজ শেষে চুলা ও ইঞ্জিন বন্ধ করা।
  • পরিশোধিত জ্বালানি বেছে নেওয়া এবং চুলা ও যানবাহন ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করা।
  • উপযোগী ক্ষেত্রে পেট্রোলের সাথে ইথানল মেশানোর মতো বিকল্প বিবেচনা করা।
  • সম্ভব হলে সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তি ব্যবহার করে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো।
  • জ্বালানি আগুন ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা; আগুন ধরাতে পেট্রোল ব্যবহার না করা। গ্যাসের লিক থাকলে আগুন জ্বালানো থেকে বিরত থাকা।

সাধারণ ভুল হলো পরিষ্কার জ্বালানি বা বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করলেই শক্তির অপচয় নিয়ে ভাবতে হবে না মনে করা। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও জ্বালানি লাগতে পারে; পরিষ্কার জ্বালানিরও সাশ্রয়ী ব্যবহার দরকার।

মনে রাখো: প্রয়োজন মিটিয়ে জ্বালানির অপচয় কমানোই মজুত, পরিবেশ ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল উপায়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • খেলার মাঠের ঠান্ডা প্যাক আর চুনের গরমচালিয়ে দেখো

    ফুটবল খেলায় পা মচকালে কোচ একটা প্যাকেট চাপ দিয়ে ভাঙলেন, আর সেটা কয়েক সেকেন্ডে বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেল; ভেতরে নিশাদল আর পানি। আবার বাড়িতে পান খাওয়ার চুন বানাতে কলিচুনে পানি ঢাললে তা এত গরম হয় যে ফুটতে থাকে। নাঈম ভাবল, কোনো কিছু পানিতে মেশালে তা তো গরমই হওয়ার কথা, ঠান্ডা হবে কীভাবে? কোন পদার্থ পানিতে দিলে ঠান্ডা হয়, কোনটিতে গরম?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশের প্রভাব বিবেচনায়— i. চুলা P ব্যবহার করা বেশি যুক্তিসংগত ii. প্রতি বার রান্নায় চুলা P থেকে কম কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হবে iii. বিশুদ্ধ জ্বালানি ব্যবহারের কারণে উভয় চুলা থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গমন বন্ধ হবে নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও iii

    2. খ

      i ও ii

    3. গ

      ii ও iii

    4. ঘ

      i, ii ও iii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) i ও ii

    1. একই কাজ করতে চুলা P-তে কম জ্বালানি লাগে, তাই এটি জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য উপযুক্ত।
    2. একই কার্বনযুক্ত জ্বালানির কম পরিমাণ সম্পূর্ণ দহন হলে কম কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়।
    3. জ্বালানি বিশুদ্ধ হলেও এর কার্বন দহনে কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি হয়। তাই i ও ii সঠিক এবং iii ভুল।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো