পড়ার নোট
রাসায়নিক শক্তি হলো পদার্থের অণু ও পরমাণুর পারস্পরিক বন্ধন ও আকর্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত শক্তি। বন্ধনে দুটি পরমাণুকে যুক্ত রাখার আকর্ষণ শক্তিকে বন্ধন শক্তি বলে। সমযোজী পদার্থের পৃথক অণুগুলোর মধ্যকার আকর্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত শক্তি হলো আন্তঃআণবিক শক্তি। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পুরোনো বন্ধন ভাঙে এবং নতুন বন্ধন গঠিত হয়। বন্ধন ভাঙতে শক্তি লাগে; বন্ধন গঠনে শক্তি নির্গত হয়।
তাপ উৎপাদী বিক্রিয়ায় পরিবেশে তাপ নির্গত হয়। উৎপাদের শক্তি বিক্রিয়কের চেয়ে কম হওয়ায় বাড়তি শক্তি তাপ হিসেবে বের হয়। বাংলাদেশের বাড়িতে গ্যাসের চুলায় রান্না এর পরিচিত উদাহরণ। মিথেনের দহনে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি তৈরি হয়: ।
তাপহারী বিক্রিয়ায় পরিবেশ থেকে তাপ শোষিত হয় এবং উৎপাদের শক্তি বেশি থাকে। চুনাপাথর উত্তপ্ত করে চুন তৈরি এর উদাহরণ: । বরফ গলতেও তাপ শোষিত হয়, কিন্তু নতুন পদার্থ তৈরি হয় না; তাই সেটি ভৌত পরিবর্তন, রাসায়নিক বিক্রিয়া নয়।
শক্তি চিত্রে উল্লম্ব দিকে শক্তি এবং অনুভূমিক দিকে বিক্রিয়ার অগ্রগতি দেখানো হয়। তাপ উৎপাদী বিক্রিয়ায় উৎপাদের শক্তিস্তর নিচে, তাপহারী বিক্রিয়ায় উপরে থাকে। তাপ পরিবর্তন ; এখানে বিক্রিয়কের এবং উৎপাদের মোট শক্তি, শক্তির পরিবর্তন। প্রত্যেকটির SI একক জুল, । মোলপ্রতি প্রকাশ করলে একক ।
বন্ধন শক্তি দিয়েও হিসাব করা যায়: । এখানে বন্ধন ভাঙতে শোষিত এবং বন্ধন গঠনে নির্গত মোট শক্তি; উভয়ের SI একক জুল।
একটি অনুশীলনীতে ধরা যাক, বন্ধন ভাঙতে ৯০০ জুল লাগে এবং গঠনে ১১৫০ জুল বের হয়।
- প্রথমে শোষিত শক্তি থেকে নির্গত শক্তি বিয়োগ করি।
- ।
- ঋণাত্মক চিহ্ন জানায়, ২৫০ জুল তাপ নির্গত হয়েছে; বিক্রিয়াটি তাপ উৎপাদী।
চুলায় রাসায়নিক শক্তি তাপে, মোমবাতিতে তাপ ও আলোতে এবং ব্যাটারিতে বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়। ব্যাটারির বিদ্যুৎ মোবাইল চালায়। ইঞ্জিনে জ্বালানির তাপ যান্ত্রিক কাজে লাগে; বিদ্যুৎকেন্দ্রে টারবাইন ও জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরি হয়। কলকারখানাও এই শক্তি ব্যবহার করে।
সাধারণ ভুল হলো বন্ধন ভাঙলেই শক্তি বের হয় ভাবা। আসলে ভাঙতে শক্তি লাগে; গঠনে শক্তি বের হয়।
মনে রাখো: শোষিত শক্তির চেয়ে নির্গত শক্তি বেশি হলে বিক্রিয়া তাপ উৎপাদী এবং তাপ পরিবর্তন ঋণাত্মক।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।