পড়ার নোট
শহরে যানবাহন, কলকারখানা ও রান্নার কাজে অনেক জ্বালানি পোড়ানো হয়। এসব তাপ উৎপাদী বিক্রিয়ায় আশপাশে তাপ ছড়ায়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্রও বাইরের দিকে তাপ ছাড়ে। গ্রামের তুলনায় শহরে এ ধরনের কাজ বেশি হওয়া গরম বেশি লাগার একটি কারণ। ঢাকার যানজটে দীর্ঘক্ষণ ইঞ্জিন চালু থাকলে একই জায়গায় তাপ ও দূষক নির্গত হতে থাকে।
বায়ু দূষণ হলো বায়ুতে ক্ষতিকর পদার্থের উপস্থিতি বা বৃদ্ধি। জ্বালানির বিশুদ্ধতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। অপরিশোধিত জ্বালানিতে সালফার, নাইট্রোজেন ও ফসফরাসযুক্ত অপদ্রব্য থাকতে পারে। দহনে এদের অক্সাইড বায়ুতে মেশে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে এসিড তৈরি হলে এসিড বৃষ্টি ঘটে। এতে গাছপালা, ফসল ও দালানের ক্ষতি হয়; পুকুরের পানি বেশি অম্লীয় হলে মাছসহ জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকা কঠিন হয়।
পর্যাপ্ত বায়ু ছাড়া জ্বালানি পোড়ালে কার্বন মনোক্সাইড তৈরি হতে পারে। এই বিষাক্ত গ্যাস রক্তের অক্সিজেন পরিবহনে বাধা দেয়। যানবাহনের ধোঁয়ার বিভিন্ন পদার্থ সূর্যের আলোতে বিক্রিয়া করে ক্ষতিকর আলোক-রাসায়নিক ধোঁয়াশা তৈরি করতে পারে। এতে শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি হয়। তাই শুধু ধোঁয়া কম দেখলেই জ্বালানিকে নিরাপদ বলা যায় না।
কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ কিছু গ্যাস পৃথিবী থেকে তাপ বেরিয়ে যাওয়া কমায়; এই প্রভাবকে গ্রিনহাউস প্রভাব বলে। এসব গ্যাসের অতিরিক্ত বৃদ্ধির সঙ্গে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলা হয়। বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে বাংলাদেশের নিচু উপকূলীয় অঞ্চল ঝুঁকিতে পড়ে। এটি বিশ্বব্যাপী পরিবর্তন; শহরের তাৎক্ষণিক গরমের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়।
ইথানল বা ইথাইল অ্যালকোহল একটি দাহ্য জ্বালানি; এর সংকেত । আখের মতো উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে এটি তৈরি করা যায়, তাই এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য উৎসের জ্বালানি হতে পারে। উপযুক্ত ইঞ্জিনে পেট্রোলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানির চাহিদা কমানো যায়। দশ শতাংশ ইথানলযুক্ত মিশ্রণ এর একটি উদাহরণ।
সম্পূর্ণ দহনে ইথানলও কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি উৎপন্ন করে: । এখানে সংকেতগুলো যথাক্রমে ইথানল, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি বোঝায়।
সাধারণ ভুল হলো ইথানলকে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত বলা। তুলনামূলক পরিষ্কার জ্বালানি হলেও এর দহনেও কার্বন ডাই-অক্সাইড হয়।
মনে রাখো: পরিশোধিত জ্বালানি, যথেষ্ট বায়ু ও অপ্রয়োজনীয় দহন কমানো তাপ ও দূষণ কমাতে সাহায্য করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।