offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৮ · টপিক ৪

লেবুতে জিংক ও তামার তার দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন

পড়ার নোট

একটি লেবু, জিংকের তার ও তামার তার দিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে সামান্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এটি একটি গ্যালভানিক কোষ, অর্থাৎ রাসায়নিক শক্তিকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরের ব্যবস্থা। বাংলাদেশের রান্নাঘরে ব্যবহৃত পরিচিত লেবু দিয়েই এই নীতি বোঝা যায়। তবে লেবুর মধ্যে আগে থেকে ব্যবহারযোগ্য বিদ্যুৎ জমা থাকে না; ধাতু ও এসিডের বিক্রিয়ায় তা পাওয়া যায়।

লেবুর রসে সাইট্রিক এসিড থাকে। এর দ্রবণে চলাচল করতে পারে এমন আয়ন থাকে বলে রস তড়িৎ বিশ্লেষ্য হিসেবে কাজ করে। এসিড থেকে হাইড্রোজেন আয়ন পাওয়া যায়। জিংক তামার চেয়ে বেশি সক্রিয় হওয়ায় সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করে। দুটি ধাতুর আলাদা ভূমিকা থাকায় বাইরের তার দিয়ে ইলেকট্রন চলার ব্যবস্থা করা যায়।

ব্যবস্থাটি বুঝতে ধাপগুলো অনুসরণ করো:

  • লেবুতে জিংক ও তামার তার আলাদাভাবে ঢোকাও। তার দুটি যেন ভেতরে পরস্পর স্পর্শ না করে।
  • বাইরে থাকা প্রান্ত দুটি সংযোগ তার দিয়ে একটি উপযুক্ত ভোল্টমিটারের সঙ্গে যুক্ত করো।
  • জিংকের দিকে জারণ, অর্থাৎ ইলেকট্রন ত্যাগ ঘটে: Zn→Zn2++2e−Zn\rightarrow Zn^{2+}+2e^-। জিংক পরমাণু জিংক আয়ন হয়ে রসে প্রবেশ করে।
  • ইলেকট্রন বাইরের সংযোগ দিয়ে জিংক থেকে তামার দিকে যায়।
  • তামার পৃষ্ঠে বিজারণ, অর্থাৎ ইলেকট্রন গ্রহণ ঘটে: 2H++2e−→H22H^++2e^-\rightarrow H_2। হাইড্রোজেন আয়ন ইলেকট্রন নিয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস তৈরি করে।

এখানে ZnZn জিংক, Zn2+Zn^{2+} জিংক আয়ন, H+H^+ হাইড্রোজেন আয়ন, H2H_2 হাইড্রোজেন গ্যাস এবং e−e^- ইলেকট্রন বোঝায়। জারণ ঘটে বলে জিংক হলো অ্যানোড এবং বিজারণ ঘটে বলে তামা হলো ক্যাথোড। এই কোষে অ্যানোড ঋণাত্মক ও ক্যাথোড ধনাত্মক।

বাইরের ধাতব সংযোগে ইলেকট্রন এবং লেবুর রসের মধ্যে আয়ন আধান পরিবহন করে। দুটির মাধ্যমে সম্পূর্ণ বর্তনী তৈরি হয়। ইলেকট্রন প্রবাহের দিক জিংক থেকে তামা; প্রচলিত তড়িৎপ্রবাহের দিক তার বিপরীত। যথেষ্ট শক্তি পাওয়া গেলে উপযুক্ত ছোট এলইডি ব্যবহার করা যায়, কিন্তু একটি লেবুতেই সেটি জ্বলবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

সাধারণ ভুল হলো তামা থেকে তামার আয়ন তৈরি হয় বা ইলেকট্রন লেবুর রস পেরিয়ে যায় ভাবা। এখানে তামার পৃষ্ঠে হাইড্রোজেন আয়ন বিজারিত হয়।

মনে রাখো: লেবুর কোষে জিংক ইলেকট্রন দেয়, আর তামার পৃষ্ঠে হাইড্রোজেন আয়ন সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • লেবু ব্যাটারি: সক্রিয়তার ব্যবধান ও কোষের সমবায়চালিয়ে দেখো

    বিজ্ঞান মেলায় নবম শ্রেণির তানভীর একটি লেবুতে জিংক (Zn) ও তামার (Cu) পাত গুঁজে একটি লেবু কোষ তৈরি করল। ভোল্টমিটারে মেপে দেখা গেল এই একক কোষ থেকে ১.১০ V ভোল্টেজ পাওয়া যায়। কিন্তু মেলায় একটি এলইডি (LED) বাতি জ্বালাতে কমপক্ষে ৩.০০ V ভোল্টেজ প্রয়োজন। তানভীর যদি একই রকম ৩টি লেবু কোষকে তার দিয়ে শ্রেণি সমবায়ে (series) যুক্ত করে, তবে মোট কত ভোল্টেজ পাওয়া যাবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. সিলেটের একটি বিজ্ঞান মেলায় সুমাইয়া একটি তাজা রসালো কাগজি লেবুর মধ্যে একটি জিংক (Zn) পাত এবং একটি কপার (Cu) পাত সমান্তরালভাবে প্রবেশ করিয়ে লেবু ব্যাটারি তৈরি করল। বহিঃস্থ তারের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন জিংক পাত থেকে কপার পাতের দিকে প্রবাহিত হওয়ার মূল কারণ কী?

    1. ক

      জিংক কপারের চেয়ে অধিক সক্রিয় ধাতু হওয়ায় জিংক সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়

    2. খ

      কপার জিংকের চেয়ে অধিক সক্রিয় ধাতু হওয়ায় কপার পাত থেকে জিংকে ইলেকট্রন আকর্ষিত হয়

    3. গ

      লেবুর সাইট্রিক এসিড সরাসরি জিংক পাতের সাথে বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ সৃষ্টি করে

    4. ঘ

      কপার পাত অ্যানোড হিসেবে কাজ করে বিধায় তা বহিঃস্থ তারে ঋণাত্মক চার্জ পাঠায়

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) জিংক কপারের চেয়ে অধিক সক্রিয় ধাতু হওয়ায় জিংক সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়

    1. ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজে জিংক (Zn) কপারের (Cu) অনেক উপরে অবস্থিত, তাই জিংক অধিক সক্রিয় এবং ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা বেশি।
    Zn(s)→Zn2+(aq)+2e−\text{Zn}(s) \rightarrow \text{Zn}^{2+}(aq) + 2e^-
    1. জিংক পাত অ্যানোড হিসেবে ইলেকট্রন ত্যাগ করে, ফলে বহিঃস্থ পরিবাহী তারের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন জিংক (অ্যানোড) থেকে কপার পাতে (ক্যাথোড) প্রবাহিত হয়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো