offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৮ · টপিক ৫

গ্যালভানিক কোষ

  • ধাতু/ধাতব আয়ন তড়িৎদ্বার
  • তড়িৎদ্বার বিক্রিয়া
  • কোষ বিক্রিয়া (একটি গ্যালভানিক কোষের গঠনচিত্র)
  • ড্রাই সেলের গঠন ও ইলেকট্রন স্থানান্তরের কৌশল

পড়ার নোট

গ্যালভানিক কোষ ও তড়িৎদ্বার বিক্রিয়া

গ্যালভানিক কোষ রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। কোনো ধাতুকে তার নিজের আয়নযুক্ত দ্রবণে আংশিক ডুবিয়ে তৈরি ব্যবস্থা হলো ধাতু-ধাতুর আয়ন তড়িৎদ্বার। ডেনিয়েল কোষে জিংক সালফেট দ্রবণে জিংক দণ্ড এবং কপার সালফেট দ্রবণে তামার দণ্ড থাকে। দুটি দ্রবণ লবণ সেতু দিয়ে এবং দুটি দণ্ড বাইরের ধাতব তার দিয়ে যুক্ত থাকে।

জিংক দণ্ড হলো ঋণাত্মক অ্যানোড, যেখানে জারণ ঘটে: Zn→Zn2++2e−Zn\rightarrow Zn^{2+}+2e^-। জিংক পরমাণু ইলেকট্রন ছেড়ে দ্রবণে যায়, তাই দণ্ডের ভর কমে। তামার দণ্ড হলো ধনাত্মক ক্যাথোড, যেখানে বিজারণ ঘটে: Cu2++2e−→CuCu^{2+}+2e^-\rightarrow Cu। দ্রবণের কপার আয়ন ইলেকট্রন নিয়ে তামা হিসেবে জমে, তাই দণ্ডের ভর বাড়ে।

অর্ধবিক্রিয়া দুটি যোগ করলে ইলেকট্রন বাদ যায়। মোট কোষ বিক্রিয়া: Zn+Cu2+→Zn2++CuZn+Cu^{2+}\rightarrow Zn^{2+}+Cu। এখানে ZnZn জিংক, CuCu তামা, ওপরের আধানযুক্ত সংকেতগুলো তাদের আয়ন এবং e−e^- ইলেকট্রন। বাইরের তারে ইলেকট্রন জিংক থেকে তামার দিকে চলে; সংযুক্ত বাল্ব এই শক্তি ব্যবহার করতে পারে।

লবণ সেতু দুটি দ্রবণের আধান নিরপেক্ষতা বজায় রাখে। এটি সাধারণত পটাশিয়াম ক্লোরাইড ও আগার-আগারের জেলিভর্তি U আকৃতির নল। অ্যানোডের দ্রবণে বাড়তি ধনাত্মক আধান সামলাতে ক্লোরাইড আয়ন যায়। ক্যাথোডের দ্রবণে ধনাত্মক আয়নের ঘাটতি পূরণ করতে পটাশিয়াম আয়ন যায়। এই ব্যবস্থা না থাকলে আধানের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বিক্রিয়া ও বিদ্যুৎপ্রবাহ থেমে যায়।

ড্রাই সেলের গঠন ও ইলেকট্রন স্থানান্তর

ড্রাই সেল টর্চ, টিভির রিমোট ও খেলনায় ব্যবহৃত গ্যালভানিক কোষ। জিংকের পাত্র অ্যানোড এবং মাঝের গ্রাফাইট দণ্ড ক্যাথোডের বিদ্যুৎ পরিবাহী অংশ। পাত্রে ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড, জিংক ক্লোরাইড ও পাতিত পানির পেস্ট থাকে। তাই নাম ড্রাই সেল হলেও এটি সম্পূর্ণ পানিশূন্য নয়।

জিংক ইলেকট্রন ছাড়ে; বাইরের যন্ত্রের মধ্য দিয়ে সেই ইলেকট্রন গ্রাফাইট দণ্ডে যায়। ক্যাথোডে বিক্রিয়া: 2NH4++2MnO2+2e−→2NH3+Mn2O3+H2O2NH_4^++2MnO_2+2e^-\rightarrow2NH_3+Mn_2O_3+H_2O। এখানে অ্যামোনিয়াম আয়ন ও ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড থেকে অ্যামোনিয়া, ডাইম্যাঙ্গানিজ ট্রাই-অক্সাইড ও পানি তৈরি হয়। ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড জারক হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকলে টর্চ জ্বালানো এই শক্তি রূপান্তরের পরিচিত উদাহরণ।

সাধারণ ভুল হলো লবণ সেতু দিয়ে ইলেকট্রন যায় ভাবা। সেখানে আয়ন চলে; ইলেকট্রন চলে বাইরের তারে।

মনে রাখো: গ্যালভানিক কোষে অ্যানোডে জারণ ও ক্যাথোডে বিজারণের ফলে বাইরের বর্তনীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • লেবু ব্যাটারি: সক্রিয়তার ব্যবধান ও কোষের সমবায়চালিয়ে দেখো

    বিজ্ঞান মেলায় নবম শ্রেণির তানভীর একটি লেবুতে জিংক (Zn) ও তামার (Cu) পাত গুঁজে একটি লেবু কোষ তৈরি করল। ভোল্টমিটারে মেপে দেখা গেল এই একক কোষ থেকে ১.১০ V ভোল্টেজ পাওয়া যায়। কিন্তু মেলায় একটি এলইডি (LED) বাতি জ্বালাতে কমপক্ষে ৩.০০ V ভোল্টেজ প্রয়োজন। তানভীর যদি একই রকম ৩টি লেবু কোষকে তার দিয়ে শ্রেণি সমবায়ে (series) যুক্ত করে, তবে মোট কত ভোল্টেজ পাওয়া যাবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে রাতে চলাচলের জন্য টর্চলাইটে ব্যবহৃত সাধারণ ড্রাই সেলে (dry cell বা শুষ্ক কোষ) অ্যানোড (anode) হিসেবে কোনটি কাজ করে?

    1. ক

      কার্বন বা গ্রাফাইট দণ্ড

    2. খ

      দস্তা বা জিংকের তৈরি চোঙ

    3. গ

      ম্যাঙ্গানিজ ডাইঅক্সাইডের লেই

    4. ঘ

      অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের আর্দ্র লেই

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) দস্তা বা জিংকের তৈরি চোঙ

    1. ড্রাই সেলে বাইরের পাতলা পাত্র বা সিলিন্ডারটি দস্তা বা জিংক (Zn) ধাতু দ্বারা তৈরি, যা ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানোড হিসেবে কাজ করে।
    Zn(s)→Zn2+(aq)+2e−\text{Zn}(s) \rightarrow \text{Zn}^{2+}(aq) + 2e^-
    1. অ্যানোডে জিংক ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়, এবং মাঝের কার্বন দণ্ডটি ক্যাথোড (ক্যাথোড = বিজারণ) হিসেবে কাজ করে।
  2. সিলেটের একটি বিজ্ঞান মেলায় সুমাইয়া একটি তাজা রসালো কাগজি লেবুর মধ্যে একটি জিংক (Zn) পাত এবং একটি কপার (Cu) পাত সমান্তরালভাবে প্রবেশ করিয়ে লেবু ব্যাটারি তৈরি করল। বহিঃস্থ তারের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন জিংক পাত থেকে কপার পাতের দিকে প্রবাহিত হওয়ার মূল কারণ কী?

    1. ক

      জিংক কপারের চেয়ে অধিক সক্রিয় ধাতু হওয়ায় জিংক সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়

    2. খ

      কপার জিংকের চেয়ে অধিক সক্রিয় ধাতু হওয়ায় কপার পাত থেকে জিংকে ইলেকট্রন আকর্ষিত হয়

    3. গ

      লেবুর সাইট্রিক এসিড সরাসরি জিংক পাতের সাথে বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ সৃষ্টি করে

    4. ঘ

      কপার পাত অ্যানোড হিসেবে কাজ করে বিধায় তা বহিঃস্থ তারে ঋণাত্মক চার্জ পাঠায়

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) জিংক কপারের চেয়ে অধিক সক্রিয় ধাতু হওয়ায় জিংক সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়

    1. ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজে জিংক (Zn) কপারের (Cu) অনেক উপরে অবস্থিত, তাই জিংক অধিক সক্রিয় এবং ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা বেশি।
    Zn(s)→Zn2+(aq)+2e−\text{Zn}(s) \rightarrow \text{Zn}^{2+}(aq) + 2e^-
    1. জিংক পাত অ্যানোড হিসেবে ইলেকট্রন ত্যাগ করে, ফলে বহিঃস্থ পরিবাহী তারের মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন জিংক (অ্যানোড) থেকে কপার পাতে (ক্যাথোড) প্রবাহিত হয়।
  3. ড্যানিয়েল কোষে বা গ্যালভানিক কোষে ব্যবহৃত 'লবণ সেতু'র (salt bridge) মূল ভূমিকা কী? এটি অপসারণ করলে কোষের বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় কেন?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ্যালভানিক কোষে লবণ সেতু দুটি অর্ধকোষের দ্রবণের মধ্যে পরোক্ষ সংযোগ স্থাপন করে তাদের বৈদ্যুতিক নিরপেক্ষতা (electrical neutrality) বজায় রাখে এবং অভ্যন্তরীণ বর্তনী পূর্ণ করে। লবণ সেতু অপসারণ করলে অ্যানোড দ্রবণে অতিরিক্ত ধনাত্মক আয়ন (Zn²⁺) এবং ক্যাথোড দ্রবণে অতিরিক্ত ঋণাত্মক আয়ন (SO₄²⁻) পুঞ্জীভূত হয়ে তড়িৎ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, ফলে কোষের বিদ্যুৎ প্রবাহ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

    1. লবণ সেতুর কাজ: লবণ সেতুতে থাকা নিষ্ক্রিয় লবণের (যেমন KCl বা KNO₃) অ্যানায়ন ও ক্যাটায়ন অর্ধকোষদ্বয়ে স্থানান্তরিত হয়ে অতিরিক্ত চার্জ প্রশমিত করে কোষের বৈদ্যুতিক নিরপেক্ষতা রক্ষা করে।
    2. অপসারণের প্রভাব: লবণ সেতু সরিয়ে নিলে অভ্যন্তরীণ বর্তনী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অর্ধকোষদ্বয়ে চার্জ জমে যাওয়ার কারণে কোষ বিভব দ্রুত শূন্য হয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো