পড়ার নোট
ব্যাটারি হলো তড়িৎ-রাসায়নিক শক্তির উৎস, যা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। টর্চ, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ক্যালকুলেটরে ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। টর্চে সাধারণত ড্রাই সেল এবং বাস-ট্রাকে লেড-স্টোরেজ ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। ব্যাটারির সুবিধা বোঝার পাশাপাশি এর উপাদান পরিবেশে ছড়ালে কী ক্ষতি হতে পারে, তা জানা জরুরি।
ব্যাটারির সুবিধা
- বহনযোগ্য বিদ্যুৎ উৎস: ছোট ব্যাটারি যন্ত্রের সঙ্গে বহন করা যায়। তাই বিদ্যুতের সংযোগ নেই এমন স্থানেও উপযুক্ত ব্যাটারি দিয়ে টর্চ বা অন্য যন্ত্র চালানো সম্ভব।
- সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন: ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এজন্য বাইরে জ্বালানি পুড়িয়ে তাপ তৈরি করার প্রয়োজন হয় না।
- দৈনন্দিন কাজে সুবিধা: বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাটারিচালিত টর্চ আলো দেয়। মোবাইল ফোন ও ক্যালকুলেটরের মতো যন্ত্রও ব্যাটারির সাহায্যে ব্যবহার করা যায়।
ব্যাটারির দুই প্রান্ত যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করে বর্তনী সম্পূর্ণ করলে ভেতরের বিক্রিয়ার ফলে বাইরের বর্তনীতে ইলেকট্রন প্রবাহিত হয়। এই প্রবাহ যন্ত্র চালাতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর ব্যাটারির ক্ষতিকর প্রভাব
ব্যাটারির ধরনভেদে ভেতরের পদার্থ আলাদা। ড্রাই সেলে জিংক ও ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড থাকে। লেড-স্টোরেজ ব্যাটারিতে লেড ও লেড ডাই-অক্সাইড থাকে। রাসায়নিক ধর্ম বিবেচনায় এসব উপাদান বিষাক্ত এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী। পরিবেশে ছড়িয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়।
দূষণ ঘটার ধাপগুলো হলো:
- ব্যবহৃত ব্যাটারি মাঠে, রাস্তার পাশে বা জলাশয়ের কাছে ফেলে রাখা হয়।
- আবরণ নষ্ট হলে ভেতরের ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
- এসব পদার্থ মাটি ও পানিতে মিশে দূষণ ঘটায় এবং জীবজগতের ক্ষতির কারণ হয়।
যেমন, পুকুরপাড়ে ফেলে দেওয়া ব্যাটারির পদার্থ পানিতে মিশলে পুকুর দূষিত হতে পারে। তাই ব্যবহৃত ব্যাটারি আলাদা সংগ্রহ করে উপযুক্ত সংগ্রহ বা পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) কেন্দ্রে দেওয়া উচিত।
মনে রাখো: ব্যাটারি বহনযোগ্য বিদ্যুৎ দেয়, কিন্তু এর বর্জ্য মাটি ও পানিতে ছড়ালে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।