পড়ার নোট
এই দলগত কাজে বাড়িতে ও বিদ্যালয়ে সহজে পাওয়া যায় এমন পদার্থ দিয়ে দেখা হয়, কোন মিশ্রণে তাপমাত্রা বাড়ে আর কোনটিতে কমে। লক্ষ্য হলো প্রতিটি ক্ষেত্রকে তাপ উৎপাদী বা তাপহারী হিসেবে শনাক্ত করা।
উপকরণ
একই মাপের কয়েকটি বিকার বা কাচের গ্লাস, থার্মোমিটার, চামচ বা কাচদণ্ড, পানি, খাবার লবণ, অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড, ভিনেগার, লেবুর রস, খাবার সোডা () ও চুন।
কার্যপদ্ধতি
- প্রতিটি পাত্রে সমান পরিমাণ পানি বা তরল নাও এবং শুরুর তাপমাত্রা লেখো।
- পাত্র ১: পানিতে খাবার লবণ দ্রবীভূত করো।
- পাত্র ২: পানিতে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড দ্রবীভূত করো।
- পাত্র ৩: ভিনেগারে খাবার সোডা মেশাও।
- পাত্র ৪: লেবুর রসে খাবার সোডা মেশাও।
- পাত্র ৫: পানিতে চুন যোগ করো।
- প্রতিবার নেড়ে দ্রুত শেষের তাপমাত্রা লেখো এবং যা দেখলে (বুদবুদ, গরম ভাব) তাও লেখো।
ভিনেগারে থাকে অ্যাসিটিক এসিড, যা খাবার সোডার সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের বুদবুদ তৈরি করে: । লেবুর রসের এসিডও সোডার সাথে একইভাবে বুদবুদ তোলে।
উদাহরণ: একটি দলের পাঠ (শুরুতে সব পাত্র 30 °C):
| পাত্র | মিশ্রণ | শেষের তাপমাত্রা | পরিবর্তন | সিদ্ধান্ত |
|---|---|---|---|---|
| ১ | পানি + লবণ | 29.5 °C | −0.5 °C | সামান্য তাপহারী |
| ২ | পানি + | 25 °C | −5 °C | তাপহারী |
| ৩ | ভিনেগার + সোডা | 27 °C | −3 °C | তাপহারী |
| ৪ | লেবুর রস + সোডা | 28 °C | −2 °C | তাপহারী |
| ৫ | পানি + চুন | 40 °C | +10 °C | তাপ উৎপাদী |
পরিবর্তন = শেষের তাপমাত্রা − শুরুর তাপমাত্রা; যেমন পাত্র ৫-এ °C।
ভালো ফলাফলের জন্য
সব পাত্রে সমান পরিমাণ তরল ও প্রায় সমান পরিমাণ পদার্থ নাও, যাতে তুলনা ন্যায্য হয়। খাবার লবণে পরিবর্তন খুব ছোট, তাই থার্মোমিটার সাবধানে পড়তে হয়।
সতর্কতা: চুন খালি হাতে ধরবে না, মিশ্রণ গরম হয়ে ছিটকাতে পারে; কোনো মিশ্রণ মুখে দেবে না।
সাধারণ ভুল হলো বুদবুদ দেখলেই বিক্রিয়াটি তাপ উৎপাদী ধরে নেওয়া। বুদবুদ গ্যাস তৈরির চিহ্ন; তাপ বাড়ল না কমল, তা থার্মোমিটারই বলবে।
মনে রাখো: দলগত কাজে চুন-পানিতে তাপমাত্রা বাড়ে (তাপ উৎপাদী), আর অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড দ্রবীভূত করলে এবং ভিনেগার বা লেবুর রসে সোডা মেশালে কমে (তাপহারী); শুরু ও শেষের তাপমাত্রার পার্থক্যই সিদ্ধান্তের ভিত্তি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।