পড়ার নোট
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কীভাবে কাজ করে, তা একটি প্রবাহচিত্রে ধাপে ধাপে সাজালে সহজে বোঝা যায়। প্রতিটি ধাপে শক্তি এক রূপ থেকে অন্য রূপে বদলায়।
প্রবাহচিত্র
নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর (ফিশন) → তাপ → বাষ্প তৈরির প্রকোষ্ঠ (পানি থেকে বাষ্প) → টারবাইন (ঘূর্ণন) → জেনারেটর → বিদ্যুৎ লাইন
| অংশ | কী ঘটে | শক্তির রূপ |
|---|---|---|
| রিঅ্যাক্টর | নিয়ন্ত্রিত ফিশন চেইন বিক্রিয়া | নিউক্লীয় শক্তি → তাপ |
| বাষ্প তৈরির প্রকোষ্ঠ | তাপে পানি ফুটে উচ্চচাপের বাষ্প | তাপ → বাষ্পের গতিশক্তি |
| টারবাইন | বাষ্পের ধাক্কায় পাখা ঘোরে | গতিশক্তি → যান্ত্রিক শক্তি |
| জেনারেটর | ঘূর্ণন থেকে বিদ্যুৎ | যান্ত্রিক শক্তি → বিদ্যুৎ শক্তি |
রিঅ্যাক্টরের ভেতরে
রিঅ্যাক্টরে ধীরগতির নিউট্রন ইউরেনিয়াম-235 নিউক্লিয়াসে আঘাত করে:
উৎপন্ন ছোট নিউক্লিয়াসগুলো প্রচণ্ড বেগে ছুটে একে অপরকে ও রিঅ্যাক্টরের দেয়ালে আঘাত করে, ফলে বিপুল তাপ তৈরি হয়। সমীকরণে উপরের সংখ্যা ভরসংখ্যা, নিচের সংখ্যা পারমাণবিক সংখ্যা; দুই পাশে দুটিই সমান থাকে।
চেইন বিক্রিয়ার চিত্র
একটি ফিশনে 3টি নিউট্রন বের হয়। প্রতিটি আবার একটি করে নিউক্লিয়াস ভাঙলে নিউট্রনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে। এটিই চেইন বিক্রিয়া; একবার শুরু হলে চালু রাখতে বাইরের শক্তি লাগে না। রিঅ্যাক্টর এই নিউট্রনের সংখ্যা ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে, যাতে তাপ নিয়ন্ত্রিত হারে আসে।
উদাহরণ: প্রতিটি ফিশনে 3টি নিউট্রন বের হয় এবং প্রতিটি নিউট্রন একটি নতুন ফিশন ঘটায় ধরে নাও। চতুর্থ ধাপে কতটি নিউট্রন উৎপন্ন হবে? প্রথম ধাপ: 3, দ্বিতীয়: , তৃতীয়: , চতুর্থ: । অর্থাৎ -তম ধাপে টি। এত দ্রুত বৃদ্ধি বলেই নিয়ন্ত্রণ এত জরুরি।
ভরসংখ্যা যাচাই: বাম পাশে ; ডান পাশে । পারমাণবিক সংখ্যা: ।
সাধারণ ভুল হলো চিত্রে রিঅ্যাক্টর থেকে সরাসরি তার টেনে বিদ্যুৎ দেখানো। রিঅ্যাক্টর শুধু তাপ দেয়; বিদ্যুৎ আসে টারবাইন ও জেনারেটর থেকে।
মনে রাখো: পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিত্রে শক্তির ধারা হলো নিউক্লীয় শক্তি → তাপ → বাষ্প → টারবাইনের যান্ত্রিক শক্তি → জেনারেটরের বিদ্যুৎ; পাবনার রূপপুরে বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এভাবেই কাজ করবে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।