দিনাজপুরের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জীববিজ্ঞান ক্লাসে শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের বাগান ও পাশের একটি পুকুর থেকে তিনটি জীব পর্যবেক্ষণ করল: জীব-P (এককোষী, পানিতে বাস করে, সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও ক্ষণপদ দ্বারা চলাফেরা করে), জীব-Q (বাগানের মাটিতে জন্মানো ছাতার মতো গঠনযুক্ত মৃতজীবী ছত্রাক যার দেহে ক্লোরোফিল নেই এবং কোষপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত), এবং জীব-R (পুকুরের মিষ্টি পানিতে বাস করা আঁইশযুক্ত অস্থিময় রুই মাছ, যার দ্বিপদ বৈজ্ঞানিক নাম লেখার সময় এক শিক্ষার্থী খাতায় 'Labeo Rohita' লিখল)।
- ক
আইসিজেডএন (ICZN)-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর দেখাও
ICZN-এর পূর্ণরূপ হলো International Code of Zoological Nomenclature।
- খ
শ্রেণিবিন্যাসে অগ্রাধিকার আইন (Law of Priority) বলতে কী বোঝায় — ব্যাখ্যা করো।
উত্তর দেখাও
দ্বিপদ নামকরণের নিয়ম অনুসারে কোনো একটি নির্দিষ্ট জীবের যদি একাধিক বিজ্ঞানী ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামকরণ করেন, তবে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী সর্বপ্রথম সঠিকভাবে প্রকাশিত ও বৈধ নামটি স্থায়ী বৈজ্ঞানিক নাম হিসেবে গৃহীত হবে। এটিই হলো নামকরণের অগ্রাধিকার আইন (Law of Priority), যা জীবের নামকরণে বিভ্রান্তি ও পুনরাবৃত্তি এড়াতে প্রবর্তন করা হয়েছে।
- গ
উদ্দীপকের জীব-P ও জীব-Q হুইটেকারের কোন কোন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত? কারণসহ শনাক্ত করো।
উত্তর দেখাও
উদ্দীপকের জীব-P হলো প্রোটিস্টা (Protista) রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং জীব-Q হলো ফানজাই (Fungi) রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। শনাক্তকরণের কারণসমূহ: ১. জীব-P (অ্যামিবা) এককোষী এবং কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও অঙ্গাণু বিদ্যমান, যা সুকেন্দ্রিক (Eukaryotic) এককোষী প্রোটিস্টা রাজ্যের বৈশিষ্ট্য। ২. জীব-Q (মাশরুম/ছত্রাক) বহুকোষী, সুকেন্দ্রিক, ক্লোরোফিলবিহীন এবং এর কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। এরা মৃতজীবী পুষ্টি গ্রহণ করে, যা ফানজাই রাজ্যের অনন্য শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য।
- ঘ
উদ্দীপকে শিক্ষার্থীর খাতায় জীব-R এর বৈজ্ঞানিক নাম লেখার পদ্ধতিটি কি আন্তর্জাতিক নিয়মসম্মত ছিল? দ্বিপদ নামকরণের সার্বজনীন নিয়মের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর দেখাও
শিক্ষার্থীর খাতায় জীব-R এর বৈজ্ঞানিক নাম লেখার পদ্ধতিটি আন্তর্জাতিক নিয়মসম্মত ছিল না। ভুলসমূহ ও সঠিক নিয়মের বিশ্লেষণ: ১. প্রজাতি পদের ত্রুটি: শিক্ষার্থী প্রজাতির প্রথম অক্ষর বড় হাতের দিয়ে 'Rohita' লিখেছে। দ্বিপদ নামকরণের নিয়ম অনুসারে প্রজাতির (species) নাম সর্বদাই ছোট হাতের (lowercase) অক্ষরে লিখতে হয়, অর্থাৎ এটি হবে 'rohita'। ২. দাগাঙ্কনের অনুপস্থিতি: হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতি উভয় পদের নিচে আলাদাভাবে দাগ (underline) টানতে হয়। শিক্ষার্থী কোনো পদেই নিচে দাগ দেয়নি। ৩. গণের নাম: গণ (Genus) 'Labeo' এর প্রথম অক্ষর বড় হাতের লিখে শিক্ষার্থী সঠিক করেছে। অতএব, আন্তর্জাতিক নিয়ম (ICZN) অনুসারে হাতে লেখার ক্ষেত্রে সঠিক বৈজ্ঞানিক নামটি হবে Labeo rohita এবং পদ দুটির নিচে পৃথক দাগ থাকবে। সুতরাং শিক্ষার্থীর লেখাটি অশুদ্ধ ছিল।