offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১ · টপিক ৮

দ্বিপদ নামকরণের গুরুত্ব

পড়ার নোট

একই জীবকে বিভিন্ন অঞ্চলে ও ভাষায় ভিন্ন নামে ডাকা হয়। ধানকে বাংলায় ধান আর ইংরেজিতে rice বলা হয়; আবার একই মাছ বা গাছ দেশের এক এলাকায় এক নামে, অন্য এলাকায় অন্য নামে পরিচিত হতে পারে। শুধু স্থানীয় নাম দিয়ে বিজ্ঞানীরা একে অপরকে নিশ্চিতভাবে বোঝাতে পারতেন না। দ্বিপদ নামকরণ এই সমস্যার সমাধান দেয়। এর গুরুত্ব:

  • সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা: নাম ল্যাটিন ভাষায় হওয়ায় সারা পৃথিবীতে একই নাম ব্যবহৃত হয়। Oryza sativa বললে পৃথিবীর যেকোনো দেশের বিজ্ঞানী বুঝবেন এটি ধান।
  • দ্ব্যর্থহীন শনাক্তকরণ: প্রতিটি বৈজ্ঞানিক নাম অনন্য, একই নাম দুটি জীবের হতে পারে না। তাই একটি নাম একটিমাত্র প্রজাতিকেই বোঝায়।
  • সম্পর্ক বোঝা: নামের প্রথম অংশ গণ নির্দেশ করে, তাই একই গণের জীবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নাম থেকেই বোঝা যায়, যেমন Panthera leo (সিংহ) ও Panthera tigris (বাঘ)।
  • শৃঙ্খলা: অগ্রাধিকার নিয়মে প্রথম বৈধ নামটিই গৃহীত হয়, ফলে একই জীবের একাধিক নাম নিয়ে বিভ্রান্তি থাকে না। নামের শেষে নামদাতার নাম ও সাল লিখে কে কখন নামটি দিয়েছেন তাও জানা যায়।
  • নতুন জীবের পরিচিতি: নতুন প্রজাতি আবিষ্কৃত হলে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে নাম দিয়ে তা সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের কাছে পরিচিত করা যায়, যেমন ঢাকার ব্যাঙ Zakerana dhaka।

উদাহরণ: বাংলাদেশের একজন গবেষক ইলিশ মাছ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র লিখলেন। বিদেশের একজন বিজ্ঞানী "ইলিশ" নামটি না জানলেও Tenualosa ilisha দেখে নিশ্চিত হবেন কোন মাছের কথা বলা হচ্ছে, এবং নিজের দেশে একই প্রজাতি নিয়ে কাজের সঙ্গে তুলনা করতে পারবেন। একইভাবে ম্যালেরিয়ার জীবাণু Plasmodium vivax এর নাম দেখে যেকোনো দেশের চিকিৎসক একই জীবাণুকে বুঝবেন।

সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে বৈজ্ঞানিক নাম থাকলে স্থানীয় নামের আর দরকার নেই। দৈনন্দিন জীবনে স্থানীয় নাম চলবেই; বৈজ্ঞানিক নাম দরকার বিজ্ঞানের আদান-প্রদানে নির্ভুলতার জন্য।

মনে রাখো: দ্বিপদ নামকরণ প্রতিটি জীবকে সারা পৃথিবীতে একটিমাত্র অনন্য নাম দেয়, ফলে ভাষা বা অঞ্চলভেদে বিভ্রান্তি দূর হয় এবং জীবের সম্পর্কও বোঝা যায়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. ঐতিহ্যবাহী শ্রেণিবিন্যাসে ছত্রাককে (Fungi) উদ্ভিদের সাথে রাখা হলেও হুইটেকারের আধুনিক পঞ্চরাজ্য শ্রেণিবিন্যাসে একে সম্পূর্ণ পৃথক রাজ্যে স্থান দেওয়া হয়েছে কেন? দুটি প্রধান কারণ ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    উদ্ভিদ কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকায় তারা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে এবং এদের কোষপ্রাচীর প্রধানত সেলুলোজ দিয়ে গঠিত। অন্যদিকে ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন হওয়ায় এরা স্বভোজী নয়, বরং শোষণ পদ্ধতিতে মৃতজীবী বা পরজীবী হিসেবে খাদ্য গ্রহণ করে এবং এদের কোষপ্রাচীর কাইটিন (chitin) দ্বারা নির্মিত। পুষ্টিগ্রহণ পদ্ধতি ও কোষপ্রাচীরের রাসায়নিক গঠনের এই মৌলিক পার্থক্যের কারণে ছত্রাককে প্ল্যান্টি রাজ্য থেকে আলাদা করে ফানজাই রাজ্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।

    1. পুষ্টি পদ্ধতির পার্থক্য: উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণকারী স্বভোজী (autotrophic), কিন্তু ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন পরভোজী যা শোষণ পদ্ধতিতে মৃতজীবী বা পরজীবী হিসেবে খাদ্য গ্রহণ করে।
    2. কোষপ্রাচীরের রাসায়নিক উপাদানের পার্থক্য: উদ্ভিদকোষের প্রাচীর প্রধানত সেলুলোজ দ্বারা গঠিত, পক্ষান্তরে ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন (chitin) দিয়ে নির্মিত।
  2. দ্বিপদ নামকরণ জীবের পরিচয় নির্ধারণে সহায়ক, কারণ এ পদ্ধতিতে—

    i. একই জীবের বিভিন্ন আঞ্চলিক নামজনিত বিভ্রান্তি দূর হয়

    ii. নামের প্রথম অংশ থেকে জীবটির গণ জানা যায়

    iii. নামের দ্বিতীয় অংশ থেকে জীবটির গোত্র জানা যায়

    নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও iii

    2. খ

      ii ও iii

    3. গ

      i ও ii

    4. ঘ

      i, ii ও iii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) i ও ii

    1. বৈজ্ঞানিক নামের আন্তর্জাতিক ব্যবহার একই জীবের আঞ্চলিক নামের ভিন্নতাজনিত বিভ্রান্তি দূর করে।
    2. দ্বিপদ নামের প্রথম অংশ গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশ প্রজাতিক পদ; দ্বিতীয় অংশ গোত্র নির্দেশ করে না। তাই i ও ii সঠিক।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো