offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১ · টপিক ৭

দ্বিপদ নামকরণের ধারণা

পড়ার নোট

একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নামের দুটি অংশ থাকে। প্রথম অংশ জানায় প্রজাতিটি কোন গণের অন্তর্ভুক্ত, আর দ্বিতীয় অংশ ঐ গণের মধ্যে প্রজাতিটিকে আলাদা করে চেনায়। যেমন আলুর বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum: Solanum গণের নাম, tuberosum প্রজাতির নাম। জীবের এভাবে বৈজ্ঞানিক নামকরণের পদ্ধতিকে দ্বিপদ নামকরণ বলে। এর উদ্দেশ্য প্রতিটি জীবকে কোনো দ্ব্যর্থতা ছাড়া শনাক্ত করা।

১৭৫৩ সালে সুইডিশ প্রকৃতিবিদ ক্যারোলাস লিনিয়াস তাঁর Species Plantarum বইয়ের মাধ্যমে জীবের নামকরণের আধুনিক পদ্ধতির ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন এবং শ্রেণি, বর্গ, গণ ও প্রজাতি ধাপগুলো ব্যবহার করেন। জীবের নামকরণের এই আনুষ্ঠানিক পদ্ধতি প্রবর্তন জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি অনন্য পদক্ষেপ।

উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম ICBN (International Code of Botanical Nomenclature) এবং প্রাণীর নাম ICZN (International Code of Zoological Nomenclature) এর ঘোষিত নীতি মেনে দিতে হয়। এই নিয়মগুলো ছাপা আকারে লিপিবদ্ধ আছে। নাম ল্যাটিন ভাষায় হওয়ায় সারা পৃথিবীতে তা গৃহীত হয়।

উদাহরণ: তরুণ প্রাণিবিজ্ঞানী সাজিদ আলী হাওলাদার শুধু ঢাকায় পাওয়া যায় এমন একটি ব্যাঙ আবিষ্কার করেন। এর বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয় Zakerana dhaka। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা কাজী জাকের হোসেনের প্রতি সম্মান জানাতে গণের নাম Zakerana, আর প্রজাতির নাম dhaka জানায় এটি কোথায় পাওয়া যায়। লক্ষ করো, নামটিও ল্যাটিন রূপে, দুই অংশে, গণ আগে এবং প্রজাতি ছোট হাতের অক্ষরে লেখা।

একই গণের দুটি প্রজাতির নামের প্রথম অংশ একই হয়, যেমন সিংহ Panthera leo ও বাঘ Panthera tigris। নামের প্রথম অংশ দেখেই বোঝা যায় এরা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।

সাধারণ ভুল হলো প্রজাতির নামকে একা পূর্ণ বৈজ্ঞানিক নাম ভাবা। tigris লিখলে চলবে না; গণসহ Panthera tigris লিখলেই তবে একটি প্রজাতি নির্দিষ্টভাবে বোঝায়।

মনে রাখো: দ্বিপদ নামকরণে প্রতিটি জীবের নাম গণ ও প্রজাতি এই দুই অংশে লেখা হয়; লিনিয়াস ১৭৫৩ সালে এর ভিত্তি স্থাপন করেন।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. আন্তর্জাতিক নিয়ম (ICBN ও ICZN) অনুসারে খাতায় হাতে লেখার সময় বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েলের দ্বিপদ বৈজ্ঞানিক নাম লেখার সঠিক পদ্ধতি কোনটি?

    1. ক

      Copsychus Saularis

    2. খ

      Copsychus saularis (উভয় পদ একত্রে টানা এক দাগে দাগাঙ্কিত)

    3. গ

      Copsychus saularis (গণ ও প্রজাতি পদ দুটি পৃথকভাবে নিচে দাগাঙ্কিত)

    4. ঘ

      copsychus saularis (উভয় পদই ছোট হাতের অক্ষরে লেখা)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) Copsychus saularis (গণ ও প্রজাতি পদ দুটি পৃথকভাবে নিচে দাগাঙ্কিত)

    1. দ্বিপদ নামকরণের সার্বজনীন নিয়ম অনুসারে প্রথম অংশটি গণ (Genus) যার প্রথম অক্ষরটি অবশ্যই বড় হাতের (capital letter) হবে এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি (Species) যার সব অক্ষর ছোট হাতের (small letter) হবে।
    2. মুদ্রণের সময় বৈজ্ঞানিক নাম ইটালিক হরফে লেখা হলেও হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতি পদ দুটিকে সর্বদা আলাদাভাবে নিচে দাগ (underlined separately) দিতে হয়, অর্থাৎ Copsychus saularis-এ পদ দুটির নিচে পৃথক দাগ থাকবে।
  2. দ্বিপদ নামকরণ জীবের পরিচয় নির্ধারণে সহায়ক, কারণ এ পদ্ধতিতে—

    i. একই জীবের বিভিন্ন আঞ্চলিক নামজনিত বিভ্রান্তি দূর হয়

    ii. নামের প্রথম অংশ থেকে জীবটির গণ জানা যায়

    iii. নামের দ্বিতীয় অংশ থেকে জীবটির গোত্র জানা যায়

    নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও iii

    2. খ

      ii ও iii

    3. গ

      i ও ii

    4. ঘ

      i, ii ও iii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) i ও ii

    1. বৈজ্ঞানিক নামের আন্তর্জাতিক ব্যবহার একই জীবের আঞ্চলিক নামের ভিন্নতাজনিত বিভ্রান্তি দূর করে।
    2. দ্বিপদ নামের প্রথম অংশ গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশ প্রজাতিক পদ; দ্বিতীয় অংশ গোত্র নির্দেশ করে না। তাই i ও ii সঠিক।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো