offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১ · টপিক ৬

দ্বিপদ নামকরণ

পড়ার নোট

জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশে লেখার পদ্ধতিকে দ্বিপদ নামকরণ বলে। প্রথম অংশটি গণ এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি নির্দেশ করে। নামকরণ আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত কিছু নিয়ম মেনে করা হয়:

  1. বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন ভাষায় হবে।
  2. নামের দুটি অংশ থাকবে; আগে গণের নাম, পরে প্রজাতির নাম। যেমন রুই মাছ Labeo rohita; এখানে Labeo গণ, rohita প্রজাতি।
  3. বৈজ্ঞানিক নাম অনন্য হবে; একই নাম দুটি ভিন্ন জীবের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
  4. প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর বড়ো হাতের, বাকি সব ছোট হাতের; দ্বিতীয় অংশ পুরোটাই ছোট হাতের অক্ষরে। যেমন পেঁয়াজ Allium cepa, সিংহ Panthera leo।
  5. ছাপার সময় বৈজ্ঞানিক নাম ইটালিক অক্ষরে লেখা হয়, যেমন ধান Oryza sativa, কাতলা মাছ Catla catla।
  6. হাতে লেখার সময় নামের দুটি অংশের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিতে হয়।
  7. একাধিক বিজ্ঞানী একই জীবের নাম দিলে অগ্রাধিকার নিয়ম অনুযায়ী প্রথম বৈধ নামটিই গৃহীত হয়।
  8. নামদাতা বিজ্ঞানীর নাম সংক্ষেপে ও নামকরণের সাল নামের শেষে লেখা যায়, যেমন Oryza sativa L., 1753; এখানে L লিনিয়াসের সংক্ষিপ্ত রূপ।

কয়েকটি পরিচিত জীবের বৈজ্ঞানিক নাম: আম Mangifera indica, কাঁঠাল Artocarpus heterophyllus, শাপলা Nymphaea nouchali, পাট Corchorus capsularis, ইলিশ Tenualosa ilisha, দোয়েল Copsychus saularis, বাঘ Panthera tigris, কলেরার জীবাণু Vibrio cholerae।

উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থী খাতায় লিখল "oryza Sativa"। ভুল দুটি: গণের নামের প্রথম অক্ষর বড়ো হাতের হতে হবে এবং প্রজাতির নাম পুরোটা ছোট হাতের। আবার হাতে লেখা বলে দুটি অংশের নিচে আলাদা দাগ দিতে হবে। সঠিক রূপ: Oryza sativa (দুই শব্দের নিচে আলাদা দাগসহ)।

সাধারণ ভুল হলো দুই শব্দের নিচে একটানা একটি দাগ দেওয়া, কিংবা প্রজাতির নাম বড়ো হাতের অক্ষরে শুরু করা।

মনে রাখো: বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিনে, দুই অংশে (আগে গণ, পরে প্রজাতি); গণের প্রথম অক্ষর বড়ো হাতের, ছাপায় ইটালিক এবং হাতে লিখলে দুই অংশের নিচে আলাদা দাগ।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • কোন দুটি জীব বেশি নিকটাত্মীয়?চালিয়ে দেখো

    জীববিজ্ঞানে লিনিয়াসের শ্রেণিবিন্যাসের মোট ৭টি প্রধান ধাপ রয়েছে: রাজ্য, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ ও প্রজাতি। রুই মাছ (Labeo rohita) ও ইলিশ মাছ (Tenualosa ilisha) শ্রেণিবিন্যাসের প্রথম ৩টি ধাপ (রাজ্য, পর্ব ও শ্রেণি) ভাগাভাগি করে। কিন্তু সুন্দরবনের বিশাল হিংস্র রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও আমাদের ঘরের ক্ষুদ্র নিরীহ পোষা বিড়াল (Felis catus)-এর বাহ্যিক চেহারা ও স্বভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। শ্রেণিবিন্যাসের ৭টি ধাপের মধ্যে বাঘ ও বিড়াল কয়টি ধাপ ভাগাভাগি করে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. আন্তর্জাতিক নিয়ম (ICBN ও ICZN) অনুসারে খাতায় হাতে লেখার সময় বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েলের দ্বিপদ বৈজ্ঞানিক নাম লেখার সঠিক পদ্ধতি কোনটি?

    1. ক

      Copsychus Saularis

    2. খ

      Copsychus saularis (উভয় পদ একত্রে টানা এক দাগে দাগাঙ্কিত)

    3. গ

      Copsychus saularis (গণ ও প্রজাতি পদ দুটি পৃথকভাবে নিচে দাগাঙ্কিত)

    4. ঘ

      copsychus saularis (উভয় পদই ছোট হাতের অক্ষরে লেখা)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) Copsychus saularis (গণ ও প্রজাতি পদ দুটি পৃথকভাবে নিচে দাগাঙ্কিত)

    1. দ্বিপদ নামকরণের সার্বজনীন নিয়ম অনুসারে প্রথম অংশটি গণ (Genus) যার প্রথম অক্ষরটি অবশ্যই বড় হাতের (capital letter) হবে এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি (Species) যার সব অক্ষর ছোট হাতের (small letter) হবে।
    2. মুদ্রণের সময় বৈজ্ঞানিক নাম ইটালিক হরফে লেখা হলেও হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতি পদ দুটিকে সর্বদা আলাদাভাবে নিচে দাগ (underlined separately) দিতে হয়, অর্থাৎ Copsychus saularis-এ পদ দুটির নিচে পৃথক দাগ থাকবে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো