পড়ার নোট
জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশে লেখার পদ্ধতিকে দ্বিপদ নামকরণ বলে। প্রথম অংশটি গণ এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি নির্দেশ করে। নামকরণ আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত কিছু নিয়ম মেনে করা হয়:
- বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিন ভাষায় হবে।
- নামের দুটি অংশ থাকবে; আগে গণের নাম, পরে প্রজাতির নাম। যেমন রুই মাছ Labeo rohita; এখানে Labeo গণ, rohita প্রজাতি।
- বৈজ্ঞানিক নাম অনন্য হবে; একই নাম দুটি ভিন্ন জীবের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।
- প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর বড়ো হাতের, বাকি সব ছোট হাতের; দ্বিতীয় অংশ পুরোটাই ছোট হাতের অক্ষরে। যেমন পেঁয়াজ Allium cepa, সিংহ Panthera leo।
- ছাপার সময় বৈজ্ঞানিক নাম ইটালিক অক্ষরে লেখা হয়, যেমন ধান Oryza sativa, কাতলা মাছ Catla catla।
- হাতে লেখার সময় নামের দুটি অংশের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিতে হয়।
- একাধিক বিজ্ঞানী একই জীবের নাম দিলে অগ্রাধিকার নিয়ম অনুযায়ী প্রথম বৈধ নামটিই গৃহীত হয়।
- নামদাতা বিজ্ঞানীর নাম সংক্ষেপে ও নামকরণের সাল নামের শেষে লেখা যায়, যেমন Oryza sativa L., 1753; এখানে L লিনিয়াসের সংক্ষিপ্ত রূপ।
কয়েকটি পরিচিত জীবের বৈজ্ঞানিক নাম: আম Mangifera indica, কাঁঠাল Artocarpus heterophyllus, শাপলা Nymphaea nouchali, পাট Corchorus capsularis, ইলিশ Tenualosa ilisha, দোয়েল Copsychus saularis, বাঘ Panthera tigris, কলেরার জীবাণু Vibrio cholerae।
উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থী খাতায় লিখল "oryza Sativa"। ভুল দুটি: গণের নামের প্রথম অক্ষর বড়ো হাতের হতে হবে এবং প্রজাতির নাম পুরোটা ছোট হাতের। আবার হাতে লেখা বলে দুটি অংশের নিচে আলাদা দাগ দিতে হবে। সঠিক রূপ: Oryza sativa (দুই শব্দের নিচে আলাদা দাগসহ)।
সাধারণ ভুল হলো দুই শব্দের নিচে একটানা একটি দাগ দেওয়া, কিংবা প্রজাতির নাম বড়ো হাতের অক্ষরে শুরু করা।
মনে রাখো: বৈজ্ঞানিক নাম ল্যাটিনে, দুই অংশে (আগে গণ, পরে প্রজাতি); গণের প্রথম অক্ষর বড়ো হাতের, ছাপায় ইটালিক এবং হাতে লিখলে দুই অংশের নিচে আলাদা দাগ।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।