কোন দুটি জীব বেশি নিকটাত্মীয়?
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
জীববিজ্ঞানে লিনিয়াসের শ্রেণিবিন্যাসের মোট ৭টি প্রধান ধাপ রয়েছে: রাজ্য, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ ও প্রজাতি। রুই মাছ (Labeo rohita) ও ইলিশ মাছ (Tenualosa ilisha) শ্রেণিবিন্যাসের প্রথম ৩টি ধাপ (রাজ্য, পর্ব ও শ্রেণি) ভাগাভাগি করে। কিন্তু সুন্দরবনের বিশাল হিংস্র রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) ও আমাদের ঘরের ক্ষুদ্র নিরীহ পোষা বিড়াল (Felis catus)-এর বাহ্যিক চেহারা ও স্বভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। শ্রেণিবিন্যাসের ৭টি ধাপের মধ্যে বাঘ ও বিড়াল কয়টি ধাপ ভাগাভাগি করে?
শ্রেণিবিন্যাসের ৭টি প্রধান ধাপের মধ্যে বাঘ ও বিড়াল কয়টি ধাপ ভাগাভাগি করে?
- ২টি ধাপ — বাসস্থান ও আকারের বিশাল পার্থক্যের কারণে কেবল রাজ্য ও পর্ব এক
- ৩টি ধাপ — রুই ও ইলিশের মতোই তারা কেবল শ্রেণি (স্তন্যপায়ী) পর্যন্ত মিল রাখে
- ৫টি ধাপ — উভয়ই ফেলিডি (Felidae) গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, তাই রাজ্য থেকে গোত্র পর্যন্ত ৫টি ধাপ অভিন্ন
যা বদলাতে পারবে
- প্রথম জীব (A): রুই মাছ, ইলিশ মাছ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, বিড়াল, মানুষ, দোয়েল, কুনো ব্যাঙ, আম গাছ, কাঁঠাল গাছ, ধান গাছ, শাপলা, মাশরুম
- দ্বিতীয় জীব (B): রুই মাছ, ইলিশ মাছ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, বিড়াল, মানুষ, দোয়েল, কুনো ব্যাঙ, আম গাছ, কাঁঠাল গাছ, ধান গাছ, শাপলা, মাশরুম
যা মেপে দেখাবে
- অভিন্ন শ্রেণিবিন্যাস ধাপ সংখ্যা
- সর্বশেষ অভিন্ন ধাপ
- প্রথম জীবের দ্বিপদ নাম
- দ্বিতীয় জীবের দ্বিপদ নাম
চালানোর সময় খেয়াল করো
- প্রথম জীব হিসেবে 'বাঘ' এবং দ্বিতীয় জীব হিসেবে 'বিড়াল' নির্বাচন করে দেখো তারা গোত্র (Family) পর্যন্ত কয়টি ধাপ ভাগাভাগি করে। রুই ও ইলিশের চেয়ে কি এই সংখ্যা বেশি?
নিজে করে দেখো
- এমন দুটি জীব খোঁজো যারা গোত্র (Family) পর্যন্ত মিলে যায় কিন্তু গণ (Genus) আলাদা।
ইঙ্গিত
বাঘ আর বিড়াল কি একই গোত্রের?
- এমন দুটি জীব বেছে নাও যারা একেবারে ভিন্ন রাজ্যের (Kingdom)।
ইঙ্গিত
একটি উদ্ভিদ আর একটি প্রাণী নিয়ে দেখো।
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
শ্রেণিবিন্যাসের স্তরক্রম ও দ্বিপদ নামকরণ: অভিন্ন ধাপ যত বেশি, সম্পর্ক তত ঘনিষ্ঠ
ক্যারোলাস লিনিয়াস প্রবর্তিত শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতিতে জীবজগৎকে ৭টি প্রধান ধাপে (রাজ্য, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ ও প্রজাতি) বিন্যস্ত করা হয়। দুটি জীব শ্রেণিবিন্যাসে উপর থেকে যত নিচের ধাপ পর্যন্ত মিল রাখে, বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের জিনগত ও গাঠনিক সম্পর্ক তত বেশি ঘনিষ্ঠ হয়। রুই মাছ (Labeo rohita) এবং ইলিশ মাছ (Tenualosa ilisha) উভয়ই পানিতে সাঁতার কাটা মাছ হলেও তারা কেবল শ্রেণি (Actinopterygii) পর্যন্ত ৩টি ধাপ ভাগাভাগি করে; রুই সাইপ্রিনিফর্মিস (Cypriniformes) বর্গের আর ইলিশ ক্লুপেইফর্মিস (Clupeiformes) বর্গের। অপরদিকে, সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) এবং ঘরের বিড়াল (Felis catus) দৈহিক আকার ও জীবনযাত্রায় সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও উভয়েই স্তন্যপায়ী শ্রেণির ও কার্নিভোরা (Carnivora) বর্গের মাংসাশী প্রাণী এবং আরও গভীরে তারা একই গোত্র—ফেলিডি (Felidae)-র সদস্য! অর্থাৎ তারা ৭টির মধ্যে ৫টি ধাপ (রাজ্য, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ ও গোত্র) ভাগাভাগি করে; শুধুমাত্র গণের ধাপে এসে বাঘ প্যানথেরা (Panthera) ও বিড়াল ফেলিস (Felis) গণে বিভক্ত হয়। সুতরাং, বাহ্যিক অমিল থাকা সত্ত্বেও বাঘ ও বিড়াল পরস্পরের যতটা নিকটাত্মীয়, জলচর রুই ও ইলিশ পরস্পরের ততটা নিকটাত্মীয় নয়। এছাড়া দ্বিপদ নামকরণের সার্বজনীন নিয়ম অনুসারে প্রথম অংশটি গণ ও দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি নির্দেশ করে, যা আন্তর্জাতিকভাবে একটি নির্দিষ্ট জীবকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
ভুল ধারণার বিশ্লেষণ: ১. কেবল বাসস্থান বা শারীরিক আকার দেখে আত্মীয়তা নির্ধারণ করা যায় না। যেমন তিমি দেখতে মাছের মতো হলেও তারা মূলত মানুষের মতো স্তন্যপায়ী। একইভাবে বাঘ ও বিড়াল আকারে অসদৃশ হলেও তাদের খুলির গঠন, সংকোচনশীল ধারালো নখ এবং শিকার ধরার দাঁতের বৈশিষ্ট্যের কারণে তারা একই গোত্রভুক্ত (ফেলিডি)। তাই তাদের মিল কেবল ২টি ধাপে সীমাবদ্ধ নয়, পুরো ৫টি ধাপ জুড়ে বিস্তৃত। ২. রুই ও ইলিশ উভয়ই মাছ হলেও মাছদের শ্রেণিটি অত্যন্ত প্রাচীন ও বৈচিত্র্যময়। তারা শ্রেণি পর্যন্ত এক হলেও বর্গে আলাদা। ফলে বাঘ ও বিড়াল (যাদের গোত্র পর্যন্ত মিল) রুই ও ইলিশের (যাদের কেবল শ্রেণি পর্যন্ত মিল) চেয়ে শ্রেণিবিন্যাসে অনেক বেশি কাছাকাছি।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- বাসস্থান, শারীরিক আকার ও জীবনযাত্রার ভিন্নতার কারণে আপাতদৃষ্টিতে অমিল প্রাণীদের শ্রেণিবিন্যাসে দূরত্ব বেশি হয়
- একই পরিবেশের বাহ্যিক মিলযুক্ত জীব (যেমন দুই ধরনের মাছ) ভিন্ন পরিবেশের জীবের চেয়ে সবসময় বেশি নিকটাত্মীয়
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- বিলুপ্তপ্রায় সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Panthera tigris) সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণী পাচার রোধে জিনগত ও শ্রেণিবিন্যাসগত সঠিক শনাক্তকরণ অপরিহার্য, যাতে ফরেনসিক ল্যাবে বাঘের চামড়া বা হাড়ের নমুনা নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
- বাংলাদেশের নদী ও বঙ্গোপসাগরের জাতীয় মাছ ইলিশ (Tenualosa ilisha) এবং রুই (Labeo rohita) পোনার সঠিক দ্বিপদ নামকরণ ও শ্রেণিবিন্যাসগত শনাক্তকরণ মৎস্য বিজ্ঞানীদের প্রজনন মৌসুম নির্ধারণ, নদী অভয়াশ্রম পরিচালনা এবং জাটকা নিধন রোধ কার্যক্রম সঠিকভাবে তদারকি করতে সাহায্য করে।