পড়ার নোট
লিনিয়াসের সময় থেকে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত সব জীবকে উদ্ভিদ ও প্রাণী, এই দুটি রাজ্যে ভাগ করা হতো। বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে কোষের DNA ও RNA এর প্রকারভেদ, কোষের বৈশিষ্ট্য ও সংখ্যা এবং খাদ্য গ্রহণের ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে আর. এইচ. হুইটেকার 1969 সালে জীবজগৎকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করার প্রস্তাব দেন। 1974 সালে মারগুলিস একে আরও বিস্তৃত করে সমগ্র জীবজগৎকে দুটি সুপার কিংডমে ভাগ করেন এবং পাঁচটি রাজ্যকে এর অধীনে রাখেন।
সুপার কিংডম ১: প্রোক্যারিওটা — সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিহীন, আদি, আণুবীক্ষণিক এককোষী জীব।
- মনেরা: অধিকাংশ এককোষী, সূত্রাকার বা কলোনিয়াল। ক্রোমাটিন বস্তু থাকলেও নিউক্লিয়ার পর্দা ও নিউক্লিওলাস নেই; প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া নেই, কিন্তু রাইবোজোম আছে। দ্বি-বিভাজনে কোষ বিভাজিত হয়। উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ শৈবাল।
সুপার কিংডম ২: ইউক্যারিওটা — সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত, এককোষী বা বহুকোষী জীব।
- প্রোটিস্টা: এককোষী বা বহুকোষী; সব ধরনের কোষীয় অঙ্গাণু আছে; ভ্রূণ তৈরি হয় না। উদাহরণ: অ্যামিবা, প্যারামেসিয়াম, ডায়াটম।
- ফানজাই: অধিকাংশ স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী; কোষপ্রাচীর কাইটিনের তৈরি; ক্লোরোপ্লাস্ট নেই, শোষণের মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণ করে। উদাহরণ: ইস্ট, Penicillium, মাশরুম।
- প্লান্টি: প্রধানত সালোকসংশ্লেষণকারী; উন্নত টিস্যুতন্ত্র; ভ্রূণ তৈরি হয়। উদাহরণ: সবুজ উদ্ভিদ, যেমন কাঁঠালগাছ।
- অ্যানিমেলিয়া: বহুকোষী; কোষে জড় কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষগহ্বর নেই; পরভোজী, খাদ্য গ্রহণ করে পরিপাক করে। উদাহরণ: প্রোটোজোয়া ছাড়া সব অমেরুদণ্ডী ও মেরুদণ্ডী প্রাণী, যেমন রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
পরে 2004 সালে টমাস ক্যাভালিয়ার-স্মিথ প্রোটিস্টাকে দুই ভাগে ভাগ করে ছয় রাজ্যের ধারণা দেন, যা উচ্চতর শ্রেণিতে পড়বে।
উদাহরণ: একটি মাশরুম কোন রাজ্যে? এর কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস আছে, তাই ইউক্যারিওটা। ক্লোরোপ্লাস্ট নেই এবং কাইটিনের কোষপ্রাচীর আছে, তাই এটি উদ্ভিদ নয়, ফানজাই রাজ্যের।
সাধারণ ভুল হলো ছত্রাককে উদ্ভিদ ভাবা, কারণ এরা এক জায়গায় জন্মায়। ক্লোরোপ্লাস্ট না থাকায় এরা নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না।
মনে রাখো: পাঁচ রাজ্য: মনেরা (প্রোক্যারিওটা), এবং প্রোটিস্টা, ফানজাই, প্লান্টি ও অ্যানিমেলিয়া (ইউক্যারিওটা)।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।