পড়ার নোট
জীবের শ্রেণিবিন্যাসে কয়েকটি নির্দিষ্ট ধাপ বা একক ব্যবহার করা হয়, যাদের ট্যাক্সা বলে। সবচেয়ে বড়ো ধাপ রাজ্য (Kingdom) এবং সবচেয়ে ছোট ধাপ প্রজাতি (Species)। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী প্রধান ধাপ সাতটি:
রাজ্য → পর্ব বা বিভাগ (Phylum/Division) → শ্রেণি (Class) → বর্গ (Order) → গোত্র (Family) → গণ (Genus) → প্রজাতি (Species)
প্রতিটি ওপরের ধাপ একটি সেট, আর নিচের ধাপগুলো তার উপসেট। রাজ্যের উপসেট পর্ব, পর্বের উপসেট শ্রেণি, এভাবে চলতে থাকে। এ ধরনের বিন্যাসকে নেস্টেড হায়ারার্কি বলে। ধাপ যত উপরে, বৈশিষ্ট্যের সংখ্যা তত কম কিন্তু জীবের সংখ্যা তত বেশি; ধাপ যত নিচে, বৈশিষ্ট্য তত বেশি কিন্তু জীব তত কম। প্রতিটি নিচের ধাপ ওপরের ধাপের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে নতুন বৈশিষ্ট্য যোগ করে। পুনরাবৃত্তি এড়াতে আগের ধাপের সাধারণ বৈশিষ্ট্য পরের ধাপে আর আলাদা করে লেখা হয় না।
উদাহরণ: মানুষের শ্রেণিবিন্যাস
- রাজ্য: Animalia (সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত কোষ, বহুকোষী, পরভোজী, জটিল টিস্যুতন্ত্র)
- পর্ব: Chordata (জীবনের কোনো এক পর্যায়ে নটোকর্ড থাকে)
- শ্রেণি: Mammalia (সন্তানকে দুধ খাওয়ায়, দেহ লোমে ঢাকা)
- বর্গ: Primates (আঁকড়ে ধরার উপযোগী পাঁচ আঙুলের হাত; ঘ্রাণের চেয়ে দৃষ্টিশক্তি উন্নত)
- গোত্র: Hominidae (শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ওরাংওটাংয়ের সঙ্গে মিল)
- গণ: Homo (দেহের তুলনায় মস্তিষ্ক বড়ো, দুই পায়ে খাড়া হয়ে হাঁটে)
- প্রজাতি: Homo sapiens (প্রশস্ত ও উঁচু কপাল, অন্য প্রজাতির তুলনায় পাতলা করোটি, বেশি বুদ্ধিমান)
লক্ষ করো, রাজ্য Animalia তে মানুষ, বাঘ, মাছ, কেঁচো সবই আছে; কিন্তু প্রজাতি Homo sapiens এ শুধু মানুষ। জীববিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে কোনো প্রজাতিকে কেন একটি নির্দিষ্ট ধাপে রাখা হলো, সেই কারণগুলো জানা দরকার।
সাধারণ ভুল হলো ধাপগুলোর ক্রম গুলিয়ে ফেলা, যেমন গোত্রকে বর্গের ওপরে রাখা। ক্রমটি মনে রাখতে প্রতিটি ধাপকে আগের ধাপের ছোট একটি অংশ হিসেবে ভাবো।
মনে রাখো: শ্রেণিবিন্যাসের সাতটি ধাপ রাজ্য থেকে প্রজাতি পর্যন্ত; ওপরের ধাপে জীব বেশি কিন্তু সাধারণ বৈশিষ্ট্য কম, নিচের ধাপে জীব কম কিন্তু বৈশিষ্ট্য বেশি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।